জাপানি বিনিয়োগেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনের করতে চায় সরকার
- ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে চাইল ৩০০ কোটি টাকা
- আগের চারটি ফিজিবিলিটি স্টাডি আলোর মুখ দেখেনি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয় লেন সড়ক নির্মাণে ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে জাপানের কাছে সহায়তা চাইবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বাস্তবায়ন করতে আগে অন্তত চারটি ফিজিবিলিটি স্টাডি হলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। জাপান সফরে আলোচনায় থাকা অন্য প্রকল্পগুলোর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পটিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কক্সবাজার সফরে গিয়ে গত ১৩ জুন এই মহাসড়ক ছয় লেন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সংসদ সদস্য হওয়ার আগে নির্বাচনে একাধিকবার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও। এর আগে বিভিন্ন সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য একই প্রতিশ্রুতি দিলেও সফলতা মেলেনি। এবার সুখবর মিলবে আশা করছে সরকার। জাপান থেকে টাকার সংস্থান হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন একধাপ আগাবে। প্রকল্পের কাজ শুরু হতে অন্তত চার বছর লাগবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হিসাবে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস বাবদ ৩ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ইয়েন (জাপানি মুদ্রা) চাইবে সরকার। এই ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস হচ্ছে মূলত ফিজিবিলিটি স্টাডি, ডিটেইল ডিজাইন ও ডিপিপি। ডলার ১২৫ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় ৩২০ কোটি টাকা। সফর শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে এই টাকা মিলেছে কি না। এরপরই জানা যাবে কবে নাগাদ ফিজিবিলিটি স্টাডি হবে।
সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বললেন, ‘এটি সম্ভাব্য ব্যয়। টাকার পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। আর জাপান এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। কারণ মহেশখালী-মাতারবাড়ী ঘিরে তাদের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। সাধারণত ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে দেড় বছর সময় লাগে।’
সরকার গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ছয় লেনের মহাসড়ক তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। প্রথম ধাপে, এই সড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যানজটপ্রবণ পাঁচটি স্থান চিহ্নিত করে বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এসব স্থানে ভবিষ্যতের জন্য রাখা হবে ছয় লেনের সুযোগ।
দ্বিতীয় ধাপে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণপাড় শিকলবাহা থেকে চকরিয়ায় ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটার সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পোর্ট কানেকটিং সড়ক ফাঁসিয়াখালীর যে অংশে এসে মিলেছে, সেই স্থান পর্যন্ত। আর সেই স্থান থেকে চকরিয়া কলেজের পর পর্যন্ত চকরিয়া বাইপাস নির্মিত হবে।
তৃতীয় ধাপে, ফাঁসিয়াখালী থেকে কক্সবাজার সদর পর্যন্ত সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করবে। সেই প্রক্রিয়া অবশ্য এখনো আগায়নি।
প্রথম ধাপে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকায় পাঁচটি বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। অগ্রগতি নিয়ে সেই প্রকল্পের পরিচালক শ্যামল কুমার ভট্টাচার্য্য জানালেন, প্রথম ধাপে দারুণ অগ্রগতি হয়েছে। ডিটেইল ডিজাইন আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এপ্রিল নাগাদ আন্তর্জাতিক দরপত্র ডাকা হবে। ঠিকাদারের প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে বাছাই করতে সর্বোচ্চ ১০ মাস সময় লাগবে। তার মানে ২০২৮ সালের শুরুতে ঠিকাদার মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু করবেন। ৩৬ মাস অর্থাৎ ২০৩১ সালের মধ্যে প্রধম ধাপের প্রকল্পের সব কাজ শেষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে।
এরই মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত। সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব চলে যাবে। ফেব্রুয়ারির আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা টাকা পেয়ে যাবেন; যোগ করেন সরকারের চৌকস কর্মকর্তা শ্যামল কুমার ভট্টাচার্য্য।
দ্বিতীয় ধাপে, শিকলবাহা ওয়াইজাংশন থেকে চকরিয়ায় ফাঁসিয়াখালী পোর্ট কানেকটিং সড়কের প্রবেশমুখ পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করতে জাপানের জাইকার মাধ্যমে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হবে। এই স্টাডির জন্যই সরকার জাপানের কাছে এই আর্থিক সহায়তা চাইছে।
অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বললেন, ‘৮০ কিলোমিটারের মধ্যে ২৪ কিলোমিটার বাইপাস ও ফ্লাইওভার নির্মিত হবে। বাকি ৫৬ কিলোমিটার মূল সড়ককে ছয় লেনের চেয়েও বেশি প্রশস্ত করা হবে। মাঝখানে চার লেন ডেডিকেটেড সড়ক থাকবে। এরপর দুপাশে ব্রেকডাউন লেন থাকবে। চার লেন দিয়ে চলার সময় গতি কমিয়ে থামার প্রয়োজন হলে এই ব্রেকডাউন লেন ব্যবহার করবে চালক। এরপর দুপাশে সার্ভিস লেন থাকবে যেখানে শুধু ধীরগতির গাড়ি চলবে। সবমিলিয়ে এটি ছয় থেকে আট লেনের কাছাকাছি।’
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে আমরা দেড় বছর সময় রাখি। এরপর অর্থায়ন চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক দরপত্র ডেকে কাজ শুরু হতে এখন থেকে কমপক্ষে চার বছর সময় লাগবে। সরকার চাইলে এটিকে এগিয়ে আনতে পারে।’



