অসহায় মানুষের পাশে তাসলিমা

রাস্তার পাশে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির হাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন তাসলিমা
কারও চিকিৎসার টাকা নেই, কেউ খাবার জোগাড় করতে পারে না, আবার অর্থের অভাবে থেমে যাওয়ার উপক্রম হয় কোনো শিশুর পড়াশোনা। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এমন মানুষের কষ্ট লাঘবে পাশে দাঁড়ান বরগুনার পাথরঘাটার তাসলিমা রহমান। ১৯৮৩ সালে সেলাইয়ের কাজ করে উপার্জিত টাকায় তার এই উদ্যোগের শুরু।
পাথরঘাটা শহরের মোক্তারপট্টি এলাকায় নিজের বাড়িতে থাকেন তাসলিমা রহমান (৬৪)। এক ছেলে ও এক মেয়ের মা তিনি। ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে, মেয়ে বিবাহিত। স্বামী কলেজে শিক্ষকতা করতেন। ২০১০ সালে স্বামীর মৃত্যুর পরও থেমে থাকেনি তার মানবিক কাজ। বর্তমানে ছেলের পাঠানো টাকা ও বাড়িভাড়ার আয় থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করেন।
তাসলিমা রহমানের দাবি, ৪৩ বছরে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষকে চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা দিয়েছেন তিনি। এর বাইরে বিভিন্ন সময়ে দরিদ্র পরিবার, অসচ্ছল শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করেছেন।
হাড়িটানা এলাকার রাশেদা বেগম জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রাশেদা বেগম বলেছেন, ‘অসুস্থতার কথা তাসলিমা আপাকে জানালে তিনি আমার খোঁজখবর নেন। পরে আমাকে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তার সহযোগিতায় চিকিৎসা নিয়ে এখন সুস্থ আছি। বিপদের সময় তিনি যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা কখনো ভুলব না। তার জন্য মন থেকে দোয়া করি।’
নিজলাঠিমারা এলাকার মতিউর রহমানের পরিবারও পেয়েছে তাসলিমার সহযোগিতা। মতিউর তার স্ত্রীর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। মতিউর বললেন, ‘চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা আমাদের জন্য কঠিন ছিল। তাসলিমা আপাকে বিষয়টি জানালে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তার সহায়তায় স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি ও অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হয়। তিনি আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন।’
পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করেন তাসলিমা। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুকের মতে, ‘অনেকেই প্রচারের আড়ালে থেকে নীরবে মানবিক কাজ করে যান। তাসলিমা রহমান তাদেরই একজন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্তরিকতার সঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার এই নিরলস প্রচেষ্টা ও মানবিক উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।’
চার দশকের বেশি সময় ধরে তাসলিমা প্রমাণ করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়াতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সামান্য সহায়তাও অসহায় মানুষের জীবনে নতুন আশা জাগাতে পারে।
তাসলিমা আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘মানুষের কষ্ট দেখলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে পেরেছি। এ ছাড়া মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের খাবার ও অসহায় মানুষের পোশাকের ব্যবস্থা করি।’
তিনি যোগ করেন, ‘মানুষের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। যত দিন সামর্থ্য থাকবে, তত দিন অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই।’



