নাতনি মরিয়মকে নজরুল প্রথমে বিয়ে করেন ‘মৌখিকভাবে’

সংগৃহীত ছবি
সম্পর্কে ময়িয়ম খাতুন ছিলেন সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের নাতনি। বাড়িতে যাতায়াতের কারণে গড়ে উঠেছিল সখ্য। তারপর এই তরুণীকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছিলেন তিনি।
মরিয়মকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে নজরুলের কাছ থেকে এমন স্বীকারোক্তি মিলেছে বলে আদালতে জানালেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
দুই দফায় চারদিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে আজ সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়। নতুন করে আর রিমান্ডে না চেয়ে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। আসামিকে জামিনে মুক্তি দিলে মামলা তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাকে মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে জেলে আটক রাখা প্রয়োজন।
নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদনও হয়েছিল। তবে শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ফলে গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই দফায় আট দিন রিমান্ড শেষে এখন কারাগারে গেলেন নজরুল।
গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর অশীতিপর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি।
তবে মরিয়মকে আসলে তিনি বিয়ে করেছিলেন কি না, তা নিয়ে তখনই বিতর্ক উঠেছিল। এমন অভিযোগও ওঠেছিল যে, ভিডিও প্রকাশের পর তিনি সাতক্ষীয়রা বিয়ের নিবন্ধন করিয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুন মরিয়মকে কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন বলে নজরুল জানিয়েছেন। বিয়ের নিবন্ধন হয় পরে।
মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে নজরুলের আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়টি আগেই প্রকাশ হয়েছিল। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে নজরুলে ভাগ্নে হন। আর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান চালাতেন নজরুলের গাড়ি।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে ঢাকার মিরপুরে তাদের বাড়িতে যাতায়াতের কথা বলেছেন নজরুল। আসামি ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাতযাপন করতেন এবং তার সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। এরপর তারা বিয়ে করেন।
গত জুলাইয়ে দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে থাকা শুরু করেন নজরুল।
গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষে কিছু চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে নজরুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বয়ান ছিল, যেগুলো মরিয়মের লেখা বলে পুলিশের ধারণা।
মরিয়মে বাবা মাসুম বিল্লাহ সেদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের সেই মামলায় নজরুলের পাশাপাশি তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি নিজের শ্যালক ওবায়দুরকেও আসামি করেন মাসুম।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়েতে ওবায়দুরই কলকাঠি নেড়েছিলেন। আর বিয়ের পর নজরুল ও মাকসুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতের মরিয়মের ওপর।
মামলার আগেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওবায়দুরকেও গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয় কারাগারে।
এদিকে গত জুলাইয়ে ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর ওবায়দুর একটি মামলা করেছিলেন নজরুলের বিরুদ্ধে। সেখানে তাকে হত্যার জন্য চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। ওবায়দুরের দাবি, মেয়েকে সংসদ সদস্য নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন মরিয়মের বাবা-মা। তখন তিনি বাধা দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর বিতর্ক ওঠায় নজরুলকে তার দল জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করে। তবে তার সংসদ সদস্য পদ এখনও টিকে আছে।




