স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে, চুনকালি মেখে টিকটকারকে গ্রামছাড়া করলেন এলাকাবাসী

টিকটকার মাসুদ ও তার স্ত্রীর মুখে চুনকালি মেখে গ্রামছাড়া করছে এলাকাবাসী
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করায় টিকটকার মাসুদ রানাকে মুখে চুন-কালি মেখে গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছেন এলাকাবাসী।
গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে নওগাঁর বদলগাছীর মহাদেবপুরের মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে শ্যালিকাকে বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের আপত্তি হুমকির মুখে সোমবার সন্ধ্যায় বদলগাছী ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন মাসুদ রানা (৩৫)। তার সঙ্গে ছিলেন প্রথম স্ত্রী মৌসুমী (২৮) ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা (২১)। সেখানেও তারা থাকতে পারেননি বলে জানা গেছে।
মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার দুই স্ত্রী মৌসুমী ও পূর্ণিমার বাড়ি মহাদেবপুরের নারায়ণপুর গ্রামে। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ে হয়। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমোদনেই এ বিয়ে হয়। বিয়ের পর মাসুদ রানা ও পূর্ণিমা নিজেদের বিয়ের খবর ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বদলগাছীর কয়েকজন বাসিন্দা তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেবেন না বলে ভয়ভীতি দেখান। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছেড়ে দুই স্ত্রী নিয়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান মাসুদ রানা ।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুরের মাতাজি বিরামগ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের বিয়ে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণেই তারা মাসুদ রানাকে এলাকায় থাকতে দিতে চাননি।
ইসলামী বিধানের বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, ‘পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।’
তার ভাষ্য, একজন স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্কে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিয়ে করা যায় না। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত বিধান অনুসারে তার বোনকে বিয়ের বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে।’
এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, ‘তার শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাদের আগে ধারণ করা ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পূর্ণিমাকে হয়রানির শিকার হতে হতো বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন। এ কারণে প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছেন।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



