অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন শিক্ষক, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসা
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা।
আজ বুধবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসা বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেন। পরে ক্লাস না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান তিনি।
জানা গেছে, উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে যান। প্রথমে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে চাপের মুখে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাতে গোপনে ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন শিক্ষক মুসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিয়ের অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে গোপনে ওই শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের বাড়ি থেকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এবং ওই শিক্ষার্থীর দুই দিন ধরে তার বাড়িতে অবস্থান ও রাতযাপনের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকের ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, তিনি লোকমুখে বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার জানান, তিনিও তিন দিন আগে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তার মতে, এমন একটি ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুতই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে বাল্যবিবাহ একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে বিয়ে করায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের কাছে সন্তানের মতো। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন ঘটনায় তারা হতবাক। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



