৫ বন্ধুর হাতে কতকিছুর সুরক্ষা

দীর্ঘদিন ধরে ধুলোবালি, শ্যাওলা ও ময়লায় ঢেকে গিয়েছিল হবিগঞ্জ-বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়কের মাইলফলক বা কিলোমিটার পোস্টগুলো। চালক ও পথচারীদের জন্য সেগুলো প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছিল। ফলে অচেনা পথচারী ও চালকদের গন্তব্য চিহ্নিত করতে পোহাতে হতো চরম ভোগান্তি। বিষয়টি নজরে আসে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বাসিয়াপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে এস এম তারেকের। এক বছর আগে হঠাৎ একদিন এসব মাইলফলক পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন তিনি। শুরুতে একাই কাজ শুরু করলেও কিছুদিন পর যুক্ত হন চার বন্ধু। সবাই মিলে ঝোপঝাড় ও ময়লা পরিষ্কার করেন এবং নতুন করে রঙ করে গন্তব্যের নাম ও দূরত্ব স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলেন। তাদের এই কাজের ফলে এখন সহজেই পথচারী ও দূরপাল্লার চালকরা দূরত্ব চিহ্নিত করতে পারছেন, যা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতে ভূমিকা রাখছে।
শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাদের এই কল্যাণমুখী কাজ। স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে তারা এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ওজুখানা এবং পানির ট্যাংকি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেন।
বাসিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বানিয়াচং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলছিলেন, ‘বর্তমান যুগে যেখানে যুবসমাজ নানা বিভ্রান্তিতে পথ হারাচ্ছে, সেখানে এই পাঁচ তরুণের এমন নিঃস্বার্থ সামাজিক কাজ সমাজকে নতুন আলো দেখাচ্ছে।’
এস এম তারেক বললেন, ‘আমি প্রথমে একাই সড়কের মাইলফলক দৃশ্যমান করা ও মসজিদের ওজুখানা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করি। পরে এক এক করে আমার চার বন্ধু সম্পৃক্ত হয়। তারা হলো— আমার গ্রাম বাসিয়াপাড়ার মো. জীবন আমিন, মো. দানিয়াল হোসেন দিমান, মো. ফাহাদ আহমেদ এবং ঠাকুরাইন দিঘির পাড় গ্রামের তোফায়েল আহমেদ।’
কথা হলো এই চার যুবকের সঙ্গেও। তারা জানালেন, তারেকের কাজই তাদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলেছে। সে কারণে তার নেতৃত্বে নিঃস্বার্থভাবে এসব সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন তারা।
তারেক ও তার বন্ধুরা বলছিলেন, আমাদের সমাজে সবাই শুধু সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় থাকে। অথচ ছোট ছোট অনেক কাজ ইচ্ছে করলেই আমরা সম্মিলিতভাবে সমাধান করে ফেলা যায়। কারণ নিজের এলাকা ও সমাজকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। কোনো প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



