আসিফকে টার্গেট করেই গুলি, শুটাররা আসে মগবাজার থেকে
- সিএনজিতে ছিলেন ২ জন, গুলিও করেন ২টি
- বিশাল সেন্টারের প্রায় সব সিসি ক্যামেরাই নষ্ট, বেগ পেতে হচ্ছে তদন্তে
- পার্কিংয়েই ছিল গাড়িটি, আগে থেকেই ফলো করা হয়েছিল আসিফকে

আসিফ আকবর
দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোরে রাজধানীর মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিল্পী আসিফ আকবর প্রায় রাতেই মগবাজার এলাকার নিজ ব্যক্তিগত আইপি স্টুডিওতে কাজ করতে আসতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার রুটিন ও অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থেকেই শুটাররা এই পরিকল্পনা করেছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, হামলাকারীরা সিএনজিযোগে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সিএনজিতে দুইজন ব্যক্তি ছিলেন এবং তারা দুটি গুলি ছোড়েন। হামলাকারীরা মগবাজার দিক থেকে এসে বিশাল সেন্টারের সামনে দাঁড়ায়, পরে টার্গেট করে ২টি গুলি ছুড়ে মালিবাগের দিকে পালিয়ে যায়।
এদিকে তদন্তে নেমে পুলিশ কিছু জটিলতার মুখে পড়েছে। যে বিশাল সেন্টারটির পার্কিংয়ে গাড়িটি রাখা ছিল, সেখানকার প্রায় সব সিসিটিভি ক্যামেরাই অচল অবস্থায় দেখা যায়। ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের অন্যান্য সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান আগামীর সময়কে বলেন, ভোরবেলায় মগবাজারে শিল্পীর ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সে সময় আসিফ আকবর গাড়িতে ছিলেন না। ফলে কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কী কারণে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এই হামলার পেছনে তার ব্যক্তিগত, পেশাগত বা অন্য কোনো ধরনের পূর্বশত্রুতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নেপথ্য কারণ উদঘাটনসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল সেন্টারের সামনে পোশাকে ও সিভিলে অসংখ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনার তদন্ত করছেন। ভবন ঘিরে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও প্রায় সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে। একাধিক দোকানে নিজস্ব ক্যামেরা থাকলেও পার্কিংয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা নেই বলে জানায়।
আসিফ আকবরের আইপি স্টুডিও তালাবদ্ধ থাকলেও তার পাশের রুমে ছিল অফিস সহকারীসহ স্টুডিওতে কাজ করা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। তবে তারা কোনো কথা বলতেই রাজি নয়।
দুপুর ১টা ২০ মিনিটে একটা সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায় বলে জানতে পেরে আসিফের স্টুডিওতে যায় এই প্রতিবেদক। সেখানে ভোর ৪টা ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরা দেখা হলেও ওই ভিডিওতে কিছুই দেখা যায়নি। এর আগের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় কিলারের শুধু পা দেখা যায় বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।





