গঙ্গাচড়ায় পিটুনিতে নিহত দুই, ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ফাইল ছবি
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে পিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
গতকাল রবিবার বিকালে গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়া বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর।
নিহত দুজন হলেন নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা রেজাউল (৫০) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম (২৫)।
গতকাল রবিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তর পানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান সোহেলের বাড়ি থেকে অটোরিকশা চুরি করে পালানোর অভিযোগে ওই দুজনকে ধাওয়া করা হয়। সোহেল ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, ধাওয়া খেয়ে তারা অটোরিকশাটি ফেলে ধানক্ষেত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাদের আটক করে মারধর করা হলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
অটোরিকশার মালিক সোহেল জানিয়েছেন, ভোরে অটোরিকশা চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাকেও টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তার চিৎকার শুনে মসজিদের মুসল্লিরা বেরিয়ে আসেন। পরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয়রা ধাওয়া করেন। পরে তিনি দুজনের মৃত্যুর খবর পান।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানিয়েছেন, রেজাউল আগে থেকেই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তিনি জানেন।
অন্যদিকে, কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, সাদিকুল আগে মাদক সেবন করতেন। ছেলেকে ভালো পথে ফেরাতে তার বাবা অনেক চেষ্টা করেছিলেন। সাদিকুলের ছয় ও চার বছর বয়সী দুটি ছেলে আছে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ লেবু মিয়ার করা হত্যা মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। রেজাউলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির অভিযোগে ৯টি মামলা আছে।




