মধ্যরাতে হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষকে উদ্ধার, ছাত্রীকে চুল ধরে টেনে নামানোর অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লায়েড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছাকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় এক ছাত্রীকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে পুলিশ সদস্যরা নামিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। দিনভর অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপরও মধ্যরাত পর্যন্ত শতাধিক ছাত্রী কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করছেন তারা।
এর আগে সকালে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্রীরা। এ সময় ‘দফা এক দাবি এক, প্রিন্সিপালের পদত্যাগ’ এবং ‘প্রিন্সিপালের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, ‘দুইজন শিক্ষার্থীর সিট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করার কারণেই এই আন্দোলন। আমরা ম্যাডামের কাছে হাত-পা জোর করে ক্ষমা চাইলেও ম্যাডাম বলেন, আমাদের স্যরি গ্রহণ করেছেন এবং শাস্তিস্বরূপ এক রাতের অডিটোরিয়ামের বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হবে। আমাদের পক্ষে এই টাকা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না।’
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যা বলছে, তা পুরোপুরি ঘটনার বিপরীত। আমি ওদের একটা অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছিলাম রাত ১২টা পর্যন্ত। ওরা ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করেছে। অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষিতে আমি একটু রেগে গিয়ে ওদের দুইজনের আসন বাতিল করে দিয়েছি। পরবর্তীতে ওরা আমার কাছে মাফ চেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটু নমনীয় হয়ে বলেছি, যেহেতু কোনো শৃঙ্খলা মানা হয়নি, ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শাস্তির আওতায় আসতে হবে। ওরা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ অপচয় করেছে, এই বিলটা ওদের কাছ থেকে আমি নিবো। এই জরিমানার নোটিশ আমি দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ।’
পদত্যাগের দাবির বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘তারা সাদা কাগজে আমাকে পদত্যাগের স্বাক্ষর করতে বলছে। আমি কেন তাদের কাছে পদত্যাগ করব?’




