কর্ণফুলী গার্ডেন শপিং কমপ্লেক্স
’৯৮-এর অভিজাত, ’২৬-এ স্মৃতির ধুলো

ছবি: আগামীর সময়
চার তলার ওপরে সবুজ উদ্যান; আছে চলন্ত সিঁড়ি, ক্যাপসুল লিফট, সিসিটিভি; ছোটদের খেলার জন্য পার্ক- এটা স্বপ্ন নয়, সত্যি। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনে এমন বিজ্ঞাপনেই ফুটিয়ে তোলা হতো কর্ণফুলী গার্ডেন সিটিকে। ঢাকার কাকরাইলের তখনকার সময়ের অত্যাধুনিক এই শপিং কমপ্লেক্স ঘিরে অনেকেরই রয়েছে নানা স্মৃতি।
সেই স্মৃতি এখন আক্ষরিক অর্থেই স্মৃতি হতে চলছে। ২৮ বছর পর গত ১ অক্টোবর বন্ধ হয়ে গেল রাজধানীর এই শপিং কমপ্লেক্সটি। বিকিকিনির পসরা আর বসছে না, এখন শুধু আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টগুলোই থাকবে সেখানে।
সালটা ১৯৯৮। তখন চালু হয়েছিল কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি । ঢাকায় তখন ছিল না উঁচু উঁচু ইমারত। অভিজাত শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল এটি।
সময়ের পরিক্রমায় উড়াল সড়ক নির্মাণের প্রভাব, মহামারীকালে ব্যবসায় ধস, ক্রেতাদের আস্থার সংকট এবং বড় শপিংমলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারাসহ নানা কারণে সেই শপিংমলটি রং হারিয়েছিল আগেই।
একসময় যেখানে ১৯৮টি দোকান ছিল, সেখানে বন্ধ ঘোষণার আগে চালু ছিল মাত্র ২৩ থেকে ২৫টি। ক্রেতা কমে যাওয়া, সার্ভিস চার্জ আদায় না হওয়া এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ায় শেষ পর্যন্ত শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট মালিকেরা।
কাকরাইলে শপিং কমপ্লেক্সটির সামনে আজ গিয়ে দেখা যায়, মূল প্রবেশপথের শাটার নামানো। সেখানে ঝুলছে বন্ধের ঘোষণা-সংবলিত ব্যানার। এতে লেখা রয়েছে, ‘১/১০/২০২৬ ইং তারিখ হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে।’
একসময় যেখানে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। তবে মূল ফটকের বাইরে দুই পাশে কয়েকটি দোকান এখনো খোলা রয়েছে।
ফ্লাইওভার থেকে কোভিডকাল, ধাপে ধাপে পতন
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত এক দশকে কয়েকটি ধাপে ব্যবসায়িকভাবে পিছিয়ে পড়ে মার্কেটটি। এর অন্যতম কারণ শান্তিনগর ফ্লাইওভার নির্মাণ। ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্মাণকাজ চলাকালে রাস্তাঘাট বন্ধ ও সংস্কারের কারণে মার্কেটে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যায়।
প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ তেজগাঁও-শান্তিনগর উড়ালসড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এই দীর্ঘ সময়ে ভালো ব্যবসায়ীদের অনেকে সাময়িকভাবে অন্য মার্কেটে চলে যান। ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হওয়ার পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলেও তাদের কেউ কেউ আর ফিরে আসেননি।
এরপর মহামারির সময় দীর্ঘ লকডাউন ও সরাসরি দোকানে কেনাকাটা কমে যাওয়ায় ব্যবসায় বড় ধাক্কা লাগে। একই সময়ে অনলাইন ও ফেসবুকভিত্তিক কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। লোকসানের চাপ সামলাতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী দোকান ছেড়ে চলে যান।
কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকী বিল্লাহ ওসমানী বললেন, ফ্লাইওভার নির্মাণ ও সড়ক সংস্কারের সময় ক্রেতাদের যাতায়াত কমে যায়। তখন ভালো ব্যবসায়ীদের অনেকে অন্য মার্কেটে চলে যান। পরে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হলেও তাদের অনেকেই আর ফেরেননি। করোনার সময়ও বেশ কিছু ব্যবসায়ী চলে যান।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কেনাকাটার ধরন পরিবর্তন এবং বড় শপিংমলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
বিদেশি পণ্যের নামে প্রতারণায় আস্থার সংকট
শপিং কমপ্লেক্সটির ক্রেতা কমে যাওয়ার পেছনে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণাকেও দায়ী করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের অভিযোগ, কিছু দোকানি জিঞ্জিরা ও চকবাজারের মতো এলাকা থেকে পণ্য এনে বিদেশি ব্র্যান্ডের বলে বিক্রি করতেন। এতে ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হয়। বিশেষ করে অভিজাত ও নিয়মিত ক্রেতাদের অনেকে এই মার্কেট থেকে কেনাকাটা বন্ধ করে দেন।
অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে বাকী বিল্লাহ বলেন, কিছু ব্যবসায়ী জিঞ্জিরা ও চকবাজার থেকে পণ্য এনে দুবাই বা অন্য দেশ থেকে আমদানি করা বলে বিক্রি করতেন। ফলে প্রিমিয়াম ও বিশ্বস্ত ক্রেতাদের একটি অংশ মার্কেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
১৯৮টি থেকে ২৫টিতে
১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সটি বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী কর্ণফুলী গ্রুপের রিয়েল এস্টেট উইংয়ের মাধ্যমে নির্মিত হয়। ২০ তলা ভবনটির নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ছিল শপিং কমপ্লেক্স। ওপরের তলাগুলো আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিপণি কেন্দ্রটিতে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, উপহারসামগ্রী ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ছিল। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট ও বাগান। চালুর সময় এখানে ১৯৮টি দোকান থাকলেও বন্ধের আগে চালু ছিল মাত্র ২৩ থেকে ২৫টি।
দোকান কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে ক্রেতাদের আনাগোনা ও আয়। নিয়মিত সার্ভিস চার্জ আদায় না হওয়ায় ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া জমতে থাকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। একপর্যায়ে সম্মিলিতভাবে শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন দোকানমালিকেরা।
বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘সার্ভিস চার্জ আসছিল না। বিদ্যুৎ বিলও প্রায় ৫০ লাখ টাকা বকেয়া হয়ে গেছে। এ কারণে সব মালিক সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কেট বন্ধ রেখেছেন।’
বন্ধ ঘোষণার প্রায় এক মাস হতে চললেও বিষয়টি এখনো অনেক ক্রেতার জানা নেই। ফলে কেনাকাটা করতে এসে মূল ফটক বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন তারা
মূল ফটকের বাইরে খোলা কয়েকটি দোকান
শপিং কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশপথ বন্ধ থাকলেও বাইরে দুই পাশে কয়েকটি দোকান এখনো খোলা রয়েছে। এর মধ্যে পোশাকের ব্র্যান্ড দ্য রেমন্ড শপ, দ্য মেজবান ডাইন, পিজ্জা চান-জি, জুসের দোকান, কাচ্চি ভাই ও সুমি’স হট কেক রয়েছে।
জুসের দোকানের মালিক জাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মাস শেষ হলে তিনিও দোকান ছেড়ে দেবেন। তবে অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের আউটলেট বন্ধের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
দ্য রেমন্ড শপের ব্যবস্থাপক মো. নাইম বলেন, কয়েক বছর ধরে তাদের বিক্রি কমেছে। তবে বড় ব্র্যান্ড হওয়ায় একটি আউটলেটের বিক্রির ওপর পুরো ব্যবসা নির্ভর করে না। তাই বিক্রি কমলেও আপাতত আউটলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিই।
দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকী বিল্লাহ জানান, মূল ফটকের বাইরে থাকা দোকানগুলো থেকে পাওয়া ভাড়া দিয়ে নিরাপত্তারক্ষী, ব্যবস্থাপকসহ কয়েকজন কর্মচারীর বেতন এবং দৈনন্দিন কিছু খরচ মেটানো হচ্ছে। এসব দোকান মূল ফটকের বাইরে থাকায় সেগুলো খোলা রাখা হয়েছে। ভেতরে থাকা দোকানগুলো খোলা থাকলে সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হতো।
ডাকাতির ক্ষতি, ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
শপিং কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তৃতীয় তলায় জুয়েলারির দোকান ছিল তপনের। তার দোকানের নাম ছিল মোহনা জুয়েলার্স। বন্ধের নোটিশ পাওয়ার পর তিনি অস্থায়ীভাবে নয়াপল্টনের চায়না টাউন শপিং কমপ্লেক্সে ব্যবসা চালাচ্ছেন।
তপন জানালেন, ২০০৪ সালে তার দোকানে একবার ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরে ২০২১ সালে মোহনা জুয়েলার্সসহ দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়। সে সময় দোকানের তালা ভেঙে মোহনা জুয়েলার্স ও জুয়েল অ্যাভিনিউ থেকে প্রায় ৭৫০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।
তার অভিযোগ, শপিং কমপ্লেক্সটির ব্যবস্থাপনায় মালিক সমিতির যথাযথ ভূমিকা না থাকাও এর পতনের অন্যতম কারণ। মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থায়ীভাবে নতুন দোকান খুঁজতে তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তবে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ হওয়ার পেছনে মালিক সমিতির ব্যর্থতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি এ কে এম ইকবাল।
তিনি বলেন, ‘শপিং সেন্টার বন্ধ হওয়ার পেছনে মালিক সমিতির দায় নেই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি দায়িত্বে ছিলেন। আমরাও দোকানের মালিক। আমরা সব সময় চাইতাম, শপিং কমপ্লেক্সটি ভালো চলুক। এটি ভালো চললে আমাদের দোকানেরই লাভ হতো।’
ইকবাল বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি ঢাকার অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ শপিংমল ছিল। পরে বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কের মতো বড় শপিংমল গড়ে ওঠায় ক্রেতারা সেদিকে ঝুঁকেছেন। ফলে ছোট এই শপিংমলটি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে।
বন্ধের খবর না জেনেই ফিরছেন ক্রেতারা
শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধ ঘোষণার প্রায় এক মাস হতে চললেও বিষয়টি এখনো অনেক ক্রেতার জানা নেই। ফলে কেনাকাটা করতে এসে মূল ফটক বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন তারা।
কাকরাইল থেকে আসা মো. নাজীমউদ্দীন শপিংমলের সামনে এসে বন্ধ ফটক দেখে থেমে যান। পরে প্রতিবেদকের কাছে জানতে চান, শপিংমল খোলেনি কেন।
নাজীমউদ্দীন জানান, মাসে অন্তত একবার তিনি এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। বাসার কাছে হওয়ায় এই শপিংমল থেকেই সাধারণত কেনাকাটা করেন। এবার এসে বন্ধ দেখতে পেয়ে তিনি অবাক হয়েছেন।
লাবনী আক্তার এসেছেন আট বছরের ছেলেকে নিয়ে। তিনি জানান, আগের দিন এসেও শপিংমলটি বন্ধ দেখেছিলেন। তখন ভেবেছিলেন, দুর্গাপূজার ছুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। তাই ছেলের জন্য পোশাক কিনতে আবার এসেছেন। কিন্তু এবারও বন্ধ পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাকে।
একসময় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নানা পণ্যের সমাহারে ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি। সময়ের পরিবর্তন, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা, ক্রেতাদের আস্থার সংকট ও আর্থিক চাপের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে প্রায় তিন দশকের এই শপিংমলকে। এখন সেখানে নতুন কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, নাকি হাসপাতাল বা অন্য কোনো স্থাপনা তৈরি হয়, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
হাসপাতাল, ব্যাংক নাকি করপোরেট অফিস?
শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধ হওয়ার পর ভবনটিতে কী করা হবে, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, সেখানে অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতাল কিংবা ইবনে সিনার কোনো প্রতিষ্ঠান হতে পারে বলে তারা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য তাদের জানা নেই।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম ইকবাল বলেন, ভবনটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা। সেখানে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে।
সাধারণ সম্পাদক বাকী বিল্লাহ জানান, ভবনটি ব্যবহারের বিষয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। হাসপাতাল, করপোরেট কোম্পানি ও ব্যাংকও রয়েছে। তবে কোনো পক্ষের সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত কিছু হয়নি, কোনো চুক্তিও হয়নি।’
তিনি আরও জানান, শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্তের আওতায় ভবনের ওপরের তলাগুলোর আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট নেই। সেগুলো আগের মতোই আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হবে।






