খালেদ হোসাইনের কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তবুও মনের ভুলে
জীবন ফুরিয়ে গেলে চাই না কিছুই
দীর্ঘশ্বাস কিংবা অশ্রু, অঞ্জলিতে জুঁই
অতিক্রান্ত জীবনের চূর্ণ কোনো স্মৃতি
বা মেঘের নাভিকুণ্ডে সূর্যের বিবৃতি।
বা দিগন্তে অনিঃশেষ বিগলিত সোনা—
পাহাড়-চূড়ায় অতিমৃদু যাদুটোনা
সম্মোহিত করেছিল, কেউ ছিল পাশে
হয়তো পায়ের দাগ আজও আছে ঘাসে
আকণ্ঠ পিপাসা ছিল, সোমরসবতী
বলেছে, করো তো পান, নেই কোনো ক্ষতি
বিচূর্ণিত এ ঘটনা স্বর্গের অধিক
এ অমৃত তোমাকেই অমরতা দিক।
না, আমি করিনি পান, চাইনি কিছুই
তবুও মনের ভুলে তোমাকেই ছুঁই?
আকাশ-প্রদীপ
প্রয়োজন ছিল না কোনো।
যথার্থ সময়ে কিছু ঘটে না আমার
যাবতীয় পিছুটান দূরে ছুড়ে ফেলে
তবু তুমি এলে।
চোখের সীমান্ত থেকে
আঙুলের সীমিত ডগায়
অমাবস্যার চেয়ে ঘন
কাজল মাখিয়ে তুমি
কপোলের বাঁ-পাশে দিয়ে দিলে টিপ।
অন্ধকার নয়, যেন
জ্বলে উঠল আকাশ-প্রদীপ।
লক্ষ্যহীন
এ ভ্রমণ
ফুলগুলো নানাবর্ণ ফুটে আছে ঝরে যাবে বলে
তবুও রোদের আভা গায়ে মাখে জীবন্ত উল্লাসে
এমনই আনন্দ ছিল একদিন সাদা মাইক্রোবাসে
যা তখন ছুটছিল মৃদু বেগে গাঢ় কৌতূহলে।
স্পর্শের আনন্দ ছিল করতলে উষ্ণ সহৃদয়
দৃষ্টি ছিল জানালার দুই পাশে যেন বিপ্রতীপ
যদিও সংলগ্ন তবু তারা যেন দূরবর্তী দ্বীপ
সংলাপ ছিল না কোনো— দ্বিপ্রহর তবুও বাঙ্ময়।
লক্ষ্যহীন এ ভ্রমণ যক্ষের বিরহে তড়পানো
পাওয়া ও না-পাওয়া শীর্ষবিন্দু পেয়েছিল এক
আমি যতটুকু জানি তুমি ঠিক ততটুকু জানো
মুক্ত হাত, তবু কেউ ঠুকেছিল যিশুর পেরেক?
পুষ্পের ঔজ্জ্বল্য ছিল বাঁকানো তোমার ঘাড়ে, গালে
কিছুটা কুঞ্চন ছিল শীতাতপ আমার কপালে।
এত শ্বেত-অন্ধকার
সাদা কুয়াশার মতো ছড়িয়ে পড়েছে
অন্ধকার
বাইরে ও ঘরে বটে— স্নায়ুতন্ত্রে, মাংসে ও মজ্জায়
অন্ধ সাদা আলখাল্লা, হাতে তার সাদা তলোয়ার
কাফনের মতো রঙ দ্রবীভূত সমস্ত সজ্জায়—
এত শ্বেত-অন্ধকার এর আগে কখনো নামেনি
বিস্তৃত ভূগোল জুড়ে— দীর্ঘশ্বাসে, স্তব্ধ হাহাকারে
ইহকাল পরকাল স্বার্থপরতার এক বেণি
গোখরো সাপের মতো স্নায়ুসূত্রে তীব্র ছোঁ মারে।
চলো,
কোথাও পালিয়ে যাই
তুমি এখন কী করছ?
—অপেক্ষা।
মধ্যরাত। দূর থেকে কি
ভেসে আসবে বাঁশির সুর?
দূর কিন্তু অনেক দূর!
আজব জীবন। ফুরিয়ে যায়
এক পলকে।
কিন্তু জীবন হিজিবিজি
অনেক পাহাড়, অনেক সাগর
পেরোতে হয়, বেরোতে হয়
শেকল ছিঁড়ে—
সিদ্ধাচার্য হতে হলেও
বিদ্ধ হবে নানান তীরে
বিষমাখা তীর বিষমাখা তীর
রক্তক্ষরণ জ্যান্তে মরণ
ভাল্লাগে না বন-বনানী
নদীর পানি বাজ-বিজুলি
চলো, কোথাও পালিয়ে যাই
নতুন দ্বীপে
একটা নতুন মশাল জ্বালি—
নতুন আলো
তোমাকে খুব বাসব ভালো
নতুন জীবন ছড়িয়ে দেব
দিগ-দিগন্তে—
এসো, আমরা মিলিত হই
সে অনন্তে!






