কেরানীগঞ্জ
১৯ দিন নিখোঁজ, ফিরে এসে দুই তরুণী জানালেন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে সাগর নামে পুলিশের এক সোর্সকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাগর, লামিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগরের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ এলাকায় পাশাপাশি বসবাস করত দুই কিশোরী। গত ২৮ সেপ্টেম্বর তারা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাদের একজনের মা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। দীর্ঘ ১৯ দিন পর গত ১৬ অক্টোবর তারা তাদের নানাবাড়িতে ফিরে আসে। পরে স্বজনদের কাছে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানায়।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, কালীগঞ্জ বাজারের একটি মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় দুই কিশোরীকে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করছেন—এমন আশঙ্কায় সাগর ও লামিয়া তাদের রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে সাগরসহ চার থেকে পাঁচজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে কিশোরী দুটিকে ওই বাড়িতে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে সাগর কদমতলী এলাকায় অবস্থান করছে এবং তাদের আবারও ধরে নিয়ে যেতে পারে—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে না নেমে বিক্রমপুরে তাদের নানাবাড়িতে চলে যায়। পরে স্বজনেরা কিশোরী দুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাদের একজনের মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।



