গ্রেপ্তার হচ্ছেন ইকবাল সোবহান

ইকবাল সোবহান চৌধুরী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার ও ক্রাইম চিফ রাজীব ঘোষকে।
আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে আগামীর সময়কে এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।
ডিবি সূত্র জানায়, ‘ইকবাল সোবহানকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তবে সাংবাদিক রাজিব ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে।’
ওই সূত্র আরও জানায়, রাতের মধ্যে এই তথ্য ডিএমপি মিডিয়ার উইং থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রথমে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ।
পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। একই কারণে তার সঙ্গে ডিবিসির সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব ঘোষকেও নেওয়া হয়েছে।
হেফাজতে নেওয়ার পর ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবিতে নিয়ে আসা হয়েছে।’
তাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘তাকে এখনো আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।’
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ইকবাল সোবহান ডিবিসি কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে মবের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে তাকে সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
কী বলছেন ডিবিসিতে কর্মরত সাংবাদিকরা
ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কীভাবে এবং কখন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, জানতে ডিবিসি নিউজের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদির অনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘ইকবাল সোবহানকে নিয়ে যাওয়ার অনেক পরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। উনি যখন অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন ডিবি আসে। তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নিয়ে যায়। কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’
মুক্তাদির অনিকের ধারণা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের কোনো মামলার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তিনি বলেন, ডিবিসির পক্ষ থেকে বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবিসিতে কর্মরত এক সংবাদকর্মী জানান, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বোর্ডের সদস্যপদ নিয়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত আরেক সদস্যের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে বুধবার ডিবিসি কার্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ডিবি তাকে নিয়ে যায়।
যা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এ বিষয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আটক হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।’
২০১৩ সালের জুলাইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান বাংলাদেশ অবজারভারের সাবেক সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী। এর আগে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) নেতৃত্বে ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।




