Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
পরিবেশবান্ধব চুলা ছড়িয়ে দেন কবুলজান
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাহিত্য

সিলভিয়া প্লাথের একমাত্র সাক্ষাৎকার

শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫২
শেয়ার করুন:
সিলভিয়া প্লাথের একমাত্র সাক্ষাৎকার

মার্কিন কবি ও ঔপন্যাসিক সিলভিয়া প্লাথ

সিলভিয়া প্লাথ (১৯৩২–১৯৬৩)। প্রভাবসঞ্চারী মার্কিন কবি ও ঔপন্যাসিক। ম্যাসাচুসেটসের বোস্টনে জন্ম, স্মিথ কলেজ ও কেমব্রিজে ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৬০ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে এসে স্বামী টেড হিউজের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন; ১৯৬২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তার বিখ্যাত কবিতাগুলোর বড় অংশ—যেমন ‘ড্যাডি’, ‘লেডি ল্যাজারাস’— এই বিচ্ছেদ-পরবর্তী সময়েই লেখা, এবং মৃত্যুর পর ‘এরিয়েল’ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

এই সাক্ষাৎকারটি ১৯৬২ সালের ৩০ অক্টোবর রেকর্ড করা হয়, ‘দ্য পোয়েট স্পিকস’ সিরিজের অংশ হিসেবে। সে সময় প্লাথ তার সবচেয়ে উর্বর সৃজনশীল পর্বের মধ্যে ছিলেন— টেড হিউজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর লন্ডনে দুই সন্তান নিয়ে একা থাকছেন এবং এরিয়েলের কবিতাগুলো দ্রুত লিখে চলেছেন। সাক্ষাৎকারের আগে তিনি পনেরোটি কবিতা পড়ে শোনান, যা পরে এরিয়েলে সংকলিত হয়। অর্থাৎ, যে সময়ে তিনি তার সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন কবিতাগুলো লিখছেন, ঠিক সেই সময়েই এই আলাপটি ধারণ করা হয়েছিল।

এখানে তার সঙ্গে আলাপ করেছেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের রেকর্ডেড সাউন্ড বিভাগের প্রধান পিটার অর। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত তিনি সহকর্মীদের নিয়ে ‘দ্য পোয়েট স্পিকস’ প্রকল্পের অধীনে দুইশোর বেশি কবির সাক্ষাৎকার নেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল কবিদের নিজ কণ্ঠে কবিতা পাঠ ও কবিতা সম্পর্কিত আলাপ ধারণ করা, যা পরবর্তী সময়ে রুটলেজ থেকে ১৯৬৬ সালে বই আকারেও প্রকাশিত হয়।

অনুবাদ ও ভূমিকা : শিমুল সালাহ্উদ্দিন

পিটার অর
পিটার অর : সিলভিয়া, আপনি কীভাবে কবিতা লেখা শুরু করলেন?

সিলভিয়া প্লাথ : কীভাবে শুরু করলাম জানি না; খুব ছোটবেলা থেকেই লিখতাম। আমি মনে করতে পারি যে আমার ছড়া-কবিতা ভালো লাগত, আর ভাবতাম আমি যেমন ইচ্ছা তেমন লিখতে পারি। আমার প্রথম কবিতা, প্রথম প্রকাশিত কবিতা, লিখেছিলাম যখন আমার আট বছর ছয় মাস। সেটি দ্য বস্টন ট্রাভেলারে প্রকাশিত হয়, আর তখন থেকেই বলতে গেলে কিছুটা পেশাদার হয়ে গেছি।

পিটার অর : শুরুতে আপনি কী ধরনের বিষয় নিয়ে লিখতেন?

সিলভিয়া প্লাথ : প্রকৃতি। আমি মনে করি— পাখি, মৌমাছি, বসন্ত, শরৎ— এসব বিষয় সেই মানুষের জন্য একেবারে উপহার, যার লেখার মতো কোনো অন্তর্জগতের অভিজ্ঞতা নেই। আমি মনে করি বসন্তের আগমন, মাথার ওপর তারা, প্রথম তুষারপাত— এগুলো একটি শিশুর, একজন তরুণ কবির জন্য উপহার।

পিটার অর : এবার অনেকগুলো বছর পেরিয়ে এসে বলুন, কবি হিসেবে কোনো বিশেষ থিম কি আপনাকে আকর্ষণ করে, যে বিষয়গুলো নিয়ে আপনি লিখতে চান?

সিলভিয়া প্লাথ : এটা সম্ভবত আমেরিকান ব্যাপার, আমি খুব উত্তেজিত বোধ করেছি সেই নতুন অগ্রগতি নিয়ে, যা এসেছে বলুন— রবার্ট লাওয়েলের লাইফ স্ট্যাডিজের সঙ্গে সঙ্গে; অত্যন্ত গুরুতর, অত্যন্ত ব্যক্তিগত, আবেগঘন অভিজ্ঞতার ভেতরে এক তীব্র প্রবেশ নিয়ে, যা কিছুটা নিষিদ্ধ বা ট্যাবু ছিল বলে মনে করি। যেমন, রবার্ট লাওয়েলের মানসিক হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা কবিতাগুলো আমাকে খুব তাড়া করেছিল। এই অদ্ভুত, ব্যক্তিগত ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সাম্প্রতিক আমেরিকান কবিতায় অনুসন্ধান করা হয়েছে। বিশেষ করে কবি অ্যান সেক্সটনের কথা ভাবি, যিনি মা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখেন, এমন একজন মা হিসেবে যার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল; তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও অনুভূতিপ্রবণ তরুণী, আর তার কবিতাগুলো বিস্ময়করভাবে কারিগরীপূর্ণ, তবু তাদের মধ্যে এক ধরনের আবেগিক ও মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা আছে, যা সম্ভবত বেশ নতুন, বেশ উত্তেজনাপূর্ণ।

পিটার অর : এবার আপনি একজন কবি হিসেবে বলুন এবং এমন একজন মানুষ হিসেবে বলুন— যিনি আটলান্টিকের দুই পারেই অবস্থান করেন, যদি আমি এভাবে বলতে পারি— নিজে আমেরিকান হয়েও...

সিলভিয়া প্লাথ : এটা বরং অস্বস্তিকর অবস্থান, তবে মেনে নিচ্ছি!

পিটার অর : যদি রূপকটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই, আপনার ভার কোন দিকে পড়ে?

সিলভিয়া প্লাথ : ভাষার দিক থেকে আমি আমেরিকান, আমার উচ্চারণ আমেরিকান, আমি পুরনো ধাঁচের আমেরিকান। সম্ভবত এটাই একটি কারণ যে আমি এখন ইংল্যান্ডে আছি এবং সবসময় ইংল্যান্ডেই থাকব। আমার পছন্দের বিচারে আমি প্রায় পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে এবং আমাকে বলতেই হবে, যে কবিরা আমাকে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত করেন তারা আমেরিকান। সমসাময়িক ইংরেজ কবি খুব কমই আছেন যাদের আমি প্রশংসা করি।

পিটার অর : এর মানে কি আপনি মনে করেন সমসাময়িক ইংরেজ কবিতা আমেরিকান কবিতার তুলনায় পিছিয়ে?

সিলভিয়া প্লাথ : না, আমি মনে করি এটি কিছুটা ‘স্ট্রেইটজ্যাকেটে’ আটকে আছে, যদি বলতে পারি আমার মতো করে। ব্রিটিশ সমালোচক আলভারেজের একটি প্রবন্ধ আছে : ইংল্যান্ডে ভদ্রতাসর্বস্বতার বিপদ নিয়ে তার যুক্তি খুব প্রাসঙ্গিক, খুব সত্য। আমাকে বলতেই হবে, আমি খুব ভদ্রতাসর্বস্ব নই। ভদ্রতার একটা শ্বাসরোধী দখল আছে: পরিচ্ছন্নতা, বিস্ময়কর গোছানো ভাব, যা ইংল্যান্ডের সর্বত্র এত স্পষ্ট, সম্ভবত উপরিতলের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক।

পিটার অর : কিন্তু আপনি কি মনে করেন না যে, ইংরেজ কবিদের ক্ষেত্রে এমন একটি ব্যাপারও আছে— তারা এমন এক কিছুর পুরো ভার বহন করে পরিশ্রম করছেন, যাকে বড় হাতের অক্ষরে ‘ইংরেজি সাহিত্য’ বলা হয়?

সিলভিয়া প্লাথ : হ্যাঁ, আমি আসলে একমত হতে পারি না। আমি জানি, কেমব্রিজে থাকার সময় এটা আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছিল। তরুণীরা আমার কাছে এসে বলত, ‘তুমি লেখার সাহস কীভাবে করো, কবিতা প্রকাশের সাহস কীভাবে করো— কারণ সমালোচনা, ভয়ানক সমালোচনা, প্রকাশ করলেই একজনের ওপর নেমে আসে?’ আর সেই সমালোচনা কবিতাকে কবিতা হিসেবে বিচার করে না। আমার মনে আছে, কেউ যখন আমার সমালোচনা করল যে আমি জন ডনের মতোই শুরু করেছি, কিন্তু জন ডনের মতো শেষ করতে পারিনি, তখন আমি হতবাক হয়েছিলাম; আর তখনই প্রথম ইংরেজি সাহিত্যের পুরো ভার আমার ওপর অনুভব করেছিলাম। আমি মনে করি ইংল্যান্ডে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, প্র্যাকটিক্যাল ক্রিটিসিজমের ওপর যে জোর— তা ততটা নয়, বরং ঐতিহাসিক সমালোচনার ওপর, কোন পঙক্তি কোন যুগের তা জানার ওপর— তা প্রায় আসল ব্যাপারটাকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দেয়। আমেরিকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা পড়তাম কী?— টি. এস. এলিয়ট, ডিলান টমাস, ইয়েটস; সেখান থেকেই আমরা শুরু করতাম। শেক্সপিয়ার পটভূমিতে জাঁকিয়ে থাকতেন। আমি নিশ্চিত নই এতে আপনি একমত কি না, তবে আমি মনে করি তরুণ কবির জন্য, লেখক কবির জন্য, আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের মতো এত ভয়ের নয়— এই কারণেই।

সিলভিয়া প্লাথ, টেড হিউজের সাথে দেখা হয়নি, তখনো
পিটার অর : সিলভিয়া, আপনি বলছেন নিজেকে আমেরিকান মনে করেন, কিন্তু যখন আমরা ড্যাডির মতো কবিতা শুনি, যা ডাখাউ, আউশভিৎস ও মাইন ক্যাম্ফ নিয়ে কথা বলে, আমার মনে হয় এটি এমন কবিতা যা একজন খাঁটি আমেরিকান লিখতে পারতেন না, কারণ আটলান্টিকের ওপারে এই নামগুলোর অর্থ এতটা বিস্তৃত নয়, তাই নয় কি?

সিলভিয়া প্লাথ : এখন আপনি আমার সঙ্গে একজন সাধারণ আমেরিকান হিসেবে কথা বলছেন। বিশেষভাবে, আমার পটভূমি—বলতে পারি—জার্মান ও অস্ট্রিয়ান। এক দিক থেকে আমি প্রথম প্রজন্মের আমেরিকান, এক দিক থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের আমেরিকান; তাই কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প নিয়ে আমার উদ্বেগ অনন্যভাবে তীব্র। আর তারপর, আমি বরং রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষও, তাই মনে করি এর একটি অংশ সেখান থেকেই আসে।

পিটার অর : আর কবি হিসেবে আপনার কি ইতিহাসের প্রতি তীব্র ও গভীর বোধ আছে?

সিলভিয়া প্লাথ : আমি ইতিহাসবিদ নই, কিন্তু আমি দেখি ইতিহাসে আমি ক্রমশ বেশি আকৃষ্ট হচ্ছি এবং এখন ইতিহাস নিয়ে আরও বেশি পড়ছি। বর্তমানে নেপোলিয়ন নিয়ে আমি খুব আগ্রহী; যুদ্ধ, লড়াই, গ্যালিপলি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে খুব আগ্রহী; আর আমি মনে করি বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্রমশ আরও ঐতিহাসিক হয়ে উঠছি। আমার কুড়ির দশকের শুরুতে একেবারেই তা ছিলাম না।

পিটার অর : আপনার কবিতা কি এখন আপনার নিজের জীবনের বদলে বই থেকে আসে?

সিলভিয়া প্লাথ : না, না; আমি একেবারেই তা বলব না। আমি মনে করি আমার কবিতা সরাসরি আমার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আবেগপূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকেই আসে, তবে আমাকে বলতেই হবে, শুধু সুচ বা ছুরি— বা যা-ই হোক— দ্বারা অনুপ্রাণিত হৃদয়ের সেই আর্তনাদগুলোর সঙ্গে আমি সহানুভূতি বোধ করতে পারি না। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের উচিত অভিজ্ঞতাকে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার করতে পারা, এমনকি সবচেয়ে ভয়ানক অভিজ্ঞতাকেও, যেমন উন্মাদনা, নির্যাতিত হওয়া— এই ধরনের অভিজ্ঞতা; এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ ও বুদ্ধিমান মন দিয়ে এসব অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করতে পারা উচিত। আমি মনে করি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা অবশ্যই এক ধরনের বন্ধ বাক্সে আয়নায় নিজেকে দেখার নার্সিসিস্টিক অভিজ্ঞতা হওয়া উচিত নয়। আমি বিশ্বাস করি তা প্রাসঙ্গিক হওয়া উচিত এবং বড় বিষয়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক— হিরোশিমা ও ডাখাউ ইত্যাদির মতো বড় বিষয়ের সঙ্গে।

পিটার অর : তাই আদিম, আবেগীয় প্রতিক্রিয়ার পিছনে একটি বৌদ্ধিক শৃঙ্খলা থাকতে হবে।

সিলভিয়া প্লাথ : আমি এটা খুব জোরালোভাবে অনুভব করি; আমি শিক্ষাবিদ ছিলাম, পিএইচডি যখন করছিলাম, প্রফেসর হওয়ার আমন্ত্রণে প্রলুব্ধ হয়েছিলাম—এসব; আমার একটি দিক নিশ্চিতভাবেই সব শৃঙ্খলা বা বিদ্যায়তনিক নিয়মনিষ্ঠাকে সম্মান করে, যতক্ষণ না তারা জড় ও অনমনীয় হয়ে যায়।

পিটার অর : এমন লেখকদের সম্পর্কে কী বলবেন যারা আপনাকে প্রভাবিত করেছেন, যারা আপনার কাছে অনেক অর্থ বহন করেন?

সিলভিয়া প্লাথ : খুব কম ছিলেন। সত্যিই তাদের খুঁজে পাওয়া আমার জন্য কঠিন। কলেজে থাকতে আধুনিকরা আমাকে হতবাক ও বিস্মিত করেছিলেন—ডিলান টমাস, ইয়েটস, এমনকি অডেন: এক সময় আমি অডেনের জন্য একেবারে পাগল ছিলাম এবং যা লিখতাম সবই ছিল চরম অডেন-ধাঁচের। এখন আমি আবার পিছনের দিকে যেতে শুরু করেছি; যেমন ব্লেকের দিকে তাকাতে শুরু করেছি। আর তারপর, অবশ্যই, শেক্সপিয়ারের মতো কারও দ্বারা প্রভাবিত বলা ধৃষ্টতা; শেক্সপিয়ার পড়া হয়, ব্যাস।

পিটার অর : সিলভিয়া, আপনার কবিতা পড়তে ও শুনতে গিয়ে দুটি গুণ খুব দ্রুত ও স্পষ্টভাবে উঠে আসে (এবং আমি মনে করি এই দুটি গুণের একটির সঙ্গে অপরটির সম্পর্ক আছে); একটি হলো তার স্বচ্ছতা এবং পাঠে যে প্রভাব তৈরি করে। এখন, আপনি কি সচেতনভাবে আপনার কবিতাগুলো এমনভাবে গড়েন যাতে তারা স্বচ্ছ হয় এবং উচ্চস্বরে পড়ার সময়ও কার্যকর হয়?

সিলভিয়া প্লাথ: আমার আগের কবিতায় আমি এটা করিনি। যেমন, আমার প্রথম বই দ্য কলোসাসের কোনো কবিতা আমি এখন উচ্চস্বরে পড়তে পারি না। আমি সেগুলো উচ্চস্বরে পড়ার জন্য লিখিনি। সেগুলো আসলে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে বিরক্ত করে। এই কবিতাগুলো যা আমি এইমাত্র পড়লাম, অত্যন্ত সাম্প্রতিকগুলো, আমাকে সেগুলো বলতে হয়, নিজেকে সেগুলো বলি এবং আমার নিজের লেখার বিকাশে এটি বেশ নতুন ব্যাপার; আর তাদের যে-স্বচ্ছতাই থাকুক, তা আসে এই থেকে যে আমি সেগুলো নিজেকে বলি, উচ্চস্বরে বলি।

পিটার অর : আপনি কি মনে করেন এটি একটি ভালো কবিতার অপরিহার্য উপাদান— যে তা কার্যকরভাবে উচ্চস্বরে পড়া যাবে?

সিলভিয়া প্লাথ: এখন আমি তা অনুভব করি, এবং কবিতা রেকর্ড করার, পাঠে কবিতা বলার, কবিদের রেকর্ড রাখার এই বিকাশ— আমি মনে করি এটি বিস্ময়কর ব্যাপার। আমি এতে খুব উত্তেজিত। এক অর্থে পুরনো কবির ভূমিকায় ফেরা হচ্ছে, তাই নয় কি—গোষ্ঠীর কাছে কথা বলা, তাদের কাছে পৌঁছানো।

পিটার অর : অথবা গোষ্ঠীর কাছে নিজের গানটি গাওয়া?

সিলভিয়া প্লাথ : নিজের গোষ্ঠীর কাছে গান গাওয়া, ঠিক তাই।

আরও পড়ুন

সিলভিয়া প্লাথের বিক্ষত হৃদয়ের প্রতিধ্বনি

২৭ অক্টোবর ২০২৬

পিটার অর : কবিতা ছাড়া অন্য কিছু কি আছে যা আপনি লিখতে চান বা লিখেছেন?

সিলভিয়া প্লাথ : আমি সবসময় গদ্যে আগ্রহী ছিলাম। কিশোরী বয়সে ছোটগল্প প্রকাশ করেছি। আর সবসময় দীর্ঘ ছোটগল্প লিখতে চাইতাম, উপন্যাস লিখতে চাইতাম। এখন যেহেতু সম্মানজনক বয়সে পৌঁছেছি এবং অভিজ্ঞতা হয়েছে, গদ্যে, উপন্যাসে অনেক বেশি আগ্রহ বোধ করি। আমি মনে করি, একটি উপন্যাসে যেমন টুথব্রাশ আর দৈনন্দিন জীবনে পাওয়া নানা পারিপার্শ্বিক জিনিস ঢুকাতে পারেন, আর কবিতায় এটা আমার বেশি কঠিন লাগে। কবিতা, আমি মনে করি একটি অত্যাচারী শৃঙ্খলা বহন করে; আপনাকে এত দূর, এত দ্রুত, এত ছোট জায়গায় যেতে হয় যে প্রান্তিক সব কিছুকেই সরিয়ে দিতে হয়। আর আমি সেগুলো মিস করি! আমি নারী, আমি আমার ছোট্ট লারেস ও পেনেটেস— আমার ছোট গৃহদেবতাকে— পছন্দ করি, আমি তুচ্ছ বিষয় পছন্দ করি; আর আমি উপন্যাসে জীবনের বেশি পেতে পারি, সম্ভবত এমন তীব্র জীবন নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবে জীবনের বেশি; তাই উপন্যাস লেখায় খুব আগ্রহী হয়ে উঠেছি।

সিলভিয়া প্ল্যাথ, রোলি ম্যাককেনের তোলা ছবি (১৯৫৯) আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয় ফাউন্ডেশনের ক্রিয়েটিভ ফটোগ্রাফি সেন্টারের সৌজন্যেপিটার অর : এটি প্রায় ডক্টর জনসনের মতো, তাই নয় কি? তিনি কী বলেছিলেন— ‘কিছু বিষয় আছে যা কবিতায় অন্তর্ভুক্তির উপযোগী, আর কিছু আছে যা নয়’?

সিলভিয়া প্লাথ: অবশ্যই, কবি হিসেবে আমি বলব, অবশ্যই তা নয়! আমি বলব সব কিছুই কবিতায় আসতে পারা উচিত, কিন্তু আমি টুথব্রাশ কবিতায় ঢুকাতে পারি না, সত্যিই পারি না!

পিটার অর : আপনি কি নিজেকে অন্য লেখক-কবিদের সঙ্গেই বেশি দেখেন?

সিলভিয়া প্লাথ : আমি ডাক্তার, ধাত্রী, আইনজীবী— যে কেউ, লেখক ছাড়া সবাইকে অনেক বেশি পছন্দ করি। আমি মনে করি লেখক ও শিল্পীরা সবচেয়ে নার্সিসিস্টিক মানুষ। এটা বলা উচিত নয়; আমি তাদের অনেককে পছন্দ করি, বাস্তবে আমার বন্ধুদের অনেকেই লেখক ও শিল্পী। কিন্তু আমাকে বলতেই হবে, আমি সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করি সেই মানুষদের যারা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার একটি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছে এবং আমাকে কিছু শেখাতে পারে। মানে, আমার স্থানীয় ধাত্রী আমাকে মৌমাছি পালন শিখিয়েছেন। ভালো, তিনি আমার লেখার কিছুই বুঝতে পারেন না। আর আমি তাকে বেশিরভাগ কবির চেয়ে বেশি পছন্দ করি। আমার বন্ধুদের মধ্যে এমন মানুষ আছেন যারা নৌকা সম্পর্কে সব জানেন বা নির্দিষ্ট কিছু খেলা সম্পর্কে সব জানেন বা কীভাবে কাউকে কেটে অঙ্গ বের করতে হয় তা জানেন। ব্যবহারিক বিষয়ে এই দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করে। কবি হিসেবে মানুষ একটু বাতাসের ওপরেই বাস করে। আমি সবসময় এমন কাউকে পছন্দ করি যে আমাকে ব্যবহারিক কিছু শেখাতে পারে।

পিটার অর : কবিতা লেখার চেয়ে অন্য কিছু করা কি আপনি বেশি পছন্দ করতেন? কারণ এটা স্পষ্টতই একজনের ব্যক্তিগত জীবনের অনেকটা সময় নেয়, যদি কবিতাপ্রচেষ্টাকে সফল করতে হয়। আপনার কি কখনো মনে হয় অন্য কিছু না করার জন্য গোপন অনুশোচনা আছে?

সিলভিয়া প্লাথ : যদি অন্য কিছু করতাম, ডাক্তার হতে চাইতাম। এটা সম্ভবত লেখক হওয়ার ঠিক বিপরীত মেরু। আমার ছোটবেলার সবচেয়ে ভালো বন্ধুরা সবসময় ডাক্তার ছিলেন। আমি সাদা গজের হেলমেট পরে ঘুরে বেড়াতাম, শিশুর জন্ম দেখতে যেতাম, মৃতদেহ কেটে খুলতে দেখতাম। এটা আমাকে মুগ্ধ করত, কিন্তু একজন ভালো ডাক্তার হতে যে সব বিবরণ শিখতে হয়, তা শিখতে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার পর্যায়ে কখনো নিজেকে আনতে পারিনি। এটা এক ধরনের বিপরীত অবস্থান: এমন একজন যে সরাসরি মানবিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে কাজ করে, নিরাময় করতে, জোড়া দিতে, সাহায্য করতে পারে। যদি আমার কোনো অনুশোচনা থাকে, তা এইটিই; কিন্তু আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিই কারণ আমি অনেক ডাক্তারকে জানি। আর বলতে পারি, সম্ভবত ডাক্তার হওয়ার চেয়ে ডাক্তারদের নিয়ে লেখায় আমি বেশি খুশি।

পিটার অর : কিন্তু কবিতা লেখা আপনার জীবনে বড় সন্তুষ্টি

সিলভিয়া প্লাথ : ওহ, সন্তুষ্টি! আমি মনে করি না এটি ছাড়া আমি বাঁচতে পারতাম। এটি পানি বা রুটির মতো আমার কাছে একেবারে অপরিহার্য। আমি একটি কবিতা লিখেছি বা লিখছি—তখন নিজেকে একেবারে পূর্ণ অনুভব করি। কবিতা লেখা হয়ে গেলে, তখন আপনি খুব দ্রুত কবি থাকার অবস্থা থেকে নেমে এসে এক ধরনের বিশ্রামরত কবি হয়ে যান, যা একেবারে এক জিনিস নয়। কিন্তু আমি মনে করি একটি কবিতা লেখার প্রকৃত অভিজ্ঞতা অসাধারণ, অসামান্য, অভূতপূর্ব।

(দ্য পোয়েট স্পিকস: ইন্টারভিউজ উইথ কনটেম্পরারি পোয়েটস, হিলারি মরিশ, পিটার অর, জন প্রেস ও ইয়ান স্কট-কিলভারির সাক্ষাৎকার; লন্ডন: রুটলেজ ১৯৬৬ থেকে)

সিলভিয়া প্লাথসাক্ষাৎকার
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    ঢাকা মেট্রোরেলে উঠে বসতে চেয়ে জায়গা পাননি, পরে স্ট্রোকে মৃত্যু

    ঢাকা মেট্রোরেলে উঠে বসতে চেয়ে জায়গা পাননি, পরে স্ট্রোকে মৃত্যু

    কথা ঘুরিয়ে রুমি এখন বললেন, কেন দেশ ছাড়ব?

    কথা ঘুরিয়ে রুমি এখন বললেন, কেন দেশ ছাড়ব?

    বাসায় তালা, শাহজালাল রুমি কোথায় জানে না কেউ

    বাসায় তালা, শাহজালাল রুমি কোথায় জানে না কেউ

    মেট্রোরেলে হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

    মেট্রোরেলে হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান

    আইজিপিকে কি সরানো হবে? উপদেষ্টা বললেন, প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনা

    আইজিপিকে কি সরানো হবে? উপদেষ্টা বললেন, প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনা

    হ্যারি কেইনের হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি

    হ্যারি কেইনের হাতে ব্যালন ডি’অর ট্রফি

    নিজের এক টাকাও নেই আইএফআইসি ব্যাংকের

    নিজের এক টাকাও নেই আইএফআইসি ব্যাংকের

    ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, মাকে খুঁজছে চার বছরের মৈত্রী

    ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, মাকে খুঁজছে চার বছরের মৈত্রী

    নির্মলেন্দু গুণ বলেছিলেন, সৌন্দর্যের সুষম বিকাশ আছে পরীমনির দেহাবয়বে

    নির্মলেন্দু গুণ বলেছিলেন, সৌন্দর্যের সুষম বিকাশ আছে পরীমনির দেহাবয়বে

    সিলভিয়া প্লাথের বিক্ষত হৃদয়ের প্রতিধ্বনি

    সিলভিয়া প্লাথের বিক্ষত হৃদয়ের প্রতিধ্বনি

    ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশ হঠাৎ বিদ্যুৎহীন

    ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশ হঠাৎ বিদ্যুৎহীন

    জাপানি বিনিয়োগেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনের করতে চায় সরকার

    জাপানি বিনিয়োগেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনের করতে চায় সরকার

    শ্যালিকাকে বিয়ে, চুনকালি মাখিয়ে গ্রামছাড়া করা হলো টিকটকারকে

    শ্যালিকাকে বিয়ে, চুনকালি মাখিয়ে গ্রামছাড়া করা হলো টিকটকারকে

    জামায়াত এমপি মাসুদ সাঈদীর পাঁচ তারকা হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন

    জামায়াত এমপি মাসুদ সাঈদীর পাঁচ তারকা হোটেলের নির্মাণকাজ বন্ধ করল প্রশাসন

    মাকে ভিডিওতেও এনে বাবার বিরুদ্ধে ১৮ বিয়ের অভিযোগ তাশরীফের

    মাকে ভিডিওতেও এনে বাবার বিরুদ্ধে ১৮ বিয়ের অভিযোগ তাশরীফের