প্রিয় ৫ বই
- মহাভারত— হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ অনূদিত
- হারানো সময়ের সন্ধানে— মার্সেল প্রুস্তের
- ছিন্নপত্রাবলি— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- অ্যাপোলজি— প্লেটো
- দ্য ট্র্যাজিক সেন্স অব লাইফ— মিগ্যেল দ্য উনামুনো

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মহাভারত
এ এক মহাগ্রন্থ যেখানে যখন যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে প্রবেশ করা সম্ভব। একটি সমুদ্র যেন শত গর্জন, অনন্ত বীচিমালা, কোলাহল, হিংসা, কান্না, আর্তি, আর্তনাদকে নিয়ে অবশেষে এক প্রশান্তির বাতাবরণ রচনা করে রেখেছে। এ গ্রন্থের অনেক সংস্করণ আমার কাছে রয়েছে তার মধ্যে হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ অনূদিত ৪৩ খণ্ডের মহাভারতম্ অন্যতম। এটি একটি শাশ্বত গ্রন্থ যাকে কাব্য, ধর্মগ্রন্থ, উপন্যাস, দর্শন, ইতিহাস, ন্যায়শাস্ত্র হিসেবে পাঠ করা যায়। মহাভারত পাঠ করার অর্থ পৃথিবীকে পাঠ করা, সময়কে পাঠ করা। এটি আমার প্রিয় গ্রন্থ, কারণ এটির ব্যাপকত্ব এবং অনন্ত পাঠের সম্ভব। এ গ্রন্থই বলে যে, যা নিজেকে একটু হলেও আক্রান্ত করে, তা অন্যকে দেওয়াই অধর্ম।
হারানো সময়ের সন্ধানে
মার্সেল প্রুস্তের, প্রায় ১৪ লাখেরও বেশি শব্দের, এই উপন্যাসটি, In search of lost Time, আমি বারে বারে পড়ি। যে অনৈচ্ছিক স্মৃতির উদ্ভাসন এ বইয়ে রয়েছে, তার মুগ্ধতা স্পর্শ করে আমাকে। এ গ্রন্থই আমাকে বলে: happyness is salutary for the bodz but sorrow develops the powers of the spirit. সুখ দেহের আনন্দ , দুঃখ সত্তা-সঞ্চারী। এর চেয়ে বড় উক্তি আর কী হয়! এ গ্রন্থই বলে যে, জীবন হলো এক বিভ্রমের ভ্রমণ। স্মরণ আর বিস্মরণের এক দুরন্ত খেলা হলো এই উপন্যাস, যাকে মনে হয় এক আধুনিক মহাকাব্য।
ছিন্নপত্রাবলি
এ বইটিকে মনে হয় নিজ মনের অপরূপতা, যে, ষড়ঋতুর অবভাসে প্রতিনিয়ত রঙ বদলায়। মানুষের নগ্ন মনের উন্মুখ বাসনারা যেন পাড়ি জমাচ্ছে কোনো দূরান্তরে, ঠিক সুইফট পাখির মতো। মানবমনের বুনো রঙের উদ্ভাস এ গ্রন্থেই একাকার হয়ে রয়েছে। মানুষ কী করে প্রকৃতির মাহাত্ম্যের গভীরে অবগাহন করে, করতে পারে, তার এক স্বপ্ন, সুষুপ্তি ও জাগরণের অবচেতনিক উৎসার এ গ্রন্থ। ঠিক প্রথম প্রেমের মর্মরতা ও মলমলতার মতো: স্বচ্ছ, অন্তর্ভেদী ও ইম্পেশনিস্ট ছবির মতো; যা সময় ও স্বরূপকে একাকার করে দেয়, নির্জ্ঞানের জানলাগুলোকে খুলে দেওয়ার মতো করে। এ এক গাছ যার দেহটি প্রতিফলিত হয়ে আছে ঝরে-পড়া পাপড়ির ক্ষণমুহূর্তের দর্পণজালে।
অ্যাপোলজি
প্লেটোর এ বইটি আমার অপরিবর্তিত পছন্দের একটি বই। এই অ্যাপোলজি (আত্মপক্ষ সমর্থন) আমাকে বলে: the unexamined life is not worth living— অপরীক্ষিত জীবনযাপনের উপযুক্ত নয়; জীবন হলো মুখোমুখিতা— প্রশ্নের, দুুঃখের, সংগ্রামের, নিশ্চিহ্নের, আত্মের। এই গ্রন্থ বলে যে, নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করা কোনো দুর্বলতা নয় বরং তা হলো আত্মজ্ঞানের পথকে প্রশস্ত করা; কোনো মতের জনপ্রিয়তা তার সত্যতার প্রমাণক নয়; কোনো কিছুই যুক্তির ঊর্ধ্বে নয়। সক্রেটিসের এই অ্যাপোলজি মানে আত্মপক্ষ সমর্থন যেন আমাদেরই আত্মপক্ষ সমর্থন।
দ্য ট্র্যাজিক সেন্স অব লাইফ
স্প্যানিশ দার্শনিক, কবি ও চিন্তক মিগ্যেল দ্য উনামুনোর এ বইটি গত ২৫ বছর ধরে আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় রয়েছে। মানুষ অমরত্ব চায় কিন্তু তাকে মরতে হয়, সে আসলেই জানে না মৃত্যুর পর অস্তিত্ব থাকবে কি না; এটা তার জীবনের এক ট্র্যাজেডি। মানুষ এক অর্থে মৃত্যুকে সত্য হিসেবে জানে কিন্তু তাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে মানতে চায় না। যুক্তি তাকে এ বিষয়ে আশ্বস্তও করতে পারে না। উনামুনোর মতে, এই দ্বন্দ্বটি ট্র্যাজিক।



