তাহসিফ হত্যা মামলা
তদন্তে ‘দিশা দেখাচ্ছেন’ দিশা

কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশা। গত ৪ নভেম্বর ঢাকার আদালতে। ছবি: আগামীর সময়
সেই রাতে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে কে এম তাহসিফ সাউরির সঙ্গে ছিলেন জেরিকা তাসনিম দিশা। হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই দফা নেওয়া হয়েছিল রিমান্ডে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
সেই সব তথ্য যাচাইয়ে সময় লাগবে বলে এই তরুণীকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করেন আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে দিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ। দিশার পক্ষে জামিনের আবেদনও ছিল না।
গত ১ নভেম্বর গ্রেপ্তারের পর ১৯ বছর বয়সী দিশাকে প্রথম দফায় চার দিন এবং দ্বিতীয় দফায় তিন দিন রিমান্ডের পর আজ শুক্রবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। বিচারকের আদেশের পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পালানোর ভিডিও নিয়ে আলোচনায় আসা তাহসিফের মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার উত্তর খান এলাকায় তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার আগের দিন সন্ধ্যায় উত্তরার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মধ্যরাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
গত ৩০ অক্টোবর তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হত্যা মামলা করার পর পুলিশ তদন্তে নেমে বিভিন্ন সিসি ক্যামেরাার ভিডিও সংগ্রহ করে। তাতে দেখা যায়, সন্ধ্যায় বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন তাহসিফ। উত্তরার একটি বারে তাদের সঙ্গে দিশাকেও দেখা গিয়েছিল।
বলা হচ্ছে, দিশাও ছিলেন তাহসিফের বন্ধু। সেই রাতের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দিশাকে রিকশায় তুলে দিয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর আরেক ভিডিওতে তাহসিফ ও দীপকে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যেতে দেখা গিয়েছিল।
মামলায় তাহসিফের বাবা আসামির তালিকায় কারও নাম না লিখলেও এরপর পুলিশ গ্রেপ্তার করে দীপ ও দিশাকে। এরপর দুজনকেই আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
গত ৩০ অক্টোবর গ্রেপ্তার দীপকে তৃতীয় দফায়
রিমান্ডে নিলেও দিশাকে দুই দফা রিমান্ড শেষে নতুন করে রিমান্ডে চাননি তদন্ত
কর্মকর্তা।
কারাগারে রাখার আবেদনে তিনি বলেছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দিশা ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে ঘোরাঘুরির কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, তাহসিফের ওই রাতে উত্তরা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে তিনি গিয়েছিলেন দিশা। তার আগে সন্ধ্যায় সিপি ফাইভ স্টারেও খেয়েছিলেন। তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেল গ্যারেজেও গিয়েছিলেন তিনি। দুজনের একাধিকবার কথপোকথনের তথ্যও পাওয়া গেছে তাহসিফের মোবাইল কল লিস্ট দেখে।
আবেদনে বলা হয়, ‘আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
রিমান্ডে থাকা দীপের বক্তব্যের সঙ্গেও দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
দিশার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেছেন, ‘আসামি অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় একাধিক প্রশ্নের জবাব কৌশলে এড়াইয়া যায় এবং নীরবতা পালন করেন।’
দীপও রিমান্ডে ওই রাতে তাহসিফের সঙ্গে থাকার কথা স্বীকার করে নানা তথ্য দিয়েছেন। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভিডিও ঘিরে আলোচনায় আসা তাহসিফ (২৭) ওই মাসেই বিমানবাহিনীর চাকরি হারান। শেখ হাসিনার পালানোর ওই ভিডিওর কারণে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বলে তাহসিফ মনে করলেও এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন তিনি।
পরে তিনি কিছুদিন নেত্র নিউজ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে কাজ করেন। সর্বশেষ ভার্গ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।





