তাহসিফের শরীরে ছিল না আঘাতের চিহ্ন, নাক থেকে বের হচ্ছিল রক্ত
- ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, হস্তান্তর করা হয়েছে মরদেহ

তাহসিফ সাউরি
বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ যখন উদ্ধার করা হয়েছে তখন তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে সে সময় তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।
পুলিশের তৈরি করা সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় এসব তথ্য।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের করা সুরতহাল প্রতিবেদন আগামীর সময়ের হাতে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৃত ব্যক্তির উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ ছিল বন্ধ। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। তার দুই হাত মাথার সামনে বাঁকানো ও মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পেট ছিল ফোলা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও যৌনাঙ্গ ছিল স্বাভাবিক। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময় তার পরনে কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা রঙের ট্রাউজার ছিল।
নৌপুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনেও বলা হয়, মৃত ব্যক্তির হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোহরাওয়ার্দীতে দুপুর আড়াইটার দিকে তাহসিফের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এরপর মরদেহ তার বাবা এনায়েতুল করিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ি নৌঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় তাহসিফের মরদেহ।
গাজীপুরের টঙ্গী নদীবন্দর এলাকার নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফিরোজ উদ্দিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ খবর পেয়ে গতকাল বিকাল সাড়ে চারটার দিকে টঙ্গী ফাঁড়ির নৌপুলিশ তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাহসিফের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে বলে উল্লেখ করেন নৌপুলিশের কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। তিনি বললেন, তাহসিফ সপরিবার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। গত মঙ্গলবার তিনি নিখোঁজ হন।
সাবেক এ বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় তাহসিফের নাম আলোচনায় এসেছিল।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাহসিফের কলেজ ও বিএমএ-এর কোর্সমেট কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম তার ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গত পরশু রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাউসিফ নিখোঁজ ছিলেন।’ মরদেহের ছবিতে হাতে কাদা মাখা থাকলেও শরীরের বাকি অংশ পরিষ্কার ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইনতিসার দাবি করেন, এটি যদি দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কোন্দল বলে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত না হয়, তবে তিনি এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছেন। তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের ভিডিও ফাঁসের পর তাহসিফ নানাভাবে মানহানির শিকার হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি মামলা ছিল না।





