আইজিপিকে কি সরানো হবে? উপদেষ্টা বললেন, প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনা

পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকির। ফাইল ছবি
ক্রসফায়ার ও সাংবাদিকদের নিয়ে বক্তব্যের পর পুলিশপ্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে সরিয়ে দেওয়ার যে দাবি উঠেছে, সে বিষয়ে সরকারপ্রধান দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা জানান তিনি। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন, পুলিশপ্রধান যেহেতু তার বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন, তাই বিষয়টি এখানেই শেষ হওয়া উচিৎ।
পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, সরকার যদি অনুমতি দেয়, তাহলে ক্রসফায়ারও করবেন তারা। আবার সংবাদকর্মীদের সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকরা লিখছেন ‘পুলিশ অকার্যকর’।
তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাকে অপসারণের দাবি তোলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অন্যদিকে আইজিপিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো।
সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, আইজিপি আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে ক্রসফায়ার শব্দটি বলে ফেলেছিলেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যার অর্থে শব্দটি বলেননি। আর সাংবাদিকদের নিয়ে কথাটি বলেছিলেন অসাবধানতাবশত।
আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ বলেছেন কঠোরতা বোঝাতে, সাংবাদিকদের নিয়ে কথাটি অসাবধানতাবশত
২৬ অক্টোবর ২০২৬
আজ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ সংবাদ সম্মেলনে এলে তাকে সাংবাদিকরা একের পর এক প্রশ্ন করেন আইজিপির বক্তব্য নিয়ে।
জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা আর আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত না। পুলিশ সদর দপ্তর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছে। তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে। তার বক্তব্য দিয়ে তিনি ক্লিয়ার করেছেন, তিনি এটা মিন করেননি। উনি এটা ওউন করেননি।
‘তিনি তার বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। তার বক্তব্যটি মিসকমিউনিকেট হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এটা নিয়ে কনফিউশন আর থাকার সুযোগ নেই।’
আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা জাহেদ।
বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা যদি হয়, তবে তো রাষ্ট্র থাকে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তা হতে পারে না।
‘সরকার ক্রসফায়ার চাইতে পারে না। এটা পুলিশও করতে পারে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনো বেআইনি কাজ করতে বাধ্য নন।’
মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের কারণে ইশরাক হোসেনকে যদি মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়, তাহলে আইজিপির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সাংবাদিকরা তা জানতে চান।
জবাবে উপদেষ্টা বলেছেন, ‘এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো দেশে নেই। তিনি বিবেচনা করবেন। এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা নিশ্চয় তিনি বিবেচনা করবেন। তা তার জাপান সফরের পরে হবে।’
তবে আলী হোসেন তার অবস্থান থেকে সরে আসায় বিষয়টি নিয়ে বাড়তে যাওয়া সমীচীন হবে না বলে মনে করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘তিনি নিজ থেকে বুঝতে পেরেছেন যে তার বক্তব্যের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি যখন তার বক্তব্য থেকে সরে আসেন। তাহলে কি বিষয়টি ক্লিয়ার হয় না?’
আইজিপির ব্যাখ্যা মেনে নিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যায়। আমি আবারও বলছি, যখন কেউ তার অবস্থানকে স্ট্রিক করছেন না, তখন আামরা তার প্রতি আনকাইন্ড হচ্ছি কি না?’






