কথা ঘুরিয়ে রুমি এখন বললেন, কেন দেশ ছাড়ব?

শাহজালাল রুমি—ফাইল ছবি
কথা ঘোরালেন শাহজালাল রুমি। দেশ ছাড়ার খবর দেওয়ার এক দিন পর তিনি বললেন, পালাব কেন?
টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুটির বাবা রুমি সারা দেশেই পরিচিত ব্যক্তি। অভিযোগের মুখে থাকা শিক্ষককে চড় কষিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।
সেই ঘটনায় মামলার পর রুমি গতকাল সোমবার আগামীর সময়কে বলেছিলেন, ‘আমি এই দেশে আর নাই। এগুলা নিয়ে আর ভাবছি না, যা হয় হোক, আপনারা ভালো থাকেন।’
তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছিল আগামীর সময়ের। আজ মঙ্গলবার আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি, আমি পালাব কেন, দেশের বাইরে কেন যাব?’
তাহলে গতকাল দেশ ছাড়ার কথা কেন বললেন- প্রশ্ন করলে তার উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন রুমি। এরপর খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
নিজের অবস্থানের বিষয়ে কোনো তথ্যই দিচ্ছেন না রুমি।
টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার যে বাসায় রুমির পরিবার থাকত, সেটি এখন তালাবদ্ধ।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, শিশুটির পরিবার শুক্রবার বাসাটি ছেড়ে চলে গেছে।
তারা ওই বাড়ির ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন। শাহজালাল রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন। রুমি তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন।
গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসায় রুমির ৭ বছরের সন্তানকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধর করেন শাহজালাল রুমি। পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে রুমিকে আসামি করে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ মারধরের অভিযোগ করা হয় সেই মামলায়।
এই পাল্টা মামলা দায়েরের পর থেকেই মূলত আড়ালে চলে যান শাহজালাল রুমি।




