প্রধানমন্ত্রী
‘সংস্কার-সংস্কার’ রবের উদ্দেশ্য বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলা
- প্রান্তিক মানুষের কাজে লাগবে এমন সংস্কারে অগ্রাধিকার
- ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করার পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ছবি: পিএমও
‘সংস্কার-সংস্কার’ রব তুলে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ভাষ্য, বিএনপি যাতে প্রান্তিক মানুষের উপকার হয় এমন সংস্কার করতে না পারে, সেই চেষ্টা চলছে। তবে তার সরকারের অগ্রাধিকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়ন থেকে শুরু করে ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের পক্ষে জনসমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘যে সংস্কার করলে প্রান্তিক মানুষ উপকার পাবে, সেই সংস্কারগুলো যাতে বিএনপি করতে না পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি যদি এই সংস্কারকাজগুলো করতে পারি, তাহলে আপনি বা আপনার সন্তানরা ভালো থাকবেন, উপকার পাবেন।’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যারা এই কাজগুলো বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, সমর্থনটা কাকে দেবেন? সমর্থনটা এজন্য চাইছি— আমি বলছি না যে ভোট দেন। কাজগুলো যদি বলেন, আমরা সঠিক করার চেষ্টা করছি, তাহলে কাজগুলোকে সমর্থন দেন, অন্তত কাজগুলো আমরা করতে পারি।’
এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।
‘প্রান্তিক মানুষের উপকার হয়, এমন সংস্কার চাই’
প্রকৃত সংস্কারের ধারণা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নের মতো উদ্যোগের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছায়। একজন রিকশাচালক থেকে শুরু করে ধনী-গরিব, চিকিৎসক, আইনজীবী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষক— সবার উপকার হয় এসব উদ্যোগে।
তিনি বলেন, ‘আমি একবারও বলছি না, যেসব ব্যক্তিরা সংস্কার-সংস্কার বলে পত্রপত্রিকা গরম করে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে কারও উপকার হবে না, দেশেরও উপকার হবে না। হবে। কিন্তু সেগুলো পরিবর্তিত হলে হাতে গোনা কিছু মানুষ উপকৃত হবে।’
বিভিন্ন রকম সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি সেই সংস্কারকেই বুঝি, যেই সংস্কারের সুবিধা আমার প্রান্তিক মানুষটা পায়। সংস্কার অনেক ধরনের আছে— এয়ারকন্ডিশন রুমের সংস্কারও আছে, আর খেটে খাওয়া মানুষের লাইফ একটু বেটার করার জন্য সংস্কার আছে।’
‘যেহেতু আমরা মানুষের কাছে ভোটের জন্য যাই, সেজন্য আমার অগ্রাধিকার খেটে খাওয়া মানুষের লাইফটা একটু বেটার হবে—সেই সংস্কার।’
এ ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা চান তিনি। ‘আপনাদের সবার সহযোগিতা যদি থাকে, দেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক মানুষের সহযোগিতা যদি থাকে, ইনশাআল্লাহ, তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশে গড়ে তুলতে পারব।’
এ জন্য পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান।
ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে চাই
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে চায় সরকার।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি আমাদের সঙ্গে আসা একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, টোকিও কেমন দেখলা? বলে, রাস্তায় কোনো ময়লা দেখি নাই। আর ঢাকায় চারদিকে এত ময়লা। এখন আপনারা নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিউজে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন, আমরা চেষ্টা করছি ঢাকাসহ সারা দেশটাকে পরিচ্ছন্ন করতে।’
ঢাকার বায়ুদূষণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজে আমরা প্রায় দেখি, ঢাকা শহরের বায়ু দূষিত, খুব পলিউটেড। এটাকে একটু বেটার করা, ফিল্টার করা, বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগানো।’
বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এসব বিষয়ে অসতর্ক উল্লেখ করে পরিবেশদূষণের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে কি এই কথাগুলো আছে, কীভাবে পরিবেশটা ভালো করা যায়? এত ময়লা চারদিকে, এত আবর্জনা, আস্তে আস্তে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে, তাই না? জমে থাকা আবর্জনা থেকে জীবাণু, রোগ, অসুখবিসুখ তৈরি হয়। মানুষকে যদি সুস্থ রাখতে হয়, তাহলে তো পরিবেশটা ক্লিন করতে হবে, আবর্জনা ঠিকমতো সরাতে হবে। বিএনপি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে এসব আলোচনা শুনেছেন, পরিকল্পনা দেখেছেন? নেই।’
সাধারণ মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের মানুষ, মা-বোনেরা সুস্থ থাকবে— এটাই আমার কাছে বড় সংস্কার মনে হয়। যদি আমরাও টোকিওর মতো ঢাকা শহরকে ক্লিন করতে পারি, জাপানের মতো ক্লিন করতে পারি। এর চেয়ে বেটার সংস্কার কী হতে পারে?’
শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিয়ে পরিকল্পনা
মতবিনিময় অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুদের গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালু, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি— এসব বিষয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এ সময় সফরসঙ্গী হিসেবে আসা আমজনতার পার্টির সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমজনতার পার্টির সদস্যসচিবকে নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। অথচ দেশের নানা সমস্যা, তা নিয়ে কারও কোনো কথা নেই।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।





