জামিনের দেড় মাস না যেতেই সাংবাদিক আজহার আলীর মৃত্যু

সাংবাদিক আজহার আলী সরকার। ছবি: সংগৃহীত
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় প্রায় ১০ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তির এক মাস ১০ দিনের মাথায় মারা গেলেন সাংবাদিক আজহার আলী সরকার। রবিবার দুপুরে রাজধানীর শমরিতা হাসপাতাল থেকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।
আজহার আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীন গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন তার স্বামী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।
আজহার আলী দুই ছেলে রেখে গেছেন। আসরের নামাজের পর বনশ্রীর আইডিয়াল মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত বছরের ১০ অক্টোবর ডিবি পুলিশ আজহার আলীকে গ্রেপ্তার করে। পরিবারের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যায় ডিবির একটি দল বনশ্রীর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিমকে গ্রেপ্তারের পর মামলাটি করা হয়েছিল।
এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন আজহার আলী। অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ১৭ আগস্ট আদালত তাকে জামিন দেন। তবে এর আগে তার অসুস্থতা নিয়ে একাধিকবার জামিন চাওয়া হলেও তা মঞ্জুর হয়নি। কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগও করেছিল তার পরিবার।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর মিন্টো রোডে প্রাডো গাড়িতে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘোরাঘুরির সময় এনায়েত করিম চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। পরে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ এবং জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই মামলায় আজহার আলীকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও গত ১৮ জুন শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে ডিবি। ওই মামলাটি করা হয়েছিল গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি সংগঠনের আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও আব্দুল্লাহীল কাইউমসহ ১৬ জনকে আটকের পর।
গত ২৯ জুন এ মামলায় আজহার আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়। ওই দিন তাকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয়েছিল।
আজহার আলী দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। দৈনিক ‘আমাদের সময়’ ও ‘আজকের কাগজ’-এ কাজ করেছেন তিনি।




