মান্না দের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
‘চিরদিন রাখবে মনে এমন সময় কারও নেই’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গানের কণ্ঠ খুব যে খারাপ ছিল বা আছে বলা যাবে না। অনেকেই বলতেন নিবিড়ভাবে চর্চা আর দম ধরে রাখতে পারলে কিশোর কুমারের কণ্ঠটার বেশ কাছাকাছি পৌঁছে যেতাম। গান শুনতে ভীষণ ভালোবাসতাম একসময় রেডিও এবং টেলিভিশনে। ফিতার ক্যাসেটের যুগ যখন ছিল তখন থেকেই শুনে আসছি বাংলা ছায়াছবির জনপ্রিয় গান ছাড়াও নানা ধরনের গান। আজকালও শুনি; তবে সেটা এসে ঠেকেছে ইউটিউবে।
মান্না দের আজ ১৩তম মহাপ্রয়াণবার্ষিকী। প্রতিটি শিল্পীর জীবনেই থাকে অনেক কষ্ট। মিডিয়ার কল্যাণে কারও খবর সামনে আসে আর কারওটা কানেই হয়তো আসে না। যদিও শোনা মান্না দের সংস্পর্শে আসা একজনের কাছে যিনি বাংলাদেশে জন্মেছেন কিন্তু কলকাতায় অনেককাল ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। লেখালেখিও করেন ড. অনিন্দ্য কান্তি বিশ্বাস। গেল বছর বাংলাদেশের একটি দৈনিকের ঈদ সংখ্যায় লিখেছিলেন মান্না দের শেষ সাক্ষাৎকার নিয়ে সুবিশাল প্রবন্ধ। বাংলাদেশ ভ্রমণে এলে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনালাপে শুনেছিলাম।
‘চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি বারবার, সফলও হয়েছি’ শিরোনামের মান্না দের শেষ জন্মদিন অর্থাৎ ১ মে ২০১৩ সাক্ষাৎকার গ্রহণের দিনের লেখাটি থেকে জানা যায়, মান্না দের পৈতৃক বাসস্থান উত্তর কলকাতার অন্যতম জনবহুল এলাকা হেঁদুয়ার ৯ নম্বর মদন ঘোষ লেনে। ছেলেবেলায় রাইট ব্যাকে ফুটবল বেশ ভালো খেলতেন। একটু মাস্তানিও করতেন। পাশের পাড়ায় মাস্তানি করতে গিয়ে কয়েকজনকে পিটিয়েও এসেছেন অনেক সময়। আক্ষেপ করেই বলেছেন, বারবার পেছন ফেরা অর্থাৎ অতীত উদাহরণ দেওয়ার প্রবণতা এ বাঙালি জাতিকে অধঃপতনে যেতে সাহায্য করেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সময়ের মূল্য বা গুরুত্ব ভীষণভাবে কমেছে। প্রকৃত শিক্ষকের অভাব দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলেছে। ইচ্ছে ছিল হিন্দি সিনেমার সুরকার হবার। একসময় কারও কারও গলা নকল করেও আনন্দ পেতেন। আর জীবনের শেষ দিকে সাংবাদিকদের এড়াতে। কারণ তাদের অনেকের প্রশ্নে গভীরতা বা বুদ্ধিমত্তা কোনোটাই খুঁজে পেতেন না। অথচ এম জে আকবর, খুশবন্ত সিং প্রমুখ সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেবার আগে ১৫ দিন কিংবা ১ মাস সময় চেয়ে নিতেন। রীতিমতো পড়াশোনা করেও ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন কোন প্রশ্ন আবার করে বসে। বারবার তিনি ভেসে গেছেন মানুষের উষ্ণ ভালোবাসার ছোঁয়ায়।
মূলত স্ত্রী সুলোচনা দেবীর দেহ ত্যাগের পর বেশ নিঃসঙ্গ জীবনযাপন শুরু হয়েছিল মহান এ শিল্পীর। ব্যাঙ্গালুরুতে মেয়ে সুমিতা দের বাসায় থাকতেন। সকালে কফি শপে কাজে যাবার সময় মান্না দেকে ভেতরে আবদ্ধ রেখে বাইরে থেকে তালা মেরে যেতেন সুমিতা আর কাজ শেষে ফিরতেন আনুমানিক রাত ১২টায়।
শুনেছি শিল্পী আরতি মুখোপাধ্যায় মান্না দের জন্মদিনে ফুলের শুভেচ্ছা নিয়ে এলে তাদের দুজনার কথা হয় জানালায় দাঁড়িয়ে। ভাবা যায়! সারাটা জীবন নিজের জীবনটা উৎসর্গ করে গেলেন আমাদের গান শোনাতে শেষ জীবনে নিজের মেয়ের মুখ থেকেই নাকি তাকে শুনতে হয়েছে— ভগবান কেন যে তোমায় উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন না!’
কে জানে শেষ জীবনে আমাদের ললাটেইবা কি আছে! অথচ এই মেয়েকে নিয়েই জীবনের শেষ দিকে ‘বাবা-মেয়ের গান’ শিরোনামে দ্বৈত একটি অ্যালবাম করেছিলেন যার লিরিক ছিল—
শুধু আমি কেন বলুক সবাই বলুক
আমার মেয়ে সোনার মেয়ে
এই আমার চোখের আলোয় জ্বলুক
আমি কেন বলুক সবাই বলুক
শুধু আমি কেন বলুক যত মেয়ে
সোনা হলো বাবার আদর পেয়ে
বাবা মেয়ের সুখের এ গান
সবারই প্রাণে বেজে চলুক
আমি কেন বলুক সবাই বলুক
শুধু আমি কেন বলুক সবাই বলুক
কি জানে না যারা
জানুক তারা জানুক
সোহাগের টান সব সেরা টান
মানুক সবাই মানুক
শুধু আমি কেন দেখুক সবাই এসে
কী রঙ আমার ভালোবাসায় মেশে
বাবা মেয়ের সুখের এ গান
সবারই দুখের কাটা দলুক
আমি কেন বলুক সবাই বলুক
শুধু আমি কেন বলুক সবাই বলুক
রংপুর মেডিকাল কলেজের ৩৫তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশনে সেই কলেজের সে সময়ের প্রখ্যাত গাইনোকলজিস্ট প্রফেসর ডা. মো. আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে শোনা একটা কথা মনে আজও রেখাপাত করে। তিনি সেদিন বলেছিলেন ‘যে গান এবং কবিতা দুঃখের হয় তা চিরস্থায়ী হয়’।
ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি ওপার বাংলার গান। বিশেষ করে চাচা আমিনুল হকের ছিল পুরনো দিনের বাংলা গানের রেকর্ড সংগ্রহের অভ্যাস। বৃষ্টির দিনে টিনের চালে ঝমঝম শব্দ হতো যখন আর বাইরে যেতে আটকে পড়তেন সবাই কিংবা সকাল বা সন্ধ্যায় একান্নবর্তী পরিবারের সিংহভাগ মানুষরা একসঙ্গে কাটাতাম। পাঁচ দশক আগে গানপাগল এ মানুষটিই দুঃখের গানের একের পর এক রেকর্ড বাজিয়ে চলতেন।
অমন গান কেন শুনতেন আজ বুঝি! বিশেষ করে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কিংবা মান্না দের রেকর্ডগুলো বাজালে মেজাজটা আরও বিগড়ে যেত। আরে বাবা গান শুনব ধুমধাড়াক্কা মার্কা। কী সব ঘুমপাড়ানি গান শোনে। মনে হয় কান্না চলে আসবে। একটু বড়ো হয়ে যখন কোনো বিষয়ে আহত হতাম কালজয়ী এসব গানই জোগাত নতুন করে বাচার শক্তি।
মানুষের জীবনে কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যায় লাখ টাকা খরচ করলেও পাওয়া যায় না। বাংলা একাডেমিতে কাজ করার সুবাদে পুরোনো সহকর্মীদের কাছ থেকে অনেক পুরনো গল্পের মাঝে যখন শুনতে পেতাম ওপার বাংলার শিল্পী বিশেষ করে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কিংবা ভূপেন হাজারিকার কথা, যাঁরা গান গেয়ে গেছেন এই প্রতিষ্ঠানে এসে তখন বড় আফসোস হতো।
অমর একুশে গ্রন্থমেলা (তখন অবশ্য বইমেলা বলা হতো না) ২০০৯-এর ১৮তম দিনে গুঞ্জন উঠল কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মান্না দে আসবেন। আগের রাতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল (শেরাটন নামে সমধিক পরিচিত হলেও ক-বছর আগে নাম রাখা হয়েছিল রূপসী বাংলা)-এ ছিল মান্না দে নাইট।
বাংলাদেশে এসেছেন আর বাংলা একাডেমিতে আসবেন না তা কি হতে পারে! কাছাকাছি দেখব তার গান শুনব, অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করছিল। মনে মনে গেয়ে চলছিলাম তাঁর গাওয়া কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, এইতো সেদিন তুমি আমারে বোঝালে, যদি হিমালয় আল্পসের সমস্ত জমাট বরফ একদিন গলেও যায় তবুও তুমি আমার, ললিতা ওকে আজ চলে যেতে বল না, যদি কাগজে লেখো নাম কাগজ ছিঁড়ে যাবে পাথরে লেখো নাম, কথায় কথায় যে রাত হয়ে যায় কী কথা রাখলে বাকি, মিষ্টি একটা গন্ধ রয়েছে ঘরটা জুড়ে, এই জীবনের বেশিটাই দুঃখ তবু একটু সময়ের জন্য যদি দুঃখ ভোলাতে পারে কোনো গান, সে আমার ছোটবোন বড়ো আদরের ছোটবোন, আমার চোখে বর্ষা বুকে ঝড়, মা মাগো মা আমি ছিলাম তোমার কোলে, সেই তো আবার কাছে এলে এতদিন দূরে থেকে বলো না কি সুখ তুমি পেলে, আমি আজ আকাশের মতো একেলা, আমি ফুল না হয়ে কাঁটা হয়েই বেশ ছিলাম, সে কি ভোলা যায় তুমি আমারই ছিলে আমি তোমারই ছিলাম, হয়তো তোমারই জন্য হয়েছি প্রেমে যে বন্য জানি তুমি অনন্য আশার হাত বাড়াই, অনেক কথা বলেও তবু সব কথা কি শেষ করা যায়, আবার হবে তো দেখা এ দেখাই শেষ দেখা নয় তো, আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে, আমি সাগরের বেলা তুমি দুরন্ত ঢেউ, ও আমার মন যমুনার অঙ্গে অঙ্গে ভাব তরঙ্গে কতই খেলা, খুব জানতে ইচ্ছে করে, চাঁদের আশায় নিভিয়েছিলাম যে দীপ আপন হাতে, দীপ ছিল শিখা ছিল, তুই কি আমার পুতুল পুতুল সেই ছোট্ট মেয়ে, পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেইদিন ফিরে আর আসবে কি কখনও, সুন্দরী গো দোহাই দোহাই মান করো না, জানি তোমার প্রেমের যোগ্য আমি তো নই, যখন কেউ আমাকে পাগল বলে, একি অপূর্ব প্রেম দিলে বিধাতা আমায়, ওগো বর্ষা তুমি ঝরো নাগো অমন জোরে, কতদিন দেখিনি তোমায়, কফোটা চোখের জল ফেলেছো যে তুমি ভালোবাসবে, কী এমন কথা তাকে বলা গেল না, তীর ভাঙ্গা ঢেউ, শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে বাহিরে ঝড় বহে নয়নে বারি ঝরেÑ এসব জনপ্রিয় সব গান।
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে মান্না দে এবং তাঁর সহধর্মিণী সুলোচনা দেবীর সাথে বাংলা একাডেমির প্রেস ভবনে লেখক
বইমেলা শুরুর আগে আসার কথা থাকলেও এলেন বেশকিছু সময় পর। আমি আর সহকর্মী মিঠু ভাই (নাসিরুল ইসলাম এখন অবশ্য কানাডাপ্রবাসী) প্রস্তুত হয়ে আছি কখন একনজর অন্তত দেখতে পাব প্রিয় এই শিল্পীকে।
সাদা একটি মোটরকারে চেপে মান্না দে প্রবেশ করলেন বাংলা একাডেমির প্রেস বিল্ডিং (কবি জসীমউদ্দীন ভবন)-এর নিচে। ৯০ ছুঁই ছুঁই মানুষটার কিছুটা তন্দ্রা এসেছিল। মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ কারের দরজা খুলে দিতেই বলে উঠলেন, ‘কোথায় এলুম?’ এতক্ষণ তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ‘এটা দাদা বাংলা একাডেমি।’ জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখানেই কি তবে বইমেলা হচ্ছে।’ এদিক সেদিক তাকিয়ে মান্না দে কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারলেন না।
সিঁড়ির কাছে নিয়ে যেতেই মান্না দেকে অনুরোধ করা হলো দোতলায় উঠতে। বসার আয়োজন করা হয়েছে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সভাগৃহ-এ। বললেনÑ‘সিঁড়ি ভাঙতে বেশ অসুবিধে হচ্ছে। বরং নিচেই কোথাও একটা চেয়ার দিন। এখানেই বসার ব্যবস্থা করুন। একটু জিরিয়ে নিই।’
বাংলা একাডেমির প্রেস ব্যবস্থাপক-এর রুমে মান্না দেকে নিয়ে যাওয়া হলো। একাডেমির পক্ষ থেকে মান্না দেকে উপহার দেয়া হলো। শুরুতেই বললেন, ‘আমাদের কোনো টিভি চ্যানেলই ডেডিকেটেড নয় মিউজিক-এর জন্য। চ্যানেলগুলোতে শুধু নাচ আর নাচ। আমরা তো মিউজিক-এর মানুষ।’
কেউ একজন বললেনÑ‘দাদা, মিউজিক আর সাহিত্য তো কাছাকাছি।’ মান্না দে বললেন, ‘আজকালকার আধুনিক বাংলা কবিতা আপনারা পড়েছেন? একটা লাইনের সঙ্গে আরেকটা লাইনের কোনো মিল খুজে পান।’ মহাপরিচালক মহোদয় বললেন, ‘একটা লাইনের সঙ্গে আরেকটা লাইনের ছন্দ না থাকলেও ভেতরে তো ছন্দ আছে।’ ‘আপনারা কি আজকাল হিন্দি চ্যানেল দেখেন? কেন দেখেন, বলুন তো। দুমাদুম নাচ আর নাচ। হিন্দি চ্যানেল খুললেই অমিতাভ বচ্চন; কেয়া বাত হ্যায় চুমা চুমা দে দে! আপনাদের এখানে আপনারা যে বাংলা গান করেন এটা একটা মস্ত স্যাটিসফ্যাকশন। এপার বাংলার গানই তো বাংলা গানকে বাচিয়ে রেখেছে। ওয়েস্ট বেঙ্গলের গানবাজনার অবস্থা অত্যন্ত করুণ। আপনারা সেখানকার ব্যান্ড-এর গান কেউ শুনেছেন?’ পাশে থেকে নচিকেতার নাম সাহস করেই আমি উচ্চারণের সাথে সাথে ‘নো নো, নচিকেতা। হি ইজ আ ট্যালেন্টেড ম্যান। আপনারা তার গান শুনবেন। হি ইজ ভেরি ইনটেলিজেন্ট। আমাদের যারা ব্যান্ডসংগীত করে এরা শুধু লক্ষঝম্প করে আর দুম দুম করে বাজনা বাজায়।’
কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে সংগীতে তালিম নেয়া মান্না দে ভারতীয় সংগীত জগতে জায়গা করে নেবার জন্য ক্ল্যাসিকাল মিউজিককেই বেছে নিয়েছিলেন। ভুল করেননি বিন্দুমাত্র। আমরা যারা তাঁর শ্রোতা রয়েছি ক্ল্যাসিকাল মিউজিক বুঝি আর নাইবা বুঝি মান্না দের গান প্রচ- ভালোবাসি। বিশেষ করে সবাই তো সুখী হতে চায়, তবু কেউ সুখী হয় কেউ হয় না এই একটি গান শুনেই যে কেউ তার ভক্ত হয়ে যেতে পারেন নিঃসন্দেহে।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমাদের সেদিন গান শোনাতে না পারলেও তার যে খুব কাছাকাছি আসতে পেরেছিলাম এবং একটা প্রশ্ন রেখেছিলাম তাতেই জীবন ধন্য।
এক জীবনে মানুষের সব আশা পূর্ণ হয় না। আমার ক্ষেত্রেও হয়তো তাই। মান্না দে যখন বাংলা একাডেমি ছেড়ে চলে গেলেন আমার মনে পড়ছিল সেই প্রিয় গানটি ‘আজ আবার সেই পথে দেখা হয়ে গেল, কত সুর কত গান মনে পড়ে গেল, বলো ভালো আছো তো, বলো ভালো আছো তো...’।
কৃষিবিদ, লেখক ও গবেষক, সহপরিচালক, বাংলা একাডেমি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র, পায়রাবন্দ, মিঠাপুকুর, রংপুর





