৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলবে দিনে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গ্যাস সংকট মেটাতে দেশীয় ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দুটি মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন গ্যাস কূপ (তিতাস ৩২ ও ৩৩) খনন’ প্রকল্প নিচ্ছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। আজ রবিবার উপস্থাপন করা হচ্ছে একনেক বৈঠকে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুমোদন পেলে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৫০টি কূপ খনন পরিকল্পনার আওতায় তিতাস ৩২ ও ৩৩ নম্বর কূপ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের আওতায় দুটি কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে গ্যাসের পুরো বিষয়টি আমদানিনির্ভর করা হয়েছিল। দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার গ্যাসের চাহিদা পূরণে দেশীয় গ্যাস কূপ খননসহ দেশীয় কোম্পানির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে একনেকে উঠছে প্রকল্পটি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতি ব্যয় ও অপ্রয়োজনীয় প্রস্তাবের অভিযোগ রয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বিরুদ্ধে। তবে কমিশনের কঠোর আপত্তির মুখে ব্যয় কমেছে পরামর্শকসহ ১৫টি খাতে এবং সম্পূর্ণ বাদ গেছে ৯টি খাত। প্রস্তাবিত প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ১৬ কোটি টাকা থেকে ৩ কোটি ৩০ লাখ কমিয়ে ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া তিন ক্যাটাগরিতে বিদেশি পরামর্শকের বদলে এখন দুই ক্যাটাগরিতে বৈদেশিক ও এক ক্যাটাগরিতে স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগ করা হবে। এসব কারণে প্রস্তাবিত ব্যয় কমেছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আরও কমছে আপ্যায়ন খাতে ১০ লাখ, গাড়ি ভাড়ায় ৫০ লাখ, শ্রমিক মজুরিতে ৪ লাখ, ব্যাংক চার্জে ১ কোটি ৩৫ লাখ, কম্পিউটার সামগ্রীতে ২ লাখ, মনিহারিতে ২ লাখ, সম্মানীতে ১০ লাখ এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদিতে ২ লাখ টাকা। গ্যাস গ্যাদারিংয়ের পাইপলাইনে ৩ কোটি ১৫ লাখ, ৬টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণে ১৮ লাখ, বাউন্ডারি ওয়ালে ১ লাখ, স্থানীয় সরঞ্জাম ও স্পেয়ার্সে ২ লাখ, এসি কেনায় ৬ লাখ, আসবাবপত্রে ১৭ লাখ, ফিজিক্যাল কন্টিনজেন্সিতে ৫ কোটি ৬৯ লাখ এবং প্রাইস কন্টিনজেন্সিতে ব্যয় কমেছে ২০ কোটি টাকা।
পাশাপাশি বাদ দেওয়া হয়েছে বীমা, টেলিফোন বিল, যাতায়াত খরচ ও ওয়্যারহাউজ সংস্কার খাত। এগুলোয় মোট ব্যয় ছিল ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া কেমিক্যাল স্টোরে ৮০ লাখ, গ্রামীণ সড়কে ৯০ লাখ, কালভার্টে ৩৫ লাখ, সিকিউরিটি পোস্ট ও টয়লেট নির্মাণে ৭০ লাখ এবং আনসার ক্যাম্প নির্মাণে বাদ দেওয়া হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোম্পানির বিদ্যমান ওয়েলহেড মার্জিন বিবেচনায় দৈনিক উৎপাদিত গ্যাসের মূল্য ৮ লাখ ৫০ হাজার এবং কনডেনসেটের মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ১০ বছরে ১০০ দশমিক ৭৪ বিসিএফ গ্যাস ও ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনে যথাক্রমে ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ ও ৫৩ কোটি ৮১ লাখ, অর্থাৎ ৩৩৯ কোটি টাকা অর্জিত হবে। অন্যদিকে ভোক্তাপর্যায়ে দৈনিক ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মূল্য ১ কোটি ৯৪ লাখ এবং ১০ বছরে উৎপাদিত ১০০ দশমিক ৭৪ বিসিএফ গ্যাসের মূল্য ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং অর্থনীতিতে আর্থিক সুফল অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।



