স্বাস্থ্য টিপস
রিকেটস: বাড়ন্ত শিশুর হাড়ের রোগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শিশুর রক্তস্বল্পতা বা প্রোটিনের অভাব নিয়ে আমরা সচেতন হলেও ‘রিকেটস’ রোগ নিয়ে অজ্ঞতা রয়ে গেছে। শরীরে ভিটামিন ‘ডি’, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের তীব্র অভাব হলে হাড়ের গঠনগত যে ত্রুটি দেখা দেয়, তা-ই রিকেটস। এতে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায়। যার ফলে শিশুর হাড় বেঁকে যায় এবং শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
রিকেটসের কারণ ও লক্ষণ
সূর্যালোকের অভাব, ভিটামিন ‘ডি’সমৃদ্ধ খাবারের ঘাটতি, লিভার বা কিডনির রোগ এবং খিঁচুনির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে রিকেটস হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে খাবারে ক্যালসিয়ামের ঘাটতিই এ রোগের প্রধান কারণ। দুই বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যে যে লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়:
- মাথার খুলি নরম ও চারকোনা আকৃতি ধারণ করা
- দাঁত উঠতে দেরি হওয়া বা দাঁত ক্ষয়ে যাওয়া
- কবজি ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
- বুকের হাড়ের বিকৃতি
- পা ধনুকের মতো বা হাঁটুর কাছে বেঁকে যাওয়া
- উচ্চতা কম হওয়া এবং মাংসপেশি শুকিয়ে দুর্বল হয়ে যাওয়া
প্রতিকার ও সচেতনতা
শিশুর খাবারে দুধ, দুধজাত খাবার, শাকসবজি, ঢেঁড়স, কুমড়া ও ছোট মাছ রাখুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে শিশুকে রোদে রাখুন। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মাকে ভিটামিন ‘ডি’ এবং অপরিণত শিশুকে জন্মের পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘ডি’ দিতে হবে। হাড়ের বিকৃতি বেশি হলে ব্রেস বা শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
লেখক : শিশু বিভাগ আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর।



