১২ লাখ চারা বিতরণ প্রকৌশলী টুটুলের

হাতে হাতে ফলদ গাছ; তা নিয়ে বাড়ির দিকে ছুটছে একদল শিক্ষার্থী। গাছের সঙ্গে তারা জেনে নিয়েছে গাছ লাগানোর উপকারিতাও। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের তাৎপর্য তুলে ধরে ৩১ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন একজন প্রকৌশলী। গাছের চারা বিতরণ ও লাগানোই যার নেশা। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়— যেখানে পারেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন গাছ।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল ৩১ বছর ধরে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন। এজন্য টাকার সংস্থান করতে চাকরির পাশাপাশি তিনি বাড়ির নকশা তৈরির কাজ করেন। ৩১ বছরে প্রায় ১২ লাখ গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করেছেন। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক গাছ নিজে লাগিয়েছেন আর বেশিরভাগই বিতরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি কুষ্টিয়া সদরের ১ নম্বর হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনি গাছ বিতরণ করেন। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা খন্দকার আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, আলিমুজ্জামান টুটুল পাঁচ-ছয় বছর ধরে নিয়মিত স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ বিতরণ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার ফলদ ও ঔষধি গাছ দিয়েছেন। গাছ পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে আসার আগ্রহ বেড়েছে। তিনি যোগ করেন, টুটুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্বও তুলে ধরেন। শুধু এই স্কুলে নয়, আশপাশের অনেক স্কুলে তিনি গাছ বিতরণ ও রোপণ করেছেন।
প্রকৌশলী টুটুল বলছিলেন, “১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র থাকাকালে একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত ‘আমাদের দেশটা মরুভূমিতে পরিণত হতে যাচ্ছে’ শিরোনামের একটি লেখা পড়ি। এরপর থেকে বৃক্ষরোপণের প্রতি আমার ঝোঁক তৈরি হয়। পড়ালেখা শেষে ১৯৯৫ সালে চাকরিতে ঢুকেই আমি বেতনের ১০ শতাংশ রেখে দিতাম গাছ বিতরণের জন্য। এরপর চাকরির টাকার পাশাপাশি বাড়ির নকশা তৈরির কাজ শুরু করি। লক্ষ্য একটাই, গাছ বিতরণের জন্য বেশি অর্থ উপার্জন করা। এভাবে ৩১ বছর ধরে আমি গাছ বিতরণ করে যাচ্ছি। এ পর্যন্ত আনুমানিক ১২ লাখ গাছ বিতরণ করেছি।”



