ইপিএসে সবাইকে ছাড়িয়ে পূবালী ব্যাংক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সবচেয়ে বেশি শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) করেছে পূবালী ব্যাংক। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটি শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা ১৫ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫ টাকা ৮৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ।
এ বিষয়ে পূবালী ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ লিটন মিয়া আগামীর সময়কে বললেন, ‘পূবালী ব্যাংকের প্রতি আস্থার কারণে মানুষের ডিপোজিট বৃদ্ধির হার অনেক বেড়েছে। এরই মধ্যে গ্রাহকদের ডিপোজিট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায় উঠে এসেছে। আমরা এই ডিপোজিটের সঠিক ব্যবহার করেছি। এতে মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যে কারণে ইপিএসে প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠে এসেছে।’
ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত সমন্বিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইপিএসের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ২৯ পয়সা। এ হিসাবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।
এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ১৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ২ টাকা ৫২ পয়সার তুলনায় ১৪৪ শতাংশ বেশি। প্রাইম ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৬২ পয়সা, যা আগের বছরের ৫ টাকা ১৬ পয়সার তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। যমুনা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, যা আগের বছরের ৪ টাকা ৪৪ পয়সার তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, ইপিএসের প্রবৃদ্ধির হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৫৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০ পয়সা। এ হিসাবে ব্যাংকটির ইপিএস বেড়েছে ৪৮০ শতাংশ। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ইপিএস বেড়েছে ১৬২ শতাংশ। ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩৪ পয়সা।
এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস ১৪৪, এনআরবি ব্যাংকের ১০৭, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৮১ এবং পূবালী ব্যাংকের ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির হার বেশি হলেও এসব ব্যাংকের ইপিএসের পরিমাণে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে, কয়েকটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফায় অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২০ টাকা ৪১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ৬২ পয়সা। ন্যাশনাল ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৩৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ৫০ পয়সা।



