তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

কোলাজ: আগামীর সময়। মূল ছবি থেকে এআই দিয়ে সম্পাদিত
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে নৌপুলিশ। ওই তরুণী সাউরির বান্ধবী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
আজ রবিবার দুপুর ২টার দিকে বিষয়টি জানিয়েছেন নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেছেন, দিশা নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার রাতে একটি সিসিটিভি ফুটেজে উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করতে দেখা যায় তাহসিফ, দীপ ও দিশাকে।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ, দীপ ও ওই তরুণী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে পৌঁছান দীপ। পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায় ক্যামেরায়।
রেস্টুরেন্টের আরেকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান তারা।
রেস্টুরেন্ট থেকে তারা তিনজন কোথায় গেলেন সেই তথ্য হন্যে হয়ে খুঁজছে তদন্তকারী দল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী জুনিয়র বন্ধু দীপকে প্রথমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ সময় তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাওয়া ও সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন দীপ। তবে তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায় বলে দাবি সূত্রের। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে পিবিআই।
নৌপুলিশের সূত্র জানায়, রিমান্ডে দীপের আগের বক্তব্য, পরিবারের করা মামলার অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তে পাওয়া আলামত মিলিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাহসিফের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
এরপর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে মরদেহ নিতে এসে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম বললেন, ‘তার ছেলে আত্মহত্যা করার মতো মানুষ না। তাহসিফকে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলা হয়েছে।’
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফ সাউরির বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় নৌপুলিশের পাশাপাশি পিবিআইও ছায়া তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।
তবে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ একেক সময় একেক কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। দীপ কখনো বলছেন, ‘আমাকে বাসার সামনে রেখে তাহসিফ বাসায় চলে গেছে, রাত ১২টার দিকে হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তারা আলাদা হয়ে যান।’ পরে আবার বলেছেন, ‘টঙ্গী মাজার বস্তি এলাকা থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।’ এরপর বলেছেন, ‘একদল লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল তাহসিফ।’
পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেছেন, ‘দীপের দেওয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সে বলছে, পুলিশের পোশাক পরা কেউ তাদের ধাওয়া দিয়েছিল। কারা ধাওয়া দিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। অনেক কিছুই সে বলেছে, তবে সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে।’
এ ঘটনায় শুক্রবার তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম মামলা করেন। পরে সন্দিগ্ধ হিসেবে দীপকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে বিমানে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল বিশ্ব জুড়ে আলোচিত। তবে ওই ঘটনার কেবল একটি ভিডিও পাওয়া যায়, যেখানে তাকে একটি হেলিকপ্টারে চড়তে দেখা যাচ্ছিল। ওই হেলিকপ্টারে করে কুর্মিটোলায় যাওয়ার পর সামরিক বাহিনীর একটি বিমানে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাকে।
তখন কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফই সেই ভিডিওটি করেছিলেন। আবার তিনি করেননি, তবে তিনি প্রকাশ করেন, এমন দাবিও করেন কেউ কেউ।
তবে এ বছরের ২১ জুলাই এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তাহসিফ এসবকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।




