চট্টগ্রাম
বাবার বাড়ি থেকে নাস্তা কম পাঠানোয় অন্তঃসত্ত্বাকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

প্রায় পাঁচ মাস আগে দুবাই প্রবাসী মো. তারেকের সঙ্গে বিয়ে হয় সিফাতুন নুরের। ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে মারধরের শিকার এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়িতে তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ওই গৃহবধূর পরিবার।
ওই গৃহবধূর নাম সিফাতুন নুর (২২)। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের মেয়ে সিফাতুনের প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।
সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় তার শাশুড়ি রিজিয়া বেগম এবং দুই ননদ রাশেদা বেগম ও সুমি আক্তার তাকে মারধর করেন। এ সময় তার মাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তার মা জুহিনুর আক্তারকে মারধর করেন। একই সময় দুই ননদ রাশেদা বেগম ও সুমি আক্তার সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগ তাদের।
ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে টানা ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তারের দাবি, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে তার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রচার করা হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানিয়েছেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে। এরপর তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে থানায় নেওয়া হয়েছে।




