মানুষের বিপদে ছোটেন খলিল

রক্ত দিচ্ছেন খলিল
মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রত্যয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে আসছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুলতান আহমদ খলিল (৩৮)। এ পর্যন্ত ৫২ বার রক্ত দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া রোগীদের জন্য রক্ত জোগাড় করে দেন। তার কাছে রক্তদানের সার্থকতা সংখ্যায় নয়, বরং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারার মধ্যেই।
সুলতান আহমদ খলিল বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের রফিনগর গ্রামের মো. তমছির আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি বড়লেখা পৌরসভার বারইগ্রামে বসবাস করছেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার পরিবার।
খলিলের রক্তদানের যাত্রা শুরু ২০০৩ সালে। এর আগে দু-তিনবার অনিয়মিতভাবে রক্ত দিলেও পরে নিয়মিত রক্তদানে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি।
খলিলের রক্তের গ্রুপ ‘বি’ নেগেটিভ। বড়লেখায় ছাড়াও দুবাইয়ে অবস্থানকালে একবার এবং ঢাকা ও সিলেটেও কয়েকবার রক্ত দিয়েছেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সুজানগর ইউনিয়নের বড়থল গ্রামের এক মেয়ের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন খলিল। মেয়েটিকে তিন-চারবার রক্ত দিয়েছেন তিনি। অসহায় একজন মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে পারাকেই নিজের সৌভাগ্য মনে করেন তিনি।
এ পর্যন্ত রোগীদের সহস্রাধিক ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খলিল।
রক্তদানের গুরুত্ব নিজের জীবনেও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন খলিল। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় বড়লেখা সরকারি কলেজের শিক্ষক নজরুল ইসলামও মারা যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন খলিলকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাকে তিন ব্যাগ রক্ত দেন। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় পরিচিত কেউ না থাকা সত্ত্বেও তার জন্য রক্তের ব্যবস্থা হওয়াকে মহান আল্লাহর রহমত হিসেবে দেখেন তিনি।
বর্তমানে পরিবারের সমর্থন ও ঘনিষ্ঠদের উৎসাহে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন খলিল। তিনি বড়লেখার ব্লাড ডোনেট ক্লাব, সুজানগর রক্তদান সংস্থা, ইনসাফ রক্তদান সংস্থা, একতা রক্তদান সংস্থা এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) বড়লেখা উপজেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তার মতে, রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির প্রচার বাড়ানো গেলে আরও মানুষ এ কাজে এগিয়ে আসবেন।
সুলতান আহমদ খলিল দৈনিক যায়যায়দিনের বড়লেখা উপজেলা প্রতিনিধি। ৫২ বার রক্তদান প্রসঙ্গে খলিলের বক্তব্য, সংখ্যাটি তার কাছে মুখ্য নয়; মানুষের উপকারে আসতে পারাই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
দক্ষিণবাগ এলাকার এমরান আহমদ বলছিলেন, ‘আমার খালার অস্ত্রোপচারের সময় জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন পড়ে। রক্তদানের গ্রুপে আমার বার্তা দেখে খলিল ভাই আমাকে ফোন করেন। আমার কথা শুনে তিনি হাসপাতালে এসে রক্ত দিয়ে যান।’
সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম বলেছেন, খলিলের ৫২ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান সত্যিই একটি মহৎ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। মানুষের জীবন বাঁচাতে তার এই নিরলস প্রচেষ্টা অন্যদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।



