৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি

জামিন নিতে আদালতে এসেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ছবি : আগামীর সময়
ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে পাঁচশো টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিন আত্মসমর্পণ করতে সকাল সাড়ে ৯ টায় আদালতে আসেন পরীমনি। এসময় তার সঙ্গে ১১ দেহরক্ষী ছিলেন। পরে ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে যান। তার উপস্থিতিতে জামিন শুনানি শুরু হয়।
এসময় তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী তার জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে বেলা ১২টার দিকে তিনি আদালত থেকে বের হন। এসময় তার সঙ্গে দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।
পরে গাড়িতে উঠার সময় এক সাংবাদিক তার গায়ে হাত দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ করেন। তবে পরবর্তীতে তার ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করেন, এলার্জি জনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এই কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদনটি নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। তবে ওইদিন হাজির না থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরদিন ২৭ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পেয়েছিলেন।
২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে মামলাটি করেন ঢাকার সাভারের বোট ক্লাবের পরিচালক নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তাকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর সত্যতা পেয়ে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলার পিবিআই পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে পরীমনিসহ জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মেলেনি।
পরে একই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালত পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনিকে হাজির হতে সমন জারি করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন দিবাগত রাতে আসামি পরীমনি অসৎ উদ্দেশ্যে বাদী নাছির মাহমুদকে ফাঁদে ফেলে সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে ঢাকা বোট ক্লাবের নিয়ম উপেক্ষা করে ফ্রিতে তিন লিটারের ব্লু লেবেল মদ পার্সেল নিতে না পেরে বাদীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি প্রদান করেন। পরীমনি ইচ্ছাপূর্বকভাবে বাদীর দিকে এসট্রে ছুড়ে মেরে তার ডান কানের উপরে মাথায় আঘাত করে নিলাফুলা জখম করেন।
এছাড়া আসামিদের ছোড়া ভাঙ্গা গ্লাসের টুকরায় বাদীর বুকে লাল চিহ্নিত স্ক্র্যাচ মার্ক যুক্ত জখম করে ও ক্লাবের বারের ভিতরে যত্রতত্র গ্লাস, কাঁচের বোতল এসট্রে ইত্যাদি ছুড়ে ফেলে তান্ডব করে। যার ফলে আসামি পরিমনির বিরুদ্ধে বাদীর আনা ৩২৩/৫০৬ ধারার অপরাধ করেছে মর্মে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বারের ভিতরে তান্ডব করতে থাকলে সাক্ষী তুহিন সিদ্দিকিকে বাদী নাছির আসামিদের নিয়ে বার থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। তখন আসামি জুনায়েদ বোগদাদী জিমি তেড়ে এসে বাদী নাছির মাহমুদকে গালমন্দ করতে করতে এবং হুমকি প্রদর্শন পূর্বক ২-৩ টা কিল ঘুষি মারেন।
এতে আসামি জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে বাদীনির আনা অভিযোগ মতে ৩২৩/৫০৬ ধারার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ঘটনার সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে বাদীর আনা কোন অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যায়নি।



