এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর, পাঁচ খাতে সংস্কার আনতে চায় সরকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এলডিসি (স্বল্পোন্নত) উত্তোরণে সময় পাওয়া গেছে তিন বছর। এই সময়কে কাজে লাগাতে চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে সংস্কারের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে পাঁচ খাতে। ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, শিল্প ও উৎপাদনে জ্বালানি নিরাপত্তা তৈরি এবং বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন পণ্যের তালিকা প্রস্তুত। এছাড়া বাণিজ্যের পরিধি বাড়াতে নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বাণিজ্য সুবিধা হ্রাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদন।
আজ রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
কয়েকটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা। ‘অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি)।’
‘আইএমএফের চলমান কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে’-যোগ করেন তিতুমীর।
এলডিসি উত্তরণে ৩ বছরের বাড়তি সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সমন্বয়ের তাগিদ
০১ নভেম্বর ২০২৬
উপদেষ্টা রাশেদ জানালেন, প্রস্তুতির জন্য বাড়তি তিন বছরকে শুধু সময় বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। বরং এ সময়কে অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে কাজে লাগাতে চায়।
প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যাও দিলেন এই উপদেষ্টা। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এগুলো হলো— উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দুর্বল অর্থনীতির কারণে অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুরতা, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট বাহ্যিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে সরকার শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণের পক্ষে।
সংস্কারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে বিনিয়োগের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সরকারের। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, বিনিয়োগের নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং কাজ করা হবে রপ্তানিপণ্যের তালিকা সম্প্রসারণেও।
এলডিসি উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্যিক সুবিধা কমে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগও নেওয়া হবে-যোগ করেন তিনি।
‘থ্রি আর’কৌশল উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, বেসরকারি খাতের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা বা কম্প্যাক্ট গড়ে তুলতে পারলে এসব লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। এলডিসি উত্তরণ নিয়ে প্রতিটি আলোচনায় বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত পরিকল্পনা সরকারের ‘থ্রি আর’কৌশলেরও অংশ।
সরকারের এ উদ্যোগে পাঁচ পক্ষকে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। এগুলো হলো—বাংলাদেশের জনগণ, বেসরকারি খাত, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা। তার মতে, এ ধরনের সর্বসম্মত অংশীদারত্ব আগে দেখা যায়নি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে এসব সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা এ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অতীতে কোনো সংস্কার কার্যক্রমে দেশের মানুষকে এভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। পাঁচ পক্ষের অংশগ্রহণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি।
টেকসই শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তাকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিতুমীর। এ লক্ষ্যে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণের রয়েছে পরিকল্পনা।
এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে ভাসমান টার্মিনালের পাশাপাশি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার অপচয় ও সিস্টেম লস কমানো এবং এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপদেষ্টার মতে, মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায়ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন দেশের বাজারে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করলেন তিনি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।






