লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত মিজান, দুই মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
ছয় বছর আগে লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে ছোট ছেলেকে হারিয়েছেন বাবা নাসির উদ্দিন মীর। সেই ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চিত অর্থসহ সবকিছু হারিয়েছিলেন তিনি। এবার একই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তার বড় ছেলে মিজানুর রহমান মীর (৩৮)।
লিভার সিরোসিসের পাশাপাশি তার লিভারে ক্যানসার ধরা পড়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাকে বাঁচাতে লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প নেই। এ জন্য প্রয়োজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।
বর্তমানে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন মিজানুর রহমান। কিন্তু আর্থিকভাবে নিঃস্ব পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার ও দুই শিশুকন্যা আবিদা (৮) এবং আতকিয়ার (২) ভবিষ্যৎ।
একদিকে স্বামীর জীবন বাঁচানোর আকুতি, অন্যদিকে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে দিশেহারা মারিয়া আক্তার। পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, অর্থের অভাবে এবারও কি সন্তান হারানোর শোক বয়ে বেড়াতে হবে নাসির উদ্দিন মীরকে?
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারে মারা যান মিজানুর রহমানের ছোট ভাই হাসান মীর। ছোট ছেলের চিকিৎসার পেছনে পরিবারের সঞ্চিত অর্থসহ সবকিছু ব্যয় করেছিলেন বাবা নাসির উদ্দিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার বড় ছেলের একই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে পরিবারে।
চলতি বছরের ২২ এপ্রিল খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মিজানুর রহমানের লিভার ক্যানসার শনাক্ত হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পিজি হাসপাতালের লিভার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।
পরিবার জানায়, মিজানুর রহমান আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান র্যাংগস ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। মাসে ২৭ হাজার টাকা বেতনে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে চলত তাঁর সংসার। কিন্তু অসুস্থতার কারণে চাকরি হারিয়েছেন তিনি। বন্ধ হয়ে গেছে পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ। এর মধ্যে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি।
অসুস্থ মিজানুর রহমানের বাঁচার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। বাবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে তার ছোট দুই মেয়ে। বিশেষ করে আট বছর বয়সী আবিদাও বাবাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে চায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা।
এ অবস্থায় মিজানুর রহমানের চিকিৎসার জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসীদের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছে পরিবার। তাদের আশা, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন মিজানুর রহমান। তার চিকিৎসায় সহায়তার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাংক হিসাব ও বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
Md. Mizanur Rahman
Dutch-Bangla Bank Limited
Bagerhat branch
A/C No-2791580029295
বিকাশ: ০১৯৪৭৫২১৭৫২




