অক্টোবরে আসছে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি

সংগৃহীত ছবি
আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে আগামী মাসের শুরুতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি দেশে আসতে পারে। ১ অক্টোবর অথবা ৮ অক্টোবর রাশিয়া থেকে পারমাণবিক এই জ্বালানি আনার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে জ্বালানি আসার চূড়ান্ত দিন-তারিখ ও কোন পথে তা আনা হবে, তা জানাতে রাজি হননি তারা।
পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটির গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু একটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সেটি বাতিল হয়। এখন ওই দেশের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প পথে আগামী মাসে জ্বালানি পাঠানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে কার্গো উড়োজাহাজে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়। যেসব দেশের আকাশসীমার ওপর দিয়ে চার্টার্ড উড়োজাহাজ চলাচল করে, সেসব দেশের অনুমতিও নিতে হয়। প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি দেশে আনা সম্ভব হয়নি।
গত বৃহস্পতিবারের কার্গোটি কোন পথে আসার কথা ছিল এবং কোন দেশ আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে এসব চার্টার্ড উড়োজাহাজ সাধারণত কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসে। রাশিয়া থেকে উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটি ভারতে পৌঁছে সেখানে যাত্রাবিরতি করে জ্বালানি সংগ্রহ করে। এরপর বাংলাদেশে আসে। এবারও একই রুট ব্যবহারের কথা ছিল বলে জানা গেছে।
বিকল্প হিসেবে চীন, মিয়ানমার অথবা অন্য কোনো রুট ব্যবহার করে জ্বালানি আনার চেষ্টা চলছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সাতটি ফ্লাইটে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জন্যও কিছু জ্বালানি থাকবে।
প্রথম ইউনিটের জ্বালানি এরই মধ্যে লোড করা হয়েছে। তবে প্রায় দেড় বছর পর এর এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানির একটি অংশ আগাম আনা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এরপর নির্দিষ্ট হারে দুই বছর অন্তর জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। তখন বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে জ্বালানি আমদানি করতে হবে।
নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে বিশেষ উড়োজাহাজে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। পরে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে তা রূপপুরে নেওয়া হয়।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সমান সক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও নানা জটিলতায় উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। চলতি মাসে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ত্রুটি মেরামতে রাশিয়া থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এসেছে। প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশও আনা হয়েছে। তবে ত্রুটি মেরামতের পর কবে নাগাদ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।




