Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
৫ বন্ধুর হাতে কতকিছুর সুরক্ষা
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় কলাম

পারিবারিক লেনদেন কি করযোগ্য আয়?

ফয়সাল ইসলাম
agamir somoy
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৮
শেয়ার করুন:
পারিবারিক লেনদেন কি করযোগ্য আয়?

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোয় পারস্পরিক আর্থিক সহযোগিতা একটি স্বাভাবিক ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিষয়। পিতা-মাতা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য অর্থ বা সম্পত্তি প্রদান করেন, সন্তান পিতা-মাতার প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা করেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থ ও সম্পদের হস্তান্তর ঘটে এবং আপন ভাই-বোনের মধ্যেও প্রয়োজনে ঋণ, অনুদান কিংবা উপহার আদান-প্রদান হয়। এসব লেনদেনের অধিকাংশই ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জন বা আয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয় না; বরং পারিবারিক দায়িত্ব, স্নেহ, ভালোবাসা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।

কিন্তু বাস্তবে আয়কর রিটার্ন দাখিল, সম্পদ বিবরণী প্রস্তুত কিংবা কর নির্ধারণের সময় অনেক করদাতার মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা দেয়, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ, উপহার, দান কিংবা ঋণ কি করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হবে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬৬ ও ৬৭, ষষ্ঠ তফসিলের প্রথম অংশের দফা ৩৫ এবং দানকর আইন, ১৯৯০-এর ধারা ৪-এর বিধানগুলো সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এসব বিধানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত আয় ও পারিবারিক সম্পদ হস্তান্তরের মধ্যে আইনগত পার্থক্য নির্ধারণ করা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক লেনদেনকে অযৌক্তিক করের আওতার বাইরে রাখা।

পারিবারিক দান, দানকর ও আয়করের আইনের বিধান

দানকর আইন, ১৯৯০-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পুত্র, কন্যা, পিতা, মাতা, স্বামী, স্ত্রী, আপন ভাই ও আপন বোনকে নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রদত্ত দান দানকর থেকে অব্যাহতি পাওয়ার বিধানের অন্তর্ভুক্ত। এই বিধানের তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পদ হস্তান্তর সব সময় নতুন সম্পদ সৃষ্টি বা অর্থনৈতিক মুনাফা অর্জনের সমার্থক নয়। অনেক ক্ষেত্রে তা একই পরিবারের মধ্যে পূর্ববিদ্যমান সম্পদের মালিকানা পরিবর্তনমাত্র।

ফয়সাল ইসলাম

তবে এখানে একটি মৌলিক আইনগত বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—দানকর থেকে অব্যাহতি এবং আয়কর থেকে অব্যাহতি দুটি পৃথক আইনগত বিষয়। দাতার ক্ষেত্রে দানকর অব্যাহতি থাকলেই গ্রহীতার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর অব্যাহতি প্রতিষ্ঠিত হয় না। আয়কর অব্যাহতির জন্য আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য বিধান ও শর্ত বিবেচনা করতে হবে।

তাছাড়া আয়কর আইন, ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিলের প্রথম অংশের দফা ৩৫ পারিবারিক দান বা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদের কর অব্যাহতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিধান অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই বা বোন, পিতা-মাতা কিংবা সন্তানের কাছ থেকে দান হিসেবে প্রাপ্ত পরিসম্পদ নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মোট আয়ের বাইরে রাখার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো দাতা ও গ্রহীতার আয়কর রিটার্নে সংশ্লিষ্ট দানের প্রতিফলন থাকতে হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পদ প্রাপ্তি এবং করযোগ্য আয় অর্জন সব ক্ষেত্রে এক বিষয় নয়।

উদাহরণস্বরূপ, একজন পিতা তাঁর সন্তানকে ২০ লাখ টাকা দান করলেন। পিতার বৈধ ও ব্যাখ্যাযোগ্য অর্থের উৎস রয়েছে এবং তিনি তাঁর রিটার্নে সংশ্লিষ্ট সম্পদ হস্তান্তরের তথ্য প্রদর্শন করলেন। অন্যদিকে সন্তানও তাঁর রিটার্নে দান হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ যথাযথভাবে প্রদর্শন করলেন। এমন পরিস্থিতিতে আইনগত শর্ত পূরণ হলে উক্ত ২০ লাখ টাকা সন্তানের করযোগ্য আয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অন্যান্য উৎস হতে আয় এবং পারিবারিক উপহার

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬৬-তে ‘অন্যান্য উৎস হতে আয়’ নির্ধারণের বিধান রয়েছে। সাধারণভাবে কোনো অর্থ বা সুবিধা অন্য কোনো নির্দিষ্ট আয়খাতের অন্তর্ভুক্ত না হলেও আইন অনুযায়ী তা অন্যান্য উৎস হতে আয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে কোনো ব্যক্তি অর্থ, সম্পদ বা উপহার গ্রহণ করলেই তা নির্বিচারে করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করা যায় না। বিশেষত পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত দান, অনুদান বা উপহারের ক্ষেত্রে আইনে বিশেষ বিধান ও অব্যাহতির সুযোগ রয়েছে।

এখানে ধারা ৬৬-কে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার পরিবর্তে ধারা ৬৭ এবং ষষ্ঠ তফসিলের সংশ্লিষ্ট অব্যাহতি বিধানের সঙ্গে সমন্বয় করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পদের ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত সম্পর্ক, লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং প্রয়োজনীয় রিটার্নে প্রতিফলনের শর্ত পূরণ করা হলে তা করযোগ্য আয় থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।

পারিবারিক ঋণ মওকুফ বা দানে রূপান্তর

পারিবারিক আর্থিক লেনদেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ঋণ প্রদান এবং পরবর্তী সময়ে সেই ঋণ মওকুফ বা দানে রূপান্তর। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬৭-এর উপধারা ৮-এর দফা (গ)-তে স্বামী-স্ত্রী, আপন ভাই বা বোন, পিতা-মাতা কিংবা সন্তানের কাছ থেকে গৃহীত ঋণ পরবর্তী সময়ে মওকুফ বা দানে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট লেনদেন দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের আয়কর রিটার্নে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো পিতা তাঁর সন্তানকে ব্যবসা পরিচালনা, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে পারিবারিক বিবেচনায় তিনি সেই ঋণ ফেরত না নিয়ে মওকুফ করতে পারেন অথবা দান হিসেবে গণ্য করতে পারেন।

পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ

পারিবারিক লেনদেনের সবচেয়ে প্রচলিত ধরন হলো নগদ অর্থ প্রদান ও গ্রহণ। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬৭-এর উপধারা (১৩) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ঋণ, অগ্রিম বা ডিপোজিট হিসেবে ৫ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ গ্রহণ করলে, নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে তা সংশ্লিষ্ট করবর্ষে “অন্যান্য উৎস থেকে আয়” হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাই ৫ লাখ টাকার বেশি এ ধরনের লেনদেন সাধারণত ক্রসড চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার বা অন্য কোনো ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করা প্রয়োজন।

তবে একই উপধারার দফা (ক)-তে স্বামী বা স্ত্রী, আপন ভাই বা বোন, পিতা-মাতা কিংবা সন্তানের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে। এসব নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের আয়কর রিটার্নে যথাযথভাবে প্রদর্শিত হলে, শুধু নগদে গ্রহণের কারণে তা করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য না করার সুযোগ রয়েছে।

তবে এ ক্ষেত্রে লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, দাতার আর্থিক সক্ষমতা, অর্থের উৎস এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। এই বিধানকে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। প্রকৃত পারিবারিক লেনদেন ও কর ফাঁকির উদ্দেশ্যে সাজানো কৃত্রিম লেনদেন আইনগতভাবে এক বিষয় নয়।

বিদেশ থেকে প্রেরিত পারিবারিক দানের বিশেষ সুবিধা

ষষ্ঠ তফসিলের প্রথম অংশের দফা ৩৫-এ বিদেশ থেকে বাংলাদেশে অবস্থানরত গ্রহীতার কাছে দান পাঠানোর ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে। বিদেশ থেকে বাংলাদেশে অবস্থিত গ্রহীতার কাছে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দান পাঠানো হলে দাতার রিটার্নে উক্ত দান প্রদর্শনের শর্ত প্রযোজ্য হয় না। তবে গ্রহীতার রিটার্নে প্রাপ্ত অর্থের যথাযথ প্রতিফলন এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রাপ্তির প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ধরা যাক, বিদেশে কর্মরত একজন ভাই বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর আপন বোনকে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠিয়েছেন এবং তা প্রকৃতপক্ষে দান। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনগত শর্ত পূরণ হলে বিদেশে অবস্থানরত দাতার রিটার্নে তা প্রদর্শনের শর্ত থেকে অব্যাহতির সুযোগ রয়েছে।

পারিবারিক ঋণ, উপহার ও দানের আইনগত পার্থক্য বোঝা জরুরি

পারিবারিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ঋণ, উপহার ও দানের মধ্যে আইনগত পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ হিসেবে দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। অন্যদিকে দান বা উপহার সাধারণত কোনো বিনিময় বা ফেরতের শর্ত ছাড়াই প্রদান করা হয়। আবার পারিবারিক প্রয়োজনে দেওয়া ঋণ পরবর্তী সময়ে মওকুফ করা হলে বা দানে রূপান্তরিত হলে তার আইনগত চরিত্রও পরিবর্তিত হয়। এ কারণে একটি লেনদেনকে শুধু পারিবারিক লেনদেন হিসেবে উল্লেখ করাই যথেষ্ট নয়। তা ঋণ, দান, অগ্রিম নাকি অন্য কোনো ধরনের অর্থপ্রাপ্তি, সেটি নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট বিধান প্রয়োগ করতে হবে।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬৭(৮)(গ) ও ৬৭(১৩)-এ নির্দিষ্ট পারিবারিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রয়েছে। বিশেষত ধারা ৬৭(১৩)-এর বিধান সব ধরনের নগদ উপহারের সাধারণ অব্যাহতি নয়; এটি মূলত নির্দিষ্ট সীমার বেশি অগ্রিম, ঋণ বা ডিপোজিট ব্যাংকিং মাধ্যম ছাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিশেষ বিধান। অন্যদিকে দান হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদের অব্যাহতি নির্ধারণে ষষ্ঠ তফসিলের দফা ৩৫ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

তাই শুধু পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কোনো লেনদেনকে করমুক্ত দাবি না করে অর্থের প্রকৃত উৎস, লেনদেনের ধরন, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং রিটার্নে যথাযথ প্রদর্শনের বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি। এতে প্রকৃত পারিবারিক সহযোগিতা যেমন আইনগত সুরক্ষা পাবে, তেমনি কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকির সুযোগও কমবে।

রিটার্নে প্রদর্শনের শর্ত কেন গুরুত্বপূর্ণ

পারিবারিক লেনদেনকে কর অব্যাহতির আওতায় রাখার পাশাপাশি আইন লেনদেনের স্বচ্ছতাকেও গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণে দাতা ও গ্রহীতার রিটার্নে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। একজনের রিটার্নে সম্পদ হ্রাস পেলেও অন্যজনের রিটার্নে সেই সম্পদ বৃদ্ধির তথ্য অনুপস্থিত থাকলে কর কর্তৃপক্ষের কাছে লেনদেনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন হতে পারে। পারিবারিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক বিবরণী, দানপত্র, ঋণচুক্তি, ঋণ মওকুফের ঘোষণা, অর্থের উৎসের প্রমাণ এবং প্রযোজ্য সম্পদ হস্তান্তরের দলিল সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

পারিবারিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কর প্রশাসনের ভূমিকা ও করদাতা সচেতনতা

আয়কর প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত করযোগ্য আয় নির্ধারণ ও কর ফাঁকি প্রতিরোধ করা। তবে আইনসম্মত পারিবারিক লেনদেন এবং অপ্রদর্শিত আয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করা জরুরি। কোনো করদাতা নির্ধারিত পারিবারিক সম্পর্কের ব্যক্তির কাছ থেকে বৈধভাবে অর্থ বা সম্পদ গ্রহণ করলে, তার যথাযথ প্রমাণ থাকলে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উভয়ের রিটার্নে তা সঠিকভাবে প্রদর্শিত হলে সংশ্লিষ্ট কর অব্যাহতির বিধান বিবেচনা করা উচিত। বিপরীতে, পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে অপ্রদর্শিত আয় স্থানান্তর, কৃত্রিম ঋণ বা কাল্পনিক দান দেখানো হলে কর কর্তৃপক্ষের যাচাই করা যৌক্তিক।

তাই কর প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত আইনানুগ, প্রমাণভিত্তিক ও করদাতাবান্ধব। একই সঙ্গে করদাতাদের সচেতনতা বাড়াতে দান, উপহার, ঋণ মওকুফ, নগদ অর্থ ও বিদেশ থেকে প্রাপ্ত পারিবারিক সহায়তা বিষয়ে সহজ নির্দেশিকা, উদাহরণ এবং রিটার্নে প্রদর্শনের স্পষ্ট পদ্ধতি প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে বিরোধ, হয়রানি ও প্রশাসনিক জটিলতা কমবে।

পারিবারিক সহযোগিতা যেন অযৌক্তিক করের বোঝা না হয়

পারিবারিক আর্থিক সহযোগিতা আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পিতা-মাতার সঞ্চয় সন্তানের হাতে তুলে দেওয়া, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পদ হস্তান্তর কিংবা ভাই-বোনের পারস্পরিক আর্থিক সহযোগিতাকে সব ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক আয় বা মুনাফা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাই পারিবারিক সম্পদ বা অর্থ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দানকর আইন ও আয়কর আইনে নির্ধারিত প্রযোজ্য অব্যাহতি ও কর-সুবিধাগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হলে করদাতার আইনসম্মত অধিকার সুরক্ষিত থাকে। তবে দানকর-সংক্রান্ত অব্যাহতি, আয়কর-সংক্রান্ত অব্যাহতি এবং সম্পদ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্যান্য আইনগত বাধ্যবাধকতা—এসব বিষয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

আয়কর আইন, ২০২৩ এবং দানকর আইন, ১৯৯০-এর সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আইনপ্রণেতা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে সংঘটিত প্রকৃত দান ও আর্থিক লেনদেনের জন্য বিশেষ কর অব্যাহতি ও ব্যতিক্রমের ব্যবস্থা রেখেছেন।তবে এই সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে আইনের নির্ধারিত শর্ত, অর্থের বৈধ উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি, যথাযথ প্রমাণ এবং প্রযোজ্য রিটার্নে তথ্য প্রদর্শন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

মূল কথা হলো, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অর্থ বা সম্পদ হস্তান্তর হলেই তা করযোগ্য আয় হয়ে যায় না। আবার পারিবারিক সম্পর্ক থাকলেই সব লেনদেন নিঃশর্তভাবে করমুক্ত হয় না। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত পারিবারিক লেনদেনকে কর অব্যাহতির সুবিধা প্রদান এবং কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে কর ফাঁকি প্রতিরোধ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত একটি ন্যায়সংগত ও করদাতাবান্ধব করব্যবস্থার লক্ষ্য।

লেখক: ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও আর্থিক খাত বিশ্লেষক।





পারিবারিক লেনদেনআয়কর রিটার্ন
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে শতকোটির কাজ বন্ধ,  এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে শতকোটির কাজ বন্ধ, এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

    মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

    ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে মতপার্থক্য সিপিবিতে

    ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে মতপার্থক্য সিপিবিতে

    তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

    তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

    আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর : ডা. জাহিদের ড্যাবের সদস্যপদ স্থগিত

    আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধর : ডা. জাহিদের ড্যাবের সদস্যপদ স্থগিত

    দুই ঘণ্টা পরও সারেনি ত্রুটি, বিমান থেকে নামলেন প্রধানমন্ত্রী

    দুই ঘণ্টা পরও সারেনি ত্রুটি, বিমান থেকে নামলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব

    প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব

    ১৯ দিন নিখোঁজ, ফিরে এসে দুই তরুণী জানালেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা

    ১৯ দিন নিখোঁজ, ফিরে এসে দুই তরুণী জানালেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা

    আমাদের এক কৃষ্ণকুমারী ছিল

    আমাদের এক কৃষ্ণকুমারী ছিল

    পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের আইপিও আবেদন

    পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের আইপিও আবেদন

    সুতোয় ঝুলছে ফকিরের ভাগ্য, নতুন আইজিপির আলোচনায় অনেক নাম

    সুতোয় ঝুলছে ফকিরের ভাগ্য, নতুন আইজিপির আলোচনায় অনেক নাম

    ডিএসইতে শ্রমিক নেই তহবিল আছে, ভাগবাটোয়ারা করে নেন কর্তারা

    ডিএসইতে শ্রমিক নেই তহবিল আছে, ভাগবাটোয়ারা করে নেন কর্তারা

    বিদেশে অপরাধের অর্থ কৌশলে দেশের শেয়ারবাজারে

    বিদেশে অপরাধের অর্থ কৌশলে দেশের শেয়ারবাজারে

    চাপের মুখে গ্রাম ছাড়ার পর টিকটকার মাসুদ দিলেন শ্যালিকার সঙ্গে ডিভোর্সের খবর

    চাপের মুখে গ্রাম ছাড়ার পর টিকটকার মাসুদ দিলেন শ্যালিকার সঙ্গে ডিভোর্সের খবর

    টেড হিউজ: প্রান্তর ও ছায়ার মাঝখানে একটি জীবন

    টেড হিউজ: প্রান্তর ও ছায়ার মাঝখানে একটি জীবন