সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-কন্যা, দাফন প্রশাসনের সহায়তায়

মানিক পশারীর কবর খুঁড়ছেন পরিবারের নারী সদস্যরা। ছবি: আগামীর সময়
পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে প্রশাসনের পাহারায়।
দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া নিয়ে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার পর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশি নিরাপত্তায় রবিবার প্রথম প্রহরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
পশারীর পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার পর ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে মারা যান। শনিবার দুপুরে তার মরদেহ পিরোজপুরে নেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য মরদেহটি সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে সেখানে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী হওয়ায় মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে বাধা দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ মরদেহ নিয়ে যায় জেলা পুলিশ লাইন্সে। পরে সেখানে প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম জানিয়েছেন, গার্ড অব অনার দেওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহ হস্তান্তর না করে কিছু সময় পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
২০০৯ সালের ১২ আগস্ট জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন মানিক পশারী।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে আপিলে সেই সাজা কমে হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড। কারাভোগের মধ্যে ২০২৩ সালে মারা যান তিনি।
সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। ওই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য তার ছেলে মাসুদ সাঈদী।




