ঔষধি গাছপ্রেমী আবদুল কাদের

নিজ বাড়ির অদূরে জমির আলে লাগানো গাছের পরিচর্যা করছেন আবদুল কাদের খাঁ
প্রায় ছয় দশক ধরে রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের ধারে, নিজের জমিতে গাছ লাগিয়ে আসছেন বগুড়ার কাহালু উপজেলার আবদুল কাদের খাঁ। গাছের সংখ্যাও কম নয়। কাদেরের ভাষ্যমতে, তার লাগানো গাছের সংখ্যা অন্তত দুই লাখ। সবচেয়ে বড় কথা, তার লাগানো সব গাছই ঔষধি।
গাছ লাগিয়ে এলাকার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ‘গাছপাগল কাদের’ নামে। আবদুল কাদের খাঁর বসবাস কাহালুর নিভৃত ডোমর গ্রামে। পেশায় পল্লী চিকিৎসক কাদেরের ধ্যান-জ্ঞান ভেষজ গাছ। বয়স ৮০ পেরিয়ে গেছে।
ছোটবেলায় বাবাকে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে দেখেছেন কাদের। পরে মামাবাড়িতে ভেষজ গাছ দেখে অনুপ্রাণিত হন। সেখান থেকে গাছ সংগ্রহ করে লাগানো শুরু করেন।
কাদেরের ভাষ্য, ১৯৬২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ঔষধি গাছ লাগানো শুরু করেন। গাছ মানে ফুল বা ফল নয়, তার কাছে গাছ মানে ওষুধ। কাহালু বাজার থেকে চারপাশে তিন-চার কিলোমিটার জুড়ে যত গাছ দেখা যায়, সেগুলোর প্রায় সবই লাগিয়েছেন তিনি।
ঔষধি গাছের প্রতি ভালো লাগা থেকেই ১৯৭৮ সালে ঢাকার হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এর পরের বছর ঢাকার স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি বাংলাদেশে ভর্তি হয়ে পল্লী চিকিৎসার ওপর দুই বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ নেন।
কাদের ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে জানা যায়, কাহালু হাসপাতাল, ডিগ্রি কলেজ, ডোমর প্রাথমিক বিদ্যালয়, মালঞ্চা কলেজ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, ফকির উদ্দিন স্কুল, বনানি কৃষি অফিস, হামদর্দ কলেজে আছে তার লাগানো ঔষধি গাছ। এ ছাড়া বগুড়া থেকে সান্তাহার পর্যন্ত রেললাইনের দুই ধারে এবং কাহালু উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বিপুল ভেষজ গাছ লাগিয়েছেন ও বীজ বুনেছেন। সেগুলোর মধ্যে অনেক গাছ এখনো আছে। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেষজ বাগান তৈরির কাজ করছেন কাদের।
কাদের বললেন, ‘বিনা পয়সায় মানুষকে গাছের রসের ওষুধ দিই। উপকার পান বলে মানুষ আজও আসে। প্রতিদিন ১০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিই। আমার বাবা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। এ কারণে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিই।’
কাহালুর মুরইল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রেলি বেগম বলছিলেন, ‘আবদুল কাদের আমার পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা। তার ভেষজ ওষুধ নেননি, এমন মানুষ এলাকায় খুব কমই আছেন। আমরা অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজনকে চিকিৎসা নিতে তার কাছে আসতে দেখেছি।’



