শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিও নিয়ে যা বলেছিলেন তাশরীফ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। সংগৃহীত ছবি
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে দাবি করছেন ভিডিওটি প্রথম তাহসিফই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তবে গত ২১ জুলাই প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে একে ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ইউটিউবভিত্তিক একটি সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তাহসিফ কথা বলেন বিমানবাহিনী ছাড়ার বিষয়েও।
ওই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ উল্লেখ করে তাহসিফ সাউরি বলেছিলেন, আমি জানিনা তাদের উদ্দেশ্য কী। প্রতিবেদনে ক্লিয়ারলি লিখেছে যে, আমি ভিডিওটা ছড়িয়েছি। আমি যে শুট করেছি, এটাও কিন্তু তারা বলেনি। বলেছে, যে রিফাত আশরাফী ভিডিওটি করেছে এবং আমি ভিডিওটি নাকি ছড়িয়ে দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দা প্রুফ দে হ্যাভিং—আমি এটা জিজ্ঞেস করতে চাই। আর এটাও হতে পারে যে, এজন্যই আমি আজকে হয়তো এয়ারফোর্সে নেই।
শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এয়ারফোর্স থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হতে পারে। কারণ যেই ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল, আমি সবকিছু বলবো না বা আমার কিছু অপারগতা আছে। আমার মনে হয় যে এই এলিগেশনের (অভিযোগের) কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে হেনস্তা করা হবে না এই শর্তে তার কাছ থেকে অব্যাহতিপত্র নেওয়া হয়েছিল। তবে চাকরি ছাড়ার পর সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে তাকে। তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বুধবার তার লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরাও অভিযোগ করেছেন, চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকে নানামুখী চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি।
গতকাল বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ি নৌঘাট এলাকা থেকে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
নৌ পুলিশ জানায়, মরদেহের হাতে ঘড়ি ও পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। তার সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কলেজ ও বিএমএ-এর কোর্সমেট কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম তার ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গত পরশু রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাউসিফ নিখোঁজ ছিলেন।’ মরদেহের ছবিতে হাতে কাদা মাখা থাকলেও শরীরের বাকি অংশ পরিষ্কার ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইনতিসার দাবি করেন, এটি যদি দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কোন্দল বলে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত না হয়, তবে তিনি এটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবেই দেখছেন। তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের ভিডিও ফাঁসের পর তাহসিফ নানাভাবে মানহানির শিকার হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক পুলিশি মামলা ছিল না।





