প্রতিমন্ত্রী আমিনুল
রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মর্মাহত হয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেছেন, রাতের আঁধারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই।
আজ রবিবার সন্ধ্যায় ভাঙচুরের শিকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ধ্বংসস্তূপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আমিনুল হক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকেই রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হবে। প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র মানুষ, শিশু ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোভাবেই ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকেই আমরা কেন্দ্রটির সংস্কারের কাজ শুরু করব। চলমান স্বাস্থ্যসেবা যাতে একদিনের জন্যও ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করব। যত দ্রুত সম্ভব সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘এত বড় ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। একটি সুন্দর সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে রাতের অন্ধকারে বুলডোজার এনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে গুঁড়িয়ে দেওয়া কখনোই কাম্য নয়। আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিই না।’
ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ওসিকে ক্লোজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক মহল বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। বাস্তবে কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে এবং কারা কী উদ্দেশ্যে এই দখলদারির ভূমিকা নিয়েছে, আমরা তা খতিয়ে দেখছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, কারও কোনো আইনি দাবি থাকলে আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা উত্থাপন করতে পারেন। রাতের আঁধারে বুলডোজার দিয়ে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলার অধিকার কারও নেই।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গায় রয়েছে উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, ‘এটি গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গা। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি।’
প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না এই এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হোক। শিশুদের টিকাদানসহ সব ধরনের সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে। সেবাগ্রহীতাদের কোনো ভোগান্তি হতে দেওয়া হবে না।’
সরকার বা দল এ ঘটনায় বিব্রত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, ‘শাহ আলী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজ করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও একজন সংসদ সদস্যের নামও এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি কারও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনগত দুই ধরনের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা আমাদের দলের কেউ নন এবং দলের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে তদন্তে কোনো দলীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা শতভাগ স্বচ্ছ তদন্ত চাই। পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



