বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সার্বিয়ার নির্বাচন

পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়াকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করে বাংলাদেশে বেশ আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর কারণ, দেশটির সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন ও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির (এসএনএস) পরাজয়। এর মাধ্যমে দেশটির কর্তৃত্ববাদী শাসক আলেকসান্দার ভুচিসের ১৪ বছরের শাসনামলের অবসান ঘটল।
সার্বিয়ার এই আন্দোলনকে ঘিরে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহল ও উদ্দীপনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। সার্বিয়ার আন্দোলন ও নির্বাচনী মহড়ার অগ্রভাগে ছাত্র-তরুণদের সরব উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় অনেকেই সার্বিয়া ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একটা তুলনা করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।
এ কথা ঠিক, সাম্প্রতিক দুনিয়ায় যেসব আন্দোলন-সংগ্রাম সংঘটিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যগত ও কাঠামোগত মিল লক্ষ করা যাচ্ছে। এই মিলকে অনেকেই ‘যুগের হাওয়া’ বলতে চাইবেন। আবার প্রতিটি আন্দোলনেরই কিছু ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য আছে, যা এড়িয়ে কোনো সাধারণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার আন্দোলন কিংবা গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রেও এ কথা সত্য।
সার্বিয়ায় ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের শেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির পরাজয় ঘটে। অর্থাৎ সার্বিয়ায় ক্ষমতার পালাবদল গণঅভ্যুত্থানের মতো অধিসাংবিধানিক (এক্সট্রা-কনস্টিটিউশনাল) প্রক্রিয়ায় ঘটেনি, নির্বাচনের মাধ্যমে ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ থাকলেও সার্বিয়ার নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর দেশটির জনগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটিসহ সব পক্ষের আস্থা বিদ্যমান। আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাসীন শাসক ভুচিস ও তার দল এসএনএসের পতন ঘটেনি এবং তারা দেশ ছেড়ে তল্পিতল্পাসহ পালিয়ে যায়নি। এসএনএস নির্বাচনের ফল মেনেও নিয়েছে। দেশটির জনগণ সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে এবং শাসক পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সার্বিয়ার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচিত দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকের অবসান; ব্যবস্থা পরিবর্তনের তাগিদ এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল আরও গভীর
আন্দোলনের পূর্বের ক্ষমতাসীন দল এসএনএসের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার অভিযোগ ছিল বটে। তবে তারা বিরোধী মত দমন, গুম-খুন-ক্রসফায়ার, নিবর্তনমূলক ডিজিটাল আইনের মাধ্যমে সমালোচকদের কারাগারে প্রেরণ, অবিশ্বাস্য অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো পদ্ধতিগত অপরাধে জড়ায়নি। ১৪ বছর নির্বাচনের মাধ্যমেই দলটি ক্ষমতায় ছিল। অবশেষে অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারবিরোধী ছাত্র-তরুণ ও অপরাপর পেশাজীবীদের সম্মিলিত প্রচারণা ও অবস্থানের দরুন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল এসএনএসের পরাজয় ঘটে। এই প্রেক্ষাপট আমলে না নিলে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও সার্বিয়ার দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের স্থানিক পার্থক্য সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হব আমরা।
খেয়াল রাখতে হবে, দুনিয়ার কোনো গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারই নিষ্কলুষ নয়। সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই বিরোধী পক্ষগুলো সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন সংঘটিত করে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের— যেখানে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ রুদ্ধ— গণঅভ্যুত্থানের পার্থক্য আমলে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ‘পরাজয়’ এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘পতন ও পলায়নের’ তফাত ভুলে গেলেও চলবে না।
কী ঘটেছিল সার্বিয়ায়?
২০২৪ সালের ১ নভেম্বর সার্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নোভি সাদের রেলস্টেশনের বাইরে কংক্রিটের ছাউনি ধসে পড়ে ১৬ জন নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সরকারবিরোধী তরুণ সমাজ এই ট্র্যাজেডিকে স্রেফ ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে না দেখে বৃহত্তর কাঠামোগত দুর্নীতির ফলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে। শুরু হয় ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যা ক্রমে জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়৷
আলেকসান্দার ভুচিস ১৯৯৩ সালে উগ্র জাতীয়তাবাদী ‘সার্বিয়ান র্যাডিক্যাল পার্টি’তে (এসআরএস) যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি কট্টর জাতীয়তাবাদী অবস্থান থেকে সরে এসে মধ্য-ডানপন্থী সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (SNS) গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং দীর্ঘ সময় এর নেতৃত্ব দেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রথমে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন ভুচিস। ২০১৭ সালে তিনি সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হন। তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া যায় না বলে দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে চলা তীব্র বিক্ষোভের মুখে ভুচিস ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এটা ছিল ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার কৌশলের অংশ। কিন্তু জনগণ তাকেসহ এসএনএসকে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে বিরোধী দল হিসেবে এসএনএসকে দেখা যাবে।
২৫ অক্টোবর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ (Student List) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনে রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ শিক্ষার্থীদের গড়া নির্বাচনী জোট হলেও নির্বাচনে কোনো শিক্ষার্থী প্রার্থী ছিল না। ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’-এর হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
এ কারণে বাংলাদেশে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদেরও একই কাজ করা উচিত ছিল কি না! অর্থাৎ তারা (বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নেতারা) নিজেরা দল না খুলে বিভিন্ন পেশাজীবীদের দিয়ে নির্বাচন করিয়ে নিজেরা ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করতে পারত কি না— এমন প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের সৎ উদ্দেশ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু কথা বলা জরুরি। বাংলাদেশে কী ঘটে গেছে, তা পাঠকদের কাছে তুলে ধরার কিছু নেই। কারণ, তারাই এই ইতিহাসের নির্মাতা। তবে ‘ঘটনা’র ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ রাজনীতি কিংবা মতাদর্শ নিরপেক্ষ নয়। সে কারণে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আমার নিজের কিছু পর্যবেক্ষণ রেখে বর্তমান নিবন্ধ শেষ করতে চাই।
স্থানিক ও ঐতিহাসিক অমিল
মোটাদাগে কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সার্বিয়ার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচিত দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকের অবসান; ব্যবস্থা পরিবর্তনের তাগিদ এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল আরও গভীর। শহীদ মিনারে ৩ আগস্টের এক দফা ছিল ‘ফ্যাসিবাদী শাসক ও ব্যবস্থার উচ্ছেদ’। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার মূলোৎপাটন, সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন এবং এ ধরনের আরও মৌলিক রাষ্ট্রীয় রূপান্তর গণঅভ্যুত্থানের আগে ও পরে এজেন্ডা ছিল। এই এজেন্ডা বা লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলনকারী ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে বিপ্লবী মেজাজের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের জরুরতও ছিল।
সার্বিয়ায় প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আনুগত্য অনড় নয়; তারা নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানাতেও প্রস্তুত। গোটা ইউরোপীয় রাজনৈতিক মানসিকতার মধ্যেই এ প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি মানুষের আনুগত্য অনেকটা বাধ্যতামূলক। কারণ, দলীয় আনুগত্য যেমন অর্থনৈতিক স্বার্থ তথা ‘পাইয়ে দেওয়া’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত; তেমনি তা অনেকটা গভীর সেক্যুলার-ধর্মতাত্ত্বিক আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। তাই নতুন রাজনৈতিক দল গঠন ছাড়া পুরনো কাঠামো ভাঙা, নিদেনপক্ষে সংস্কার সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পুরনো প্রজন্মের শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সিভিল সোসাইটিসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর একটি বড় প্রভাবশালী অংশ যেকোনো ধরনের পরিবর্তন বিরোধী। অর্থনৈতিক অলিগার্কদের সঙ্গে সিভিল সোসাইটির প্রতাপশালী (হেজেমনিক) এই অংশের সম্পর্ক ও স্বার্থ অত্যন্ত গভীর। তাই তারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে ইচ্ছুক নয়, সক্রিয় বিরোধিতাকারী। এর পেছনে মূল কারণ দুটি— উল্লিখিত সিভিল সোসাইটির একটা বড় অংশ ইন্ডিয়ান হেজিমনির গ্রাহক ও প্রচারক। দ্বিতীয়ত, তাদের অনেকেই উপনিবেশ বাহিত ফ্যাসিবাদী মতাদর্শ ও প্রোপাগান্ডার উৎপাদক ও ভোক্তা। জাতিবাদী-সাম্প্রদায়িক ও একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য দায়ী বাহাত্তরের সংবিধানের পরিবর্তে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের যেকোনো প্রস্তাব, উদ্যোগ ও সংগঠনের বিরোধিতা করাই প্রভাবশালী এই অংশের মূল লক্ষ্য।
সার্বিয়ায় এর ঠিক বিপরীত বাস্তবতা দেখা গেছে। বুদ্ধিজীবী, অ্যাক্টিভিস্টসহ বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠী স্টুডেন্ট লিস্টের হয়ে নির্বাচনে লড়েছেন। বাংলাদেশের পুরনো এস্টাবলিশমেন্টকে অক্ষত রাখার পেছনে পুরনো সিভিল সোসাইটি, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা ও ভূমিকা রয়েছে। সার্বিয়ার এলিট শ্রেণির মধ্যে এই প্রশ্নে অখণ্ড ঐক্য নেই বললেই চলে। সেখানে গণতান্ত্রিক সংবিধান, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক পরিসর অত্যন্ত পরিপক্ব ও উদার।
উনিশ শতকী বাঙালি রেনেসাঁ মূলত হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রচিন্তার ফল। এর ঔরসে বিকশিত বাঙালি জাতীয়তাবাদ মূলত ‘অখণ্ড ভারত’ রাষ্ট্রপ্রকল্পের স্থানীয় এজেন্ট। তবে পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আজতক এই মতাদর্শটিই বাংলাদেশে হেজেমনিক, যার ছায়ায় আশ্রিত লিবারেল দাবিদার বিভিন্ন গোষ্ঠী মূলত ঔপনিবেশিক ও ফ্যাসিবাদী চিন্তার সক্রিয় প্রচারক।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের মহাবয়ান অক্ষত রেখে বাংলাদেশে কোনো গণতান্ত্রিক রিপাবলিক গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গজিয়ে ওঠা মুসলিম জাতীয়তাবাদও প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করতে ব্যর্থ। এই পরস্পরবিরোধী প্রতিক্রিয়ামূলক রাজনীতির কারণেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে ইন্ডিয়া এখনো প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে। তাই এখানে এমন নতুন রাজনৈতিক দল দরকার, যারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য লড়বে। সার্বিয়ায় আমরা যা দেখতে পেয়েছি, তা মূলত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার বিপুল ফারাক এড়িয়ে যাওয়া চলে না।
লেখক: রাজনীতিক ও লেখক




