তেলেগু সিনেমায় পুলিশ চরিত্র নারী অভিনেত্রীদের দখলে

প্রথম ছবিতে সাই পল্লবী। কাজল আগরওয়াল, শ্রীনিধি শেঠি, পায়েল রাজপুত, মীনাক্ষী চৌধুরী (ওপর থেকে ঘড়ির কাঁটার ক্রমে)
তেলুগু সিনেমায় পুলিশ চরিত্রে এতদিন পুরুষ তারকাদের আধিপত্য থাকলেও ধীরে ধীরে সেই চিত্র বদলাচ্ছে। গ্ল্যামারনির্ভর চরিত্রের পাশাপাশি শক্তিশালী পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীদের। অ্যাকশননির্ভর অভিনয় ও চরিত্রের গভীরতায় নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরছেন তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারায় যুক্ত হয়েছেন অভিনেত্রী সাই পল্লবী। ধানুশ অভিনীত তামিল সিনেমা ‘ওম’-এ আইপিএস কর্মকর্তা নিত্যা রেড্ডির চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। এর আগে ‘হিট: দ্য থার্ড কেস’-এ শ্রীনিধি শেঠি এবং ‘সঙ্ক্রান্তিকি ভাসথুনাম’-এ মীনাক্ষী চৌধুরীকেও পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে দেখা গেছে।
নারীকেন্দ্রিক পুলিশ চরিত্রের ধারায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে আছে কাজল আগরওয়ালের ‘সত্যভামা’। সিনেমাটির প্রযোজক টিক্কা মোহন জানান, শুরুতে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করতে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন কাজল। তবে গল্প শোনার পর তিনি রাজি হন।
টিক্কা মোহন বলছেন, ‘এই চরিত্রের জন্য কাজল নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলেন এবং পর্দায় দুর্দান্ত উপস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তার অভিনয় ছিল সংযত কিন্তু প্রভাবশালী। এটি তেলুগু সিনেমায় নারীকেন্দ্রিক পুলিশ গল্পের ধারাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’
‘রক্ষণা’ সিনেমায় পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করা পায়েল রাজপুত মনে করেন, এ ধরনের চরিত্র অভিনেত্রীদের প্রচলিত পর্দার ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়।
পায়েল বলেন, ‘পুলিশের চরিত্রগুলো সাধারণত পুরুষ তারকাদের জন্যই রাখা হয়। তাই কোনো অভিনেত্রীর কাছে এমন চরিত্র এলে সেটি কাজে লাগানোর মতো সুযোগ। পুলিশের পোশাক পরা এবং একজন কর্মকর্তার দায়িত্ববোধ ও গাম্ভীর্য পর্দায় তুলে ধরা একটি বড় দায়িত্ব।’
চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কঠোর প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন পায়েল। বললেন, ‘অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ঠিকভাবে করার জন্য আমাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। এখন পুলিশ চরিত্রগুলো আরও গভীরভাবে লেখা হচ্ছে, ফলে এসব চরিত্রকে অনেক বেশি মানবিক ও বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে।’
লেখক গোপী মোহনের মতে, শুধু পুলিশের পোশাক পরলেই এমন চরিত্র ফুটিয়ে তোলা যায় না। চরিত্রের জন্য অভিনেত্রীদের শারীরিক প্রস্তুতিও নিতে হয়। তার মতে, প্রবীণ অভিনেত্রী বিজয়াশান্তির ‘অর্জুন এস/ও বিজয়ন্তী’ সিনেমায় ফিরে আসাও তাৎপর্যপূর্ণ। নব্বইয়ের দশকে ‘কার্তব্যাম’ ও ‘শত্রুভু’র মতো সিনেমার মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক পুলিশ গল্পের ক্ষেত্রে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন।
তেলুগু সিনেমায় পুলিশের পোশাক এখন আর শুধু পুরুষ তারকাদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকছে না। শারীরিক প্রস্তুতি, অ্যাকশন প্রশিক্ষণ এবং আবেগঘন চরিত্রের মাধ্যমে অভিনেত্রীরাও এই ঘরানায় নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করছেন।
সূত্র-ডেকান ক্রনিকল





