ডেঙ্গুতে মারা গেলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ডা. আঁচল রায় (৩০)। ছবি: সংগৃহীত
অসুস্থ শরীর নিয়েও কয়েকদিন আগেও রোগী দেখেছিলেন ডা. আঁচল রায়। সুস্থ হয়ে ডেঙ্গু ইউনিটেই দায়িত্ব পালনের কথা ছিল তার। কিন্তু এর আগেই ডেঙ্গু জটিলতায় মারা গেলেন তিনি নিজেই।
রবিবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জানান, প্রায় পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। অসুস্থতার প্রথম দুই দিনও সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে সাধারণ কেবিনে রাখা হলেও পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, একপর্যায়ে তার শরীরে প্লাজমা লিকেজ বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। এর সঙ্গে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস, গুরুতর লিভারের জটিলতা এবং একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। শনিবার রাত ১০টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার পরও রবিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএসের কর্মকর্তা ও মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এফসিপিএস মিডটার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এমআরসিপি (ইউকে) পরীক্ষার প্রথম পর্বও পাস করেন।
আঁচলের পূর্বপুরুষের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তার বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তার স্বামী বিপ্লব দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (নিপোর্ট) কর্মরত।
রবিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ কালীমন্দিরের শ্মশানঘাটে আঁচলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
এদিকে, আঁচল রায়ের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এক শোকবার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আঁচল রায়ের অকাল মৃত্যুতে স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।’




