Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
অসহায় মানুষের পাশে তাসলিমা
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় ঢালিউড

চলচ্চিত্রশিল্পের সংকট

অনুদান বন্ধ নয়, প্রয়োজন সংস্কার, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নীতিমালা

অন্ত আজাদ
agamir somoy
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:২৯
শেয়ার করুন:
অনুদান বন্ধ নয়, প্রয়োজন সংস্কার, সৃজনশীলতা ও দূরদর্শী নীতিমালা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা ও মান, দুর্বল চিত্রনাট্য, বিনিয়োগের ঝুঁকি, দর্শকসংকট, বিপণন ও পরিবেশনার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে ‘আমাদের চলচ্চিত্রে সংকট, করণীয় ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় চলচ্চিত্রশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও উত্তরণের পথ নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে।

তবে চলচ্চিত্রশিল্পের সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে হবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বিশেষ করে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের অভিজ্ঞতা, নির্মাণচর্চা ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সামগ্রিক চিত্র বুঝতে সহায়তা করতে পারে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্প কেবল বাণিজ্যিক সিনেমায় সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীন চলচ্চিত্র, বিকল্পধারার নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সিনেমাও এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির কাছে প্রত্যাশা, সংগঠনটি যেন সব ধারার নির্মাতাদের প্রতিনিধিত্ব করে।

অনুদান বন্ধ নয়, প্রয়োজন কার্যকর সংস্কার

চলচ্চিত্রশিল্পের বর্তমান সংকটের আলোচনায় সরকারি অনুদান বন্ধের প্রস্তাবও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সিনেমা নির্মাণ করেও প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সাফল্য না পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ব্যর্থতার দায় সরকারি অনুদানের ওপর চাপিয়ে দিলে কি মূল সমস্যার সমাধান হবে?

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রচর্চায় সরকারি অনুদান ও ফিল্ম ফান্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পাওয়া কঠিন হলেও শৈল্পিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্ভাবনাসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণে সহায়তা করা। পাশাপাশি নতুন নির্মাতাদের কাজের সুযোগ তৈরি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ফলে অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধু বক্স অফিসের আয় দিয়ে বিচার করা যায় না। নির্মাণমান, নতুন প্রতিভার বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে সরকারি অনুদান ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন রয়েছে। চলচ্চিত্র নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অর্থের যথাযথ ব্যবহার, নির্মাণের মান এবং জবাবদিহি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান অনুদান বন্ধ করা নয়, বরং নির্বাচন, তদারকি ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়ায় কার্যকর সংস্কার আনা।

এ ক্ষেত্রে চিত্রনাট্য, পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি, বাজেট ও নির্মাণ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে মেধাভিত্তিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ও স্বতন্ত্র চলচ্চিত্রভাষার নির্মাতাদের সুযোগ দিতে হবে। অনুদানের অর্থ ব্যবহারে পর্যায়ভিত্তিক তদারকি এবং মূল্যায়নের মানদণ্ড প্রকাশ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিত্রনাট্য, ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন ও প্রযোজনাগত প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য বহুধাপের পিচিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।

এখানে বয়সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি, সময়কে বোঝার ক্ষমতা এবং কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার। একজন প্রবীণ নির্মাতাও সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারেন, আবার একজন তরুণ নির্মাতাও চিন্তায় পুরোনো হতে পারেন। তাই সরকারি চলচ্চিত্র অনুদানের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যোগ্য, প্রতিশ্রুতিশীল ও তুলনামূলকভাবে তরুণ নির্মাতাদের প্রকল্পে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এটি বয়সের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত না হয়ে প্রকল্পের মান ও নতুন প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্য বিবেচনায় নির্ধারিত হওয়া উচিত।

যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে বছরে মাত্র ১২টি মানসম্পন্ন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও সেগুলো দেশীয় প্রেক্ষাগৃহে ভালো সিনেমার চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও বাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি বিপণন ও পরিবেশনার পরিকল্পনাও জরুরি।

কমার্শিয়াল সিনেমার সাফল্য শুধু আয়ের অঙ্কে নয়

বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত হলেই একটি সিনেমা ব্যবসায়িকভাবে সফল হবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। সিনেমার ব্যবসায়িক সাফল্য নির্ভর করে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রকৃত আয়, দর্শকপ্রাপ্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশনার সম্ভাবনার ওপর।

ধরা যাক, একটি তারকানির্ভর সিনেমায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় করে প্রযোজকের কাছে ফিরল ৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তারকাবিহীন একটি সিনেমায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করে ফিরল ১ কোটি টাকা। প্রথম সিনেমাটি বড় অঙ্কের আয় করেও লোকসানে থাকতে পারে, অথচ দ্বিতীয়টি তুলনামূলক কম আয় করেও লাভজনক হতে পারে।

এটি একটি কাল্পনিক হিসাব। প্রকৃত লাভ-লোকসান নির্ধারণে মোট নির্মাণ ব্যয়, বিপণন খরচ, কর, পরিবেশক ও প্রেক্ষাগৃহের অংশ এবং প্রযোজকের প্রকৃত প্রাপ্তি বিবেচনা করতে হয়। পাশাপাশি ওটিটি, টেলিভিশন ও আন্তর্জাতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিল্পমানসম্পন্ন সিনেমা বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে পারে, আবার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মিত সিনেমাও ব্যর্থ হতে পারে। তাই শিল্পমান ও বাণিজ্যিক সাফল্যকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে না দেখে পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তারকা নয়, শক্তিশালী চলচ্চিত্রই দর্শক ধরে রাখবে

তারকার জনপ্রিয়তা দর্শক টানা, বিপণন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে একজন তারকা দুর্বল গল্প, অপরিণত চিত্রনাট্য কিংবা দুর্বল পরিচালনার বিকল্প হতে পারেন না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের কিছু বড় বাজেটের ও তারকানির্ভর সিনেমায় দৃশ্যগত জৌলুশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও গল্প, চরিত্র নির্মাণ ও চিত্রনাট্যের গভীরতা প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নত হয়নি। কিছু সিনেমায় ভালো গল্পের সম্ভাবনা থাকলেও নির্মাণের ধরন সেই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। অবশ্য বিষয়টি সব তারকানির্ভর সিনেমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এখানে প্রশ্ন হলো, দৃশ্যগত আয়োজনের পাশাপাশি গল্প বলার দক্ষতা, চিত্রনাট্য উন্নয়ন এবং আধুনিক চলচ্চিত্রভাষার চর্চায় আমরা যথেষ্ট বিনিয়োগ করছি কি না। একটি ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে চিত্রনাট্য, পরিচালনা, অভিনয়, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, শব্দ, সংগীত, প্রযোজনা ব্যবস্থাপনা ও বিপণনের সমন্বয় প্রয়োজন। শুধু তারকার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদে চলচ্চিত্রশিল্পকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়।

প্রেক্ষাগৃহ উন্নয়নে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা

ভালো সিনেমা নির্মাণ করেও যদি পর্যাপ্ত ও আধুনিক প্রদর্শনব্যবস্থা না থাকে, তাহলে তার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়ে। তবে শুধু অর্থ বরাদ্দ করলেই প্রেক্ষাগৃহ টেকসই হবে না। প্রয়োজন উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, আধুনিক প্রযুক্তি, দর্শকের চাহিদা বোঝা, কার্যকর শো-সূচি, বিপণন এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা।

স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেশীয় প্রেক্ষাগৃহগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা মডেল তৈরি করা যেতে পারে।

প্রেক্ষাগৃহ উন্নয়নে আলোচিত এক হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ বা ঋণসুবিধার প্রকৃত অবস্থা, অর্থ বিতরণ ও ব্যবহারের বিষয়ে সরকারি নথিভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। কোন প্রকল্পে কত অর্থ দেওয়া হয়েছে, অর্থের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং বাস্তবে কতগুলো প্রেক্ষাগৃহ চালু হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার

চলচ্চিত্রশিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিতে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

প্রথমত, প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ ও সংস্কারে স্বল্পসুদে ঋণ এবং সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরবর্তী সময়ে অর্থের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ জরুরি।

দ্বিতীয়ত, ঈদে বিকল্প প্রদর্শনব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উপযুক্ত মিলনায়তনে অনুমতি, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত দুই সপ্তাহ সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। টিকিটের দাম সাশ্রয়ী রেখে আয় বণ্টনের স্বচ্ছ কাঠামো তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন ভবনে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সিনেপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে।

তৃতীয়ত, যৌথ প্রযোজনায় নিজেদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে- চুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে চুক্তি, মেধাস্বত্ব এবং আয় বণ্টনের বিষয়গুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, হলিউডের বাইরেও বিভিন্ন দেশের মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র আমদানির সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। উপযুক্ত কর ও লাইসেন্সিং কাঠামোর পাশাপাশি বিদেশি চলচ্চিত্র থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের একটি অংশ দেশীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন তহবিলে দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে।

পঞ্চমত, প্রেক্ষাগৃহে সেন্ট্রাল সার্ভার ও ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। এতে টিকিট বিক্রি, দর্শকসংখ্যা, প্রেক্ষাগৃহের আয় এবং প্রযোজকের প্রাপ্য অর্থের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট ও কর নিরূপণ সহজ হবে।

ষষ্ঠত, বিদেশে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিবেশক, বিক্রয় প্রতিনিধি, সাবটাইটেল, ডাবিং ও বিপণনে সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। শুধু প্রবাসী দর্শকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করতে হবে।

সপ্তমত, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত সিনেমার নির্মাতা ও টিমের ভ্রমণ, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং দেশের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

অষ্টমত, সরকারি চলচ্চিত্র অনুদানের বড় অংশ যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল নতুন নির্মাতাদের প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে নির্বাচন হতে হবে প্রকল্পের মান, সৃজনশীলতা ও নির্মাণসক্ষমতার ভিত্তিতে।

নবমত, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আধুনিক ক্যামেরা, লেন্স, লোকেশন সাউন্ড, লাইটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশন সরঞ্জামের সুবিধা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং সাশ্রয়ী ভাড়ায় এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দশমত, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়মিত ও স্বচ্ছ করতে হবে। মূল্যায়নের মানদণ্ড স্পষ্ট করা, বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল ও পুরস্কার প্রদান করা জরুরি।

সমন্বিত সংস্কারেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে চলচ্চিত্রশিল্প


বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের সংকটকে শুধু সরকারি অনুদান, প্রেক্ষাগৃহ কিংবা তারকার জনপ্রিয়তার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুর্বল চিত্রনাট্য, বিনিয়োগের ঝুঁকি, পেশাদার ব্যবস্থাপনার অভাব, বিপণনের সীমাবদ্ধতা এবং দর্শকের পরিবর্তিত রুচি ও প্রত্যাশা।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভালো সিনেমার প্রচার, দায়িত্বশীল সমালোচনা এবং চলচ্চিত্রসংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে গণমাধ্যম দর্শক তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনবে সিনেমার মান ও দর্শকের সঙ্গে তার সংযোগ।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলা, যেখানে বাণিজ্যিক সিনেমা দর্শককে বিনোদন দেবে, স্বাধীন চলচ্চিত্র নতুন চিন্তা ও ভাষার বিকাশ ঘটাবে, তরুণ নির্মাতারা কাজের সুযোগ পাবেন এবং বাংলাদেশের সিনেমা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।

সরকারি অনুদান বন্ধ করে নয়, অনুদানব্যবস্থাকে কার্যকর করে; তারকার ওপর নির্ভর করে নয়, পুরো চলচ্চিত্রের মান উন্নত করে; বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে নয়, সমন্বিত সংস্কার ও দূরদর্শী নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে।

অন্ত আজাদচলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিঅনুদানকমার্শিয়াল সিনেমা
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    রাজবাড়ীতে দুই প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

    রাজবাড়ীতে দুই প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল

    আইন সংশোধনে ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ নিতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

    আইন সংশোধনে ‘একচ্ছত্র ক্ষমতা’ নিতে চায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

    কোয়ার্টারের মাঠও অনিরাপদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাড়ির চাপায় প্রাণ যায় জায়েদের

    কোয়ার্টারের মাঠও অনিরাপদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গাড়ির চাপায় প্রাণ যায় জায়েদের

    ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু, আহত স্বামী

    ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু, আহত স্বামী

    কালীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার দুই মরদেহ

    কালীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে উদ্ধার দুই মরদেহ

    সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ পাবেন এইচএসসি ফেল শিক্ষার্থীরা

    সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার সুযোগ পাবেন এইচএসসি ফেল শিক্ষার্থীরা

    শিশুকে বলাৎকারচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার

    শিশুকে বলাৎকারচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার

    দুই ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে

    দুই ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে

    বাগাতিপাড়ায় তিন কলেজে এইচএসসিতে পাস করেনি কেউ

    বাগাতিপাড়ায় তিন কলেজে এইচএসসিতে পাস করেনি কেউ

    তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

    তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

    এসএইচসি ও সমমানে পাস ৫২.১২%, প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল

    এসএইচসি ও সমমানে পাস ৫২.১২%, প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল

    বিএনপির প্রচারসামগ্রীর ‘আকাশযাত্রা’, আসামের ধানক্ষেতে ‘রাজনৈতিক অবতরণ’

    বিএনপির প্রচারসামগ্রীর ‘আকাশযাত্রা’, আসামের ধানক্ষেতে ‘রাজনৈতিক অবতরণ’

    উত্তরের চিতাবাঘেরা ফিরতে চায়

    উত্তরের চিতাবাঘেরা ফিরতে চায়

    কেন আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়লেন রাশেদ খাঁন, অন্যরা কে কী বলছেন

    কেন আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়লেন রাশেদ খাঁন, অন্যরা কে কী বলছেন

    বদলে যাচ্ছে  জিয়া উদ্যান

    বদলে যাচ্ছে জিয়া উদ্যান