তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে ৫ কারণে বন্ধু দীপ তৃতীয় দফায় রিমান্ডে

আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরখান থানায় করা হত্যা মামলায় ব্যবসায়িক অংশীদার ও বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের পাঁচ কারণে তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন পাঁচ কারণ উল্লেখ করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
এসব কারণে বলা হয়েছে, কেন এবং কি কারণে ওই মামলার ভিকটিমকে হত্যা করা হয়েছে (যেমন: পূর্ব শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, নাকি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোন্দল) তা নিশ্চিত হওয়া; মামলার হত্যার ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা; মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা, এই হত্যার পেছনে অন্য কোনো মাস্টারমাইন্ড (মূল পরিকল্পনাকারী), ভাড়াটে খুনি বা সাহায্যকারী জড়িত আছে কিনা এবং তাদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করা; ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী বা সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের সাথে আসামির জবানবন্দি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা; অপরাধের ধরণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।
পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এসময় মাথায় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া ছিল। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত ৩১ অক্টোবর প্রথম দফায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া গত ১ নভেম্বর এই মামলায় আরেক আসামি জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিন ও গত ৪ নভেম্বর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর তাহসিফ সাউরি আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার পরতার জুনিয়র দীপের ডাকে বাসা থেকে বাইরে যায়। রাত বেশি হলেও তিনি ফিরে না আসায় তার মা বারবার ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরবেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তার ফোন থেকে মায়ের ফোনে ভয়েজ মেসেজ পাঠানো হয়, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি’।
কিন্তু রাত পেরিয়ে পরের দিন বিকাল হলেও তিনি ফিরে আসেনি। গত ২৮ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটে উত্তরখান থেকে নৌ পুলিশ ফোনের মাধ্যমে তাহসিফের বাবাকে জানায়, রাজারবাড়ি ঘাট উত্তরখান এলাকাতে তুরাগ নদ থেকে তার সন্তানের মরদের উদ্ধার হয়েছে। এরপর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর নৌপুলিশ পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন। গত ২৯ অক্টোবর বিকালে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়।




