তাহসিফ হত্যামামলায় দীপের পর দিশাও রিমান্ডে

কড়া পুলিশ পাহারায় আজ রবিবার ঢাকার আদালতে নেওয়া হয় জেরিকা তাসনিস দিশাকে। ছবি: আগামীর সময়
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরী হত্যামামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিস দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তাহসিফের মৃত্যুরহস্য উন্মোচন, তাকে হত্যা করা হলে কারা এতে জড়িত, তা বের করতেই পুলিশ এই তরুণীকে চার দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফ ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাতে তাকে একটি বারে দিশা এবং শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল এক সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে।
পরদিন তাহসিফের লাশ উদ্ধার হয় তুরাগ নদীতে। দুদিন পর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হত্যামামলা করেন।
সেই মামলায় তাহসিফের বন্ধু দীপকে গ্রেপ্তার করে গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
এর একদিন বাদে দিশাকে (১৯) গ্রেপ্তারের পর সাত দিন রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাকে আজ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নিয়ে যান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
পুলিশ পাহারায় এজলাসে নেওয়া হয় এই তরুণীকে। তার মাথায় ছিল হেলমেট, গায়ে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট।
রিমান্ডের আবেদন বলা হয়, মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও সনাক্ত, আলামত উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্য যাচাই তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে আসামির পক্ষে আইনজীবী শাহরিয়ার রহমান শিহাব রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আসামি জড়িত নন। শুধু সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাহসিফ রাত ১২টায় দিশাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছিলেন দাবি করে আইনজীবী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই তরুণীর কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো ‘ক্লু’ ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে চাির দিন রিমান্ডের আদেশ দেন।
তাহসিফের বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার দীপ এর আগে পুলিশকে বলেছিলেন, সেই রাতে একদল ব্যক্তির ধাওয়ার মুখে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাহসিফ।
তবে তার কথায় নানা অসঙ্গতি পাওয়ার কথা বলছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তাওসিফের বাবাও বলছেন, তার ছেলে সাঁতার ভালোই জানতেন। ফলে পানি নামলেও ডুবে যাওয়ার কথা নয়।
তাওসিফ বিমানবাহিনীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় যে ভিডিওটি ছড়িয়েছিল, তা প্রকাশের ক্ষেত্রে তাহসিফের ভূমিকা ছিল বলে আলোচনায় আসে।
এরপর বিমানবাহিনীর চাকরি হারান ২৭ বছর বয়সি এই যুবক। কিছুদিন নেত্র নিউজ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে কাজ করেন তিনি। সবশেষ ভার্গ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।



