Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
অসহায়দের ভাগ্য বদলাচ্ছেন জুয়েল
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় জাতীয়

৬২৭ টাকা থেকে ১২,৫০০: পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা বেতন দাবি কতটা যৌক্তিক

রাকিব হাসান
রাকিব হাসান
agamir somoy
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:০৭
শেয়ার করুন:
৬২৭ টাকা থেকে ১২,৫০০: পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা বেতন দাবি কতটা যৌক্তিক

পুলিশকে লক্ষ্য করে শ্রমিকরা ঢিল ছুঁড়ছেন। ছবি: আগামীর সময়

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ তৈরি পোশাকশিল্প খাত। যে শিল্পের হাত ধরে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান তৈরি করেছে; যে শিল্পের ওপর নির্ভরশীল দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ, সেই শিল্পের প্রাণশক্তি লাখো শ্রমিক। অথচ এই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠলেই বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিল্পাঞ্চল। সড়কে নামেন শ্রমিকরা; শুরু হয় বিক্ষোভ, বন্ধ হয় কারখানা, থমকে যায় উৎপাদন, তৈরি হয় রপ্তানি অনিশ্চয়তা।

এ যেন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এক পরিচিত চিত্রনাট্য। শ্রমিকদের অসন্তোষ বাড়ে, আন্দোলন শুরু হয়, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হয়, নতুন মজুরি ঘোষণা করা হয়। কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত থাকে। এরপর মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে পুরনো অসন্তোষ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

গত মাসের শেষ দিকে সেই চিত্রই আবার সামনে এসেছে। এবার শ্রমিকদের দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা। শ্রমিক বিক্ষোভের মধ্যেই গত ১ নভেম্বর সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।

সচিবালয়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়ার সময় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের সারকথা ছিল, নতুন বোর্ড এখন মজুরি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করবে; তাই সড়ক অবরোধের প্রয়োজন নেই।

তিনি তখন সতর্ক করেছিলেন, কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা ও রপ্তানি চালান ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন ও কর্মসংস্থানেও পড়বে।

মন্ত্রীর এমন কথায় অবশ্য শ্রমিকদের আন্দোলন থেমে যায়নি। পরদিন ২ নভেম্বরও রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সাতবার মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের পরও কেন শ্রমিকদের বারবার রাজপথে নামতে হচ্ছে? মজুরি বোর্ড কি সমস্যার সমাধান করছে, নাকি শুধু সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখছে? আর সাম্প্রতিক আন্দোলনে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি কতটা যৌক্তিক তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

শ্রমিক অসন্তোষ : ইন্ধনের প্রশ্নে সরকার-বিরোধী দল উভয়ের এক সুর

০২ নভেম্বর ২০২৬

গত রবিবার ঢাকার মিরপুরে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড সোয়েটার ওয়ার্কার্স ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টারের আইনবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার খায়রুল মামুন মিন্টু বলেছেন, এবারের আন্দোলনে শ্রমিকদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে। যার মধ্যে সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ অন্যতম। তিনি এর আগে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অক্টোবরের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন না হওয়াকেও অসন্তোষের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

১৯৮৪ থেকে ২০২৬: মজুরি বাড়ার ইতিহাস, অসন্তোষের পুনরাবৃত্তি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে প্রথম ন্যূনতম মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয় ১৯৮৪ সালে। তখন সর্বনিম্ন গ্রেডের শ্রমিকের মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬২৭ টাকা। এরপর ১৯৯৪ সালে তা বেড়ে হয় ৯৩০ টাকা। ২০০৬ সালে ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা, ২০১০ সালে ৩ হাজার টাকা, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ৩০০ টাকা, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ প্রায় চার দশকে কাগজে-কলমে সর্বনিম্ন মজুরি বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। কিন্তু এই হিসাবের মধ্যে মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয়ের পরিবর্তন হিসাব করলে বাস্তব চিত্র পাল্টে যায়।

এ ইতিহাসে একটি বিষয় লক্ষণীয়। প্রতিবারই মজুরি বৃদ্ধির আগে শ্রমিকদের দাবি ও আন্দোলন সামনে এসেছে। অর্থাৎ শ্রমিকদের আয় পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিয়মিত ও আগাম উদ্যোগের চেয়ে আন্দোলনের চাপ অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে।

গত ৩১ অক্টোবর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো অনেক আগে থেকেই দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিল, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে দেরি করেছে।

তার মতে, সময়মতো বোর্ড গঠন করা হলে বর্তমান অসন্তোষ এড়ানো সম্ভব হতে পারত। তবে তিনি সতর্ক করেন, স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

যে শ্রমিকের হাতের সেলাই করা পোশাক ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে বিক্রি হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আয় এনে দেয়, সেই শ্রমিককেই নিজের পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় মেটানোর দাবিতে বারবার রাজপথে নামতে হয়

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, শ্রমিকদের রাস্তায় নামার অপেক্ষায় না থেকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের আগেই মজুরি পর্যালোচনা শুরু করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করার মাধ্যমে শিল্পের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে হবে।

ইনফোগ্রাফ: আগামীর সময়২০০৬, ২০১০ ও ২০১৩: আন্দোলনের পুরনো ক্ষত

২০০৬ সালে পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ বড় আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে নির্ধারিত মজুরি দীর্ঘদিন কার্যকর না হওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। তখন শ্রমিকদের দাবি ছিল সর্বনিম্ন মজুরি ৩ হাজার টাকা করা। আন্দোলনের পর সরকার মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করে সর্বনিম্ন মজুরি ১ হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে। অর্থাৎ দাবির তুলনায় প্রাপ্তি ছিল অনেক কম।

আরও পড়ুন

শ্রমিক বিক্ষোভে গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি

০২ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কারস সলিডারিটির তথ্য বলছে, ২০১০ সালেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিল ৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি। আন্দোলন ও আলোচনার পর তখনকার সরকার সর্বনিম্ন মজুরি ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করে।

এরপর ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের ভয়াবহতা পুরো পোশাকশিল্পকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৪ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। পোশাকশ্রমিকদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার ও মজুরির বিষয় আন্তর্জাতিকভাবেও গুরুত্ব পায় তখন।

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকায় প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ করেন বলে ২০১৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর ও সাভার এলাকায় বিক্ষোভের কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। শ্রমিকদের দাবির বিপরীতে মালিকপক্ষের প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ বৃদ্ধিও তখন শ্রমিকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

এ ঘটনাগুলো দেখায়, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে মজুরি প্রশ্নটি কখনোই শুধু একটি সংখ্যার প্রশ্ন ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল শ্রমিকদের জীবনমান, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ।

২০১৮ ও ২০১৯: মজুরি বাড়ল, কিন্তু নতুন অসন্তোষের জন্ম

২০১৮ সালে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার আগে আবারও আন্দোলন শুরু হয়। শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল সর্বনিম্ন মজুরি ১৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে মালিকপক্ষের অবস্থান ছিল, উৎপাদন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা বিবেচনায় মজুরি বাড়াতে হবে।

সরকার ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা ঘোষণা করে। আগের ৫ হাজার ৩০০ টাকা থেকে এটি প্রায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি। কিন্তু নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন গ্রেডের শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে মধ্যবর্তী গ্রেডের কিছু শ্রমিক প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস সেন্টারের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আশুলিয়া, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির আলোচনায় কয়েকটি গ্রেডে মজুরি সমন্বয় করা হলেও সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকাই রাখা হয়। আন্দোলনের পর প্রায় ১২ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগও ওঠে তখন।

২০২৩: ২৩ হাজার টাকার দাবি, ঘোষণা ১২ হাজার ৫০০

২০২৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে পোশাকশিল্পে আবারও বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। তখন শ্রমিক সংগঠনগুলোর একাংশ সর্বনিম্ন মজুরি ২৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানায়। মালিকপক্ষ প্রথমে ১০ হাজার ৪০০ টাকার প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে শ্রমিক প্রতিনিধিরা ২০ হাজার ৩৯০ টাকার প্রস্তাব দেন।

দীর্ঘ আলোচনা, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান নতুন সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করেন। ২০২৩-এর ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়। আগের ৮ হাজার টাকা থেকে এ বৃদ্ধি ছিল ৫৬ শতাংশ।

সেদিনের ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মজুরি ৫৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি সিদ্ধান্তটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। ৭ নভেম্বর মজুরি ঘোষণার পর তিনি বলেছিলেন, পোশাকশিল্পের বাস্তবতা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বিবেচনায় শ্রমিকরা বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

তবে সব শ্রমিক সংগঠন এ সিদ্ধান্তে একমত হয়নি। অনেক সংগঠন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে এই মজুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে আপত্তি জানায়।

২০২৩ সালের আন্দোলনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল প্রাণহানি। ওই বছর ৩০ অক্টোবর সংঘর্ষ ও কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাসেল হাওলাদার ও ইমরান হোসাইন নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

তিন বছর যেতে না যেতেই আবারও নতুন মজুরি আন্দোলন শুরু হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৩ সালের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাত্রার সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।

আরও পড়ুন

ধান্দাবাজরা পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে : জামায়াত আমির

০২ নভেম্বর ২০২৬

২০২৬: এবার দাবি ৩০ হাজার, নতুন মজুরি বোর্ড

গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৪ অক্টোবর থেকে উত্তরা ও মিরপুর এলাকায় সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়। পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে।

এবার শ্রমিকদের প্রধান দাবি মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহাল এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রথা বন্ধ করা।

গত ১ নভেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ঢাকার মিরপুর, আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুরে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং কারখানায় ছুটি ঘোষণার ঘটনা ঘটে। বিজিএমইএর দেওয়া পরিস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, সেদিন অন্তত ৫২৯টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।

এ পরিস্থিতিতে ১ নভেম্বর সরকার নতুন ছয় সদস্যের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের আসিফ আইয়ুব। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে কারখানাগুলো মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের জন্য ৯ শতাংশ হারে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি দিয়ে আসছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় কিছু মজুরি বৃদ্ধি প্রয়োজন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

কিন্তু ৩০ হাজার টাকার দাবির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ইউরোপের মতো বড় বাজারে পোশাকের দাম ও চাহিদা কমছে। শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখেই মজুরি বাড়াতে হবে। তার ভাষায়, সরকার যে মজুরিই ঘোষণা করুক, কারখানার পক্ষে বহন করা সম্ভব না হলে কারখানা চালানো কঠিন হবে।

তবে বোর্ড গঠন মানেই নতুন মজুরি নির্ধারণ নয়। বোর্ড আলোচনা ও পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সরকার নতুন মজুরি ঘোষণা করবে।

২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ কাঠামো কার্যকর হওয়ায় এবার নতুন পর্যালোচনার সময়ও এসে গেছে।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেছেন, শ্রম আইন অনুযায়ী নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। তার মতে, নতুন বোর্ডে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এখন বোর্ডের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার, উৎপাদন ব্যয় এবং শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন।

আন্দোলনের প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতিতে

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। ফলে একটি শিল্পাঞ্চলে কয়েক দিনের অস্থিরতা শুধু একটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে না; এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো সরবরাহব্যবস্থায়।

১ নভেম্বর ২০২৬-এর আন্দোলনে বিজিএমইএর হিসাবে ৫২৯টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার তথ্য এই ঝুঁকির বাস্তব উদাহরণ।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাস মূলত এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাস। শূন্য থেকে একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে উঠেছে। লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বেড়েছে, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এই সাফল্যের গল্পের ভেতরেই রয়েছে একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা। যে শ্রমিকের হাতের সেলাই করা পোশাক ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে বিক্রি হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আয় এনে দেয়, সেই শ্রমিককেই নিজের পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় মেটানোর দাবিতে বারবার রাজপথে নামতে হয়।

মজুরি বোর্ডতৈরি পোশাকশিল্পশ্রমিক আন্দোলনপোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনঅর্থনীতি
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    আইন সংশোধনে ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ নিতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

    আইন সংশোধনে ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ নিতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

    কী হচ্ছে জামায়াত-এনসিপিতে? জোটে ভাঙনের সুর, নাকি দর কষাকষির কৌশল?

    কী হচ্ছে জামায়াত-এনসিপিতে? জোটে ভাঙনের সুর, নাকি দর কষাকষির কৌশল?

    সাহিত্যে ‘সযত্ন ভালোবাসার প্রকৃতিবিজ্ঞান’

    সাহিত্যে ‘সযত্ন ভালোবাসার প্রকৃতিবিজ্ঞান’

    ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী, আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ’

    ‘আমার মৃত্যুর জন্য সুমাইয়া দায়ী, আমার ছেলেকে মেরেছে শরীফ’

    তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

    তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধে হামলায় যুবক নিহত

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টের নতুন কমিটি

    কেন আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়লেন রাশেদ খাঁন, অন্যরা কে কী বলছেন

    কেন আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়লেন রাশেদ খাঁন, অন্যরা কে কী বলছেন

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    তথ্য চাওয়া হচ্ছে পুলিশের, বাদ পড়ছেন না স্কুলবন্ধুও

    বদলে যাচ্ছে  জিয়া উদ্যান

    বদলে যাচ্ছে জিয়া উদ্যান

    চিকিৎসক বলেছিলেন আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

    চিকিৎসক বলেছিলেন আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব: তানিয়া বৃষ্টি

    লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত মিজান, দুই মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার

    লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত মিজান, দুই মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার

    তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের পর দিশাও রিমান্ডে

    তাহসিফ হত্যা মামলায় দীপের পর দিশাও রিমান্ডে

    অনুদান বন্ধ নয়, প্রয়োজন সংস্কার, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নীতিমালা

    অনুদান বন্ধ নয়, প্রয়োজন সংস্কার, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নীতিমালা

    শ্যামলকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আততায়ীদের হাতে তুলে দেন বিশ্বস্ত মাঝি

    শ্যামলকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আততায়ীদের হাতে তুলে দেন বিশ্বস্ত মাঝি