মুক্তাগাছা
সৌদিতে চাকরির প্রলোভনে নারীকে নিয়ে বিক্রি, চাচাতো ভাই গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ইলিয়াছ মিয়া
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে নিয়ে দুই বছরের জন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
সৌদি আরবে আটকে রেখে ওই নারীকে যৌন নিপীড়ন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী মোছা. শারমিন খাতুনের (২৮) বাড়ি মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের মণ্ডলসেন গ্রামে। অভিযুক্ত ইলিয়াছ মিয়া (৩৫) তার প্রতিবেশী ও চাচাতো ভাই।
শারমিনের অভিযোগ, ২০২০ সালে স্বামীর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। এ সময় ইলিয়াছ তাকে সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার কথায় রাজি হলে ইলিয়াছ পাসপোর্ট তৈরি ও বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর সৌদি আরবে যান শারমিন।
অভিযোগে বলা হয়, সৌদি আরবের বিমানবন্দর থেকে শারমিনকে নিয়ে যান ইলিয়াছ। পরে তাকে মালিক বিন ফাহাদ সুলেমান নামের এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ব্যক্তি সৌদি আরবে তার কফিল বা নিয়োগকর্তা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আরবি ভাষায় লেখা একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, ওই ব্যক্তির বাড়িতে তাকে আটকে রেখে দিনের পর দিন যৌন নিপীড়ন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে তাকে জানানো হয়, ইলিয়াছ তাকে দুই বছরের জন্য ওই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ সময় তাকে প্রতি মাসে এক হাজার সৌদি রিয়াল দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রায় দেড় বছর ওই বাড়িতে থাকার পর শারমিনকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ইলিয়াছের সহযোগিতায় দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে ইলিয়াছের বিরুদ্ধে নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ জানতে পারেন বলে দাবি করেন শারমিন। পরে স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ইলিয়াছের বিরুদ্ধে মুক্তাগাছা থানায় লিখিত এজাহার দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইলিয়াছ মিয়া বলেন, ‘কফিলের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। কফিল আমার এখানে দুইবার এসেছেন। তার কাছ থেকে টাকা এনে আমি এলাকায় পাঁচটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। এই মেয়ের বাবাকে নিয়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য কাজি অফিসে কয়েকবার গিয়েছি। কাজি সাহেব সরাসরি না করে দিয়েছেন। পরে এই মেয়ে খাদেমা ভিসায় গেছে। আমি দুজনকে নিয়েছি, একজন এখনো সেখানে আছে।’
স্থানীয় প্রতিবেশী রুহুল আমিন বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে, মেয়ের বক্তব্য শুনেছি। তার বক্তব্য থেকে বোঝা গেছে, ছেলেটি অপরাধী। তবে ছেলের কাছ থেকে আমরা কিছু শুনিনি। অপরাধী যে-ই হোক, ছেলে বা মেয়ে, সুষ্ঠু বিচার যেন সবাই পায়।’
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে নেওয়ার পর ওই নারীকে এক কফিলের কাছে দুই বছরের জন্য বিক্রি করে দেওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। মানবপাচার আইনে মামলাটি রুজু করার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।



