চাপের মুখে গ্রাম ছাড়ার পর টিকটকার মাসুদ দিলেন শ্যালিকার সঙ্গে ডিভোর্সের খবর

ছবি ফেসবুক
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করায় টিকটকার মাসুদ রানাকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দিয়েছিল এলাকাবাসী। এর এক দিন পরেই শ্যালিকার সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের খবর দিলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সবার কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।
গত সোমবার রাত ১০টার দিকে নওগাঁর বদলগাছীর মহাদেবপুরের মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় টিকটকার মাসুদ রানাকে চুন-কালি মাখিয়ে গ্রাম ছাড়া করার এক দিন পরেই এ ঘটনা ঘটে। মাসুদ রানা জানালেন, শ্যালিকাই তাকে ডিভোর্সের চিঠি দিয়েছেন।
বুধবার বিকালে ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদ রানা সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। এরই মধ্যে জানেন সে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। আমি ডিভোর্স লেটারের একটা কপি ফেসবুকে পোস্ট করেছি।’
মাসুদ রানা নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার স্ত্রী ও শ্যালিকা মহাদেবপুরের বাসিন্দা। এর আগে মাসুদ রানা বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার সন্ধ্যায় শ্যালিকার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ে হয়। পরিবারের সম্মতি এবং প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর অনুমোদনেই এ বিয়ে হয়। বিয়ের পর মাসুদ রানা ও শ্যালিকা নিজেদের বিয়ের খবর ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বদলগাছীর কয়েকজন বাসিন্দা তাদের ভাড়া বাসায় থাকতে দেবেন না বলে ভয়ভীতি দেখান। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে বদলগাছী ছেড়ে দুই স্ত্রী নিয়ে মহাদেবপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান মাসুদ রানা।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাত ১০টার দিকে মহাদেবপুরের মাতাজি বিরামগ্রামে স্থানীয় কয়েকজন মাসুদ রানার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মাসুদ রানা মূলত সামাজিকমাধ্যমে ভিডিও বানাতেন। তার একটি নাচের সংগঠন রয়েছে। সেই সংগঠন থেকে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শ্যালিকাকে নিয়ে নাচ করতেন।
এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেছিলেন, ‘আমার শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্য কোথাও বিয়ে হলে তাদের আগে ধারণ করা ভিডিওগুলোকে কেন্দ্র করে পূর্ণিমাকে হয়রানির শিকার হতে পারে। এ কারণে প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতায় পূর্ণিমাকে বিয়ে করেছি।’





