রপ্তানিতে নগদ সহায়তা আরও ছয় মাস একই থাকছে

রপ্তানিতে নগদ সহায়তা একই থাকছে আরও ছয় মাস। ছবি: সংগৃহীত
দেশের অভ্যন্তরে ৪৩ রপ্তানি খাতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) জন্য আগের মতোই বহাল রেখেছে সরকার। বিদ্যমান নিয়মে জাহাজীকরণ করা পণ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানি প্রণোদনা এবং নগদ সহায়তার হার পণ্যভেদে দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ প্রদান করা হবে। এ নিয়ে গতকাল রবিবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নগদ সহায়তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত। দেশি সুতা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রপ্তানি করলে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৯ শতাংশ নগদ প্রণোদনা মিলবে।
দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রণোদনা ১০ শতাংশ এবং ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদারে ৬ শতাংশ প্রণোদনা মিলবে। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ মিলবে।
বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল থাকবে। এ ছাড়া পাটজাত পণ্যে ৫ শতাংশ এবং পাট সুতায় প্রণোদনা মিলবে ৩ শতাংশ। একইভাবে হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ, ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ, বাইসাইকেল রপ্তানিতে ৩ শতাংশ এবং আসবাব পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তা থাকবে ৮ শতাংশ। হিমায়িত চিংড়ি, মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ, প্লাস্টিক পণ্য, হাতে তৈরি পণ্য যেমন হোগলা, খড়, আখ বা নারিকেলের ছোবড়া, তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট, গরু, মহিষের নাড়ি, ভুঁড়ি, শিং ও রগ, কাঁকড়া, কুঁচে, আগর, আঁতর ইত্যাদি পণ্য রপ্তানিতেও নগদ সহায়তা আগের মতো থাকবে।
এদিকে অপর এক প্রজ্ঞাপনেও বলা হয়, প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল শর্ত, যোগ্যতা মানদণ্ড এবং কার্যপ্রণালী অপরিবর্তিত থাকবে। অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকসমূহকে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে আবেদনসমূহ নিষ্পত্তি এবং প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা বিতরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা/রপ্তানি ভর্তুকির আবেদনপত্র বাংলাদেশ ব্যাংক, ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১-এর অনাপত্তি সাপেক্ষে ব্যাংকের হিসাব নিরীক্ষায় নিয়োজিত সমসংখ্যক নিরীক্ষা ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করানো যাবে। নিয়োজিত ফার্ম অপেক্ষা অতিরিক্ত নিরীক্ষা ফার্ম প্রয়োজন হলে নিরীক্ষা ফার্ম নিয়োগের যৌক্তিকতা, সংশ্লিষ্ট ফার্ম কর্তৃক বিগত সময়ে ব্যাংকটিতে নিয়োজিত থাকার তথ্য, নগদ সহায়তা/রপ্তানি ভর্তুকির কেসের সংখ্যা এবং প্রয়োজনীয় তথ্যসহ নিরীক্ষা ফার্মের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক অনুমোদন গ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন দাখিল করতে হবে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪ সালে দুই দফায় রপ্তানি প্রণোদনা কমায়। তখন বলা হয়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধিবিধান অনুসারে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কোনো ধরনের রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা দেওয়া যায় না।




