সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ পাবেন এইচএসসি ফেল শিক্ষার্থীরা

এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ফাইল ছবি
এ বছরই প্রথম এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। আর যারা এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না, তাদের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ দুই বিষয় পর্যন্ত ফেল করা শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবেন। আগামী এক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এই পরীক্ষা।
আজ শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তখনই জানানো হয় এসব তথ্য।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, এ বছর থেকেই প্রথমবারের মতো অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। যেসব শিক্ষার্থী কোনো কারণে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে কেবল ফেল করা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এবারে এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন।
বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো পরীক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে এক বছর পর (পরের বছরের পরীক্ষায়) আবার পরীক্ষায় বসতে হয়। সে ক্ষেত্রে শুধু অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতে অথবা চাইলে সব বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে।
কিন্তু একটি বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে শিক্ষাজীবনে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়তি মানসিক চাপও তৈরি হয়।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। পাশাপাশি এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে পাশের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। পাশাপাশি এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৯৫০।
যশোর বোর্ডে পাশের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন। পাশাপাশি দিনাজপুর বোর্ডে পাশের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। এ ছাড়া সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন।
এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৫২০ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে বিএম-ভোকেশনাল (কারিগরি) পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ বছরের পরীক্ষায় পাস করেছেন ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী। সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন।
গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬১০ জন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২৭৬ জন।






