পদোন্নতির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা
- ৯ বছর পদোন্নতিবঞ্চিত প্রায় ১,৮০০ প্রভাষক
- ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতির দাবি
- ডিপিসি সভা, নতুন পদ সৃষ্টি ও সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতির প্রস্তাব

সংগৃহীত ছবি
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতিতে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও জটিলতা নিরসনে এবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন পদোন্নতিবঞ্চিত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। প্রভাষক পদে কর্মরত ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম বিসিএসের ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে প্রথম পদোন্নতি না পাওয়ায় পেশাগত হতাশা ও বৈষম্যের মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি তাদের। যোগ্যতা অর্জনকারী কর্মকর্তাদের দ্রুত সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার প্রধানমনন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে তারা জানান, একই সময়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে প্রথম পদোন্নতি পেরিয়ে দ্বিতীয় পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিপরীতে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা সব যোগ্যতা পূরণ করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এতে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য তৈরি হওয়ার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও কর্মজীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে পদোন্নতি জটিলতা নিরসনে যোগ্য কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, নিয়মিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা আয়োজন এবং শিক্ষা ক্যাডারে প্রয়োজনীয় নতুন পদ সৃষ্টি। পাশাপাশি পদ স্বল্পতার কারণে আটকে থাকা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের শীর্ষ ১১টি সরকারি কলেজে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পদের বিপরীতে ৮৪৮টি সহকারী অধ্যাপক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে রয়েছে। এ প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থাকা সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির ফাইল নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত থাকায় তাদের মধ্যে পেশাগত একঘেয়েমি ও হতাশা তৈরি হচ্ছে। ফলে শিক্ষা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তারা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর শিক্ষক প্রতিনিধিরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মহাপরিচালক তাদের দাবি শোনেন এবং বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাউশির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন, উপপরিচালক (সরকারি কলেজ-১) অধ্যাপক মো. নুরুল হক সিকদারসহ ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা।



